somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফিরে আসা১

০২ রা মার্চ, ২০১১ সকাল ১০:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিঃ দ্রঃ ছোট্ট বাবুরা এখানে আসা দরকার নেই। আমার জীবনের প্রথম গল্প।

---



........




.........


‘আমি ফিরে এসেছি, আমাকে টেনে নাও তোমার বুকে।’ আমাকে দেখেই সে বললো।
কথাগুলো শোনে আমি রাগে ফেটে যাচ্ছিলাম। নিজেকে সামলে নিয়ে কোন রকম ভূমিকা না করেই বললাম,‘আবার কোন মতলবে এসেছো তুমি এতো বছর পর?’
আমার কথাগুলো সে আমলে না নিয়ে হাসি হাসি মুখ করে বললো,‘কি বলছো এসব? আমি না তোমার শুভাকাঙ্খী। আর একজন শুভাকাঙ্খী কি তার প্রিয়জনের খবর নিতে পারে না?’
আমি আগের মতোই কঠিনস্বরে জবাব দিলাম,‘ না, পারে না।’
সে ভাব জমানো চেষ্টা করলো আমার সাথে। ‘ কি হয়েছে তোমার? তুমি এরকম কঠিন করে কথা বলছো কেন? তুমি তো এরকম ছিলে না এর আগে।’
‘আমি কি রকম ছিলাম? এর জবাব শুনতে চাই না তোমার কাছ থেকে।’
‘কিন্তু একসময় তো ঠিকই চাইতে?’
‘হ্যা চাই না। কিন্তু এখন চাই না।’
আমার কথায় চুপ হয়ে গেলো সে একদম। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর সে এবার তার প্রধান হাতিয়ারটা ব্যবহার করলো এবার। এ হাতিয়ারের কাছে সব পুরুষই নাকি হার মানে- এমন একটা কথা প্রচলিত আছে।
মেয়েদের প্রধান হাতিয়ার নাকি তাদের কান্না। সে কান্নাভরা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,‘ একসময় তো আমি ঠিকই আপন ছিলাম তোমার। তখন তো তুমি আমার সাথে কথা না বলে থাকতে পারতে না।’
সে ভেবেছে তার এসব কথা শুনলে আমি হয়তো তাকে বুকে টেনে নেবো সব ভুলে। কিন্তু আমি কি করে ভুলে যাবো তার দেয়া আঘাতগুলো? তাই তার কথায় কর্ণপাত না করে বললাম,‘ এখন এসব শুনিয়ে কোন লাভ নেই। কারণ, অন্যের ব্যবহার করা ব্রাশের মতোই তুমি এখন আমার কাছে। আর জানোই তো কোন বোকাও অন্যের ব্যবহার করা ব্রাশ ভুলেও ব্যবহার করে না।’
আমার জবাবটা বোধহয় সহ্য হলো না তার। সে কাদতে কাদতে বলেই ফেললো,‘ তুমি বলতে পারলে এতবড় কথাটা।’
‘হ্যা’, শান্তভাবেই বললাম,‘ তুমিই তো আমাকে শিখিয়েছো এগুলো? শুনতে খারাপ লাগছে, তাই না?’
‘তো লাগবে না, এরকম করে বললে।’
‘আমারও লেগেছিল তখন, যখন তুমি এরকম করে আঘাত করেছিলে আমাকে। আচ্ছা, আজ তুমি একটা প্রশ্নের সত্যি করে জবাব দেবে?’ বলেই আমি পুরনো অ্যালবাম বের করে এনে তার প্রেমিকের ছবি দেখিয়ে বললাম,‘তুমি আমাদের দুজনের মধ্যে কাকে ভালবাসতে?’
ও একবার ছবির দিকে, আর একবার আমার দিকে তাকিয়ে দেখলো, তারপর চোখ নীচে নামিয়ে খুব ধীরে বললো,‘তোমাকে।’
‘যদি সত্যি আমাকে ভালবাসতে, তাহলে বিয়ে করলে না কেন?’
‘আসলে ও আমাকে ওর ভালবাসার ঝালে এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছিল যে, শত চেষ্টা করেও বের হতে পারি নি তখন।’
‘তো এখন কেন এসেছো?’

‘বিয়ের পর বুঝতে পারলাম ওর আসল চরিত্র। ওর জীবনে আমিই প্রথম নারী নই। রোজ রোজ নিত্য নতুন মেয়ে আসতো আমাদের বেডরুমে। কিছু বললেই ও খুব মারধর করতো আমাকে। ওর বাবা মাও সহ্য করতে পারতো না আমাকে। তাদের ধারণা, আমিই নাকি তাদের ছেলের জীবনটা এলোমেলো করে দিয়েছি।
একসময় ওর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বলেই ফেললাম,‘ আমি তোমাকে বিয়ে না করে ওকে বিয়ে করলে, অনেক বেশী সুখী হতাম।’
আমার কথা শোনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো আমার স্বামী নামক পশুটা,‘তোকে কে মানা করেছিল .......নকী। তোর মন চাইলে, তুই গেলি না কেন তোর .....তারের সাথে।’
আমিও কম নয়, আমিও বলে দিলাম আমার স্বামী নামক পশুকে,‘আমি তো যেতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু তুই তো যেতে দিলি না ....য়োরের ...........য়োর। ...........দেয়ার সময় মনে ছিল না কুত্তা।’
‘চুপ .....গী, একদম চুপ। আর কোন কথা বলবি না। বেশী কথা বলবি তো একদম শেষ.......’বলেই সে হাসতে লাগলো দাত বের করে।
‘আমাকে দাত দেখিয়ে কোন লাভ নেই। আমি তোকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো।’ আমি রেগেমেগে বললাম।
‘তুই আমার ......লটাও ছিড়তে পারবি না।’
‘তুই দেখ শুধু আমি কি করতে পারি?’ বলেই আমি পা বাড়ালাম ঘর থেকে বের হতে।
‘কই যাচ্ছো? যাবার আগে এটা দেখে যাও।’ ও ওর মোবাইলটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলো। মোবাইলে যা দেখলাম, তা দেখে ওকে বলার মতো ভাষা খুজে পেলাম না।
মোবাইলে আমার আর ওর আবেগঘন মুহূর্তের দৃশ্য ধারণ করা ছিল। আমি কিছু বলার আগেই ও অনেকটা জোর করে কেড়ে নিলো মোবাইলটা আমার হাত থেকে।’



-------------------------চলবে।



সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:৩৯
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, ভালোবাসাই যথেষ্ট

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৪৮



চীনের লিংশান পর্বতে শুয়ে আছেন ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ)-এর দুই সাহাবী সা-কে-জু (Sa-Ke-Zu) এবং
উউ-কো-শুন (Wu-Ko-Shun)। এই নামেই তাঁদের চিনতো স্থানীয় চীনবাসীরা। অবাক হতে হয়, আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

প্রিয় সামু ব্লগারদের কাছে খোলা চিঠি.....

প্রিয় সহব্লগার,
একসময় সামু ছিল আমাদের ছোট্ট এক মহাবিশ্ব।
দৈনিক গড়ে তিন-চারশ' ব্লগার অনলাইনে থাকতেন। প্রতি মিনিটেই নতুন নতুন পোস্ট আসত। কেউ গল্প লিখছেন, কেউ কবিতা, কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্য ধর্মের অনুসারীদের সাথে সদয় আচরণ করলে আল্লাহর ভালোবাসা পাবেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৭

১) "দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে নিজ দেশ থেকে বের করে দেয়নি, তাদের প্রতি সদয় আচরণ ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেননি। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ২২ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭



বাংলাদেশে শেষ কবে সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখেছিলাম মনে নাই। গতকাল সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম, স্টার সিনেপ্লেক্স মুভি থিয়েটারে। এখন আর আগের মতন সিনেমা হল নেই। অনেক কিছু বদলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে প্রথম ১০০০০০ মন্তব্যপ্রাপ্ত রাজীব নুর'কে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা!!

লিখেছেন বিজন রয়, ২২ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪০



প্রাপ্ত মন্তব্য ১,০০,০০০!!
ঐতিহাসিক!

এই ব্লগের ইতিহাসে রাজীব নুর আপনি সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্য পেয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন!

আপনাকে অভিনন্দন আর শুভেচ্ছা প্রাণঢালা।

আপনি আবার এই ব্লগে সর্বপ্রথম ১০০০০০ মন্তব্যকারীও বটে!
সেটা নিয়ে আমি এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×