মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মেলায় যাত্রা গান বন্ধ করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত দর্শক কর্তৃক যাত্রা গানের প্যান্ডেল ভাংচুর, শিল্পীদের নিয়ে টানা হেচড়া ও ব্যাপক লুট পাট সহ একজন নৃত্য শিল্পী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার গভীর রাতে আদিনাথ মেলার যাত্রা প্যান্ডেলে। এ ঘটনায় জনতা কর্তৃক নিখোঁজ এক নৃত্য শিল্পীকে উদ্ধার ও ২ ধর্ষককে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। উত্তেজিত জনতার তুলকালাম কান্ডে দর্শকদের দিক বিদিক ছোটাছুটিতে অর্ধশত লোক আহত হয়েছে।
জানা যায় মহেশখালীর ঐতিহ্যবাহী আদিনাথ মন্দিরের শিব চতুর্দশী পূজাকে কেন্দ্র করে মৈনাক পর্বতের পাদদেশে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আদিনাথ মেলা বসে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ওই মেলায় যাত্রা গান, পুতুল নাচ, ও র্যা ফেল ড্র এর নামে অশ্লীল নাচ গান ও জুয়ার আসর চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে অশ্লীল নাচ গান বন্ধের দাবিতে স্থানীয় মুসলিম জনতার সমন্বয়ে ইসলামী ঐক্য পরিষদ নামে এক সংগঠন বড় মহেশখালীর নতুন বাজার মাঠে প্রতিবাদ সভা ডাকে। প্রতিবাদ সভায় নাচ গান বন্ধের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে মাদ্রাসায় অপর এক প্রতিবাদ সভার ডাক দেয়া হয়। এ খবর শুনে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় আদিনাথ মন্দিরের যাত্রা প্যান্ডেলে গিয়ে যাত্রা চলাকালীন সরাসরি নিজে মঞ্চে উঠে মাইকে ঘোষণা দিয়ে নাচ গান বন্ধ করে দিয়ে দর্শকদের কাউন্টার থেকে টিকেটের টাকা ফেরৎ নিতে নির্দেশ দেন। তৎক্ষনাৎ উত্তেজিত দর্শকরা হৈ হুল্লুড় শুরু করে যাত্রার প্যান্ডেল, ঘেরা বেড়া, মাইক ও চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে ব্যাপক লুট পাট চালায়। এ সময় শত শত দর্শক প্রাণ ভয়ে দিক বিদিক ছোটাছুটি করে পালাতে থাকে। এতে ঘেরা দেয়া টিনের বেড়া ও বাঁশের টেংরায় আটকা পড়ে অন্তত ৫০ জন দর্শক আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। উত্তেজিত দর্শকের তুলকালাম কান্ড চলাকালে এক শ্রেণীর সুযোগ সন্ধানী লোক মেলার অন্যান্য স্টলে লুট পাট ও যাত্রার গ্রিন রুমে অবস'ান নেয়া শিল্পীদের টানা হেচড়া করে ৪/৫ জন শিল্পীকে অন্ধকারের মধ্যে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় যাত্রার দর্শকরা ৮০০ শতাধিক প্লাষ্টিকের চেয়ার মুহূর্তের মধ্যে লুট পাট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর গভীর রাতে যাত্রা কর্তৃপক্ষ তাদের এক তরুণী নৃত্য শিল্পী নিখোঁজ রয়েছে মর্মে স্থানীয় ছোট মহেশখালী ইউ, পি চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদের কাছে অভিযোগ করে। তিনি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মেলার পার্শ্ববর্তী নতুন জল দাশ পাড়া পুকুর পাড়স' একটি খামার বাড়িতে চৌকিদার ও স্থানীয় জনতাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে ওই নৃত্য শিল্পীকে ধর্ষিত ও মুমুর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে এবং ধর্ষণের অভিযোগে বাবুল মজুমদার ও আব্দুল মুনাফ নামের দুই যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
উদ্ধারকৃত নৃত্য শিল্পীকে পুলিশের সহায়তায় মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সে অভিযোগ করে জানায় ঘটনার সময় তার মুনিব চট্টগ্রামের পটিয়া থানার বাবুল মজুমদার পিতা সুনিল মজুমদার নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে থাকার অজুহাত দেখিয়ে যাত্রা প্যান্ডেলের পেছনের দরজা ভেঙ্গে তাকে যাত্রার পার্শ্ববর্তী একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে বাবুলের সাথে আরো ৬ জন তাকে জোর পূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। সে জানায় তার বাড়ি ঢাকার মুন্সিগঞ্জ থানার বিক্রমপুর ইউনিয়নের দেওয়ান গঞ্জে। সে অন্যান্য শিল্পীদের সাথে সুত্রাপুর থানার গেন্ডারিয়া থাকতো। ঢাকার জনৈক রমিজ তাকে সহ অন্যান্য শিল্পীদের আদিনাথ মেলায় চুক্তি করে নিয়ে আসার পথে চট্টগ্রামের বাবুল মজুমদারের হাতে তুলে দেয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই ধর্ষক হচ্ছে ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের মুকবুল আহমদের পুত্র আব্দুল মোনাফ ও বাবুল মজুমদার। এ ব্যাপারে ধর্ষিতা বাদী হয়ে ধৃত দুই ধর্ষক ও অজ্ঞাত নামা পাঁচ জনসহ সাত জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ধর্ষিতা মহেশখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


