somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাতৃভাষা সংকট : বানান সতর্কতা

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাংলা একমাত্র ভাষা যা রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতির দাবিতে প্রাণ দিতে হয়েছে, ঝরাতে হয়েছে রক্ত ।
যার সম্মানে ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্যদেশ সমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে ।
এমন একটি ভাষার প্রতিনিধিত্বকারী দেশ হিসাবে এই ভাষার সম্মান আমরা কতোটুকু রক্ষা করছি তা অনেক সময়ই প্রশ্নের সম্মুখীন ।
সেই সমস্যা নিয়ে লিখতে বসেছি সেই সমস্যায় আমি নিজেও আক্রান্ত । কিন্তু আমার সৌভাগ্য যে, আমি বুঝতে পারছি আমার সমস্যা এবং সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছি, সেই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছি ।
আমরা কেন নিজের ভাষাতেই এতো বানান ভুল করে থাকি ? ভাবতে যেয়ে খেয়াল করলাম-
১. মাতৃভাষা হওয়াতে "পারিইতো" এমন মনোভাব ।
২. শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে বানানের প্রতি যত্নবান না হওয়া । ( শিশুদের প্রতি এই কাজটি বড়দের, শিক্ষকদের)
৩. পরবর্তী জীবনে নিজেও বানানে যত্নবান না হওয়া, সচেতন না হওয়া ।
৪. নিয়মিত অভিধান ব্যবহারে আগ্রহ না থাকা ।
৫. কম শিক্ষিত, অসচেতন লোকদের দ্বারা ব্যানার, দেয়াল লিখনের কাজ করানো । আর সেই ভুল বানান গুলিতেই আমাদের চোখ অভ্যস্থ হয়ে যাওয়া ।
৬. অন্তর্জালে ভুল বানান বার বার ব্যবহারের কারণে কোন বানান নিয়ে সংশয় দেখা দিলে আমরা অভিধান দেখার পরিবর্তে ইন্টারনেটে খোঁজ করি এবং ভুল বানান দেখে তা নিয়েই নিশ্চিত হতে চাই ।
এমন আরো অনেক অনেক কারণ থাকতে পারে ।
সর্বোপরি নিজেদের সচেতনতা, আন্তরিকতার অভাবই বানান ভুল হওয়ার কারণ ।


এই ছবিটি যিনি তৈরি করেছেন এবং এই "মা টেলিকম" এর পরিচালনাকারীর কাছ থেকে প্রত্যাশা ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই কম । কারণ আমি ধরেই নিচ্ছি এদের মধ্যে ভাষাজ্ঞানের অভাব যথেষ্ট পরিমাণে আছে । তাই "সীম" যে "সিম" হওয়া উচিত বা "মেমোরী" যে "মেমোরি" হওয়া উচিত সেই শুদ্ধ বানান আশা করা যাচ্ছে না জোরালো ভাবে ।


এই রেস্টুরেন্ট এর ছবিটি ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে তোলা হলেও ঢাকা সহ সারা দেশেই এমন অসংখ্য রেস্টুরেন্ট রয়েছে যেখানে অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দনভাবে ভুল বানানে "রেষ্টুরেন্ট" লিখে চালানো হচ্ছে । এই সব রেস্টুরেন্ট এর পরিচালনাকারীরা যথেষ্ট টাকাওয়ালা হওয়ার পরও শুধুমাত্র সচেতনতা এবং ভাষাগত জ্ঞানের অভাবে এমনটি চলছে...বলার কি কেউ আছে ?



"স্টিল" "ইস্টার্ন" এই ধরনের বানানগুলোকে অনেক স্থানেই দেখা যায় "ষ্টীল" "ইষ্টার্ণ" এই ধরনের বানানে লেখা হয়, লেখা হচ্ছে বহুতল ভবনের নামে, লেখা হচ্ছে বড় বড় শপিং সেন্টারের গায়ে ।



Oxford Advanced Learner's Dictionary তে "corner" নিয়ে বলা হয়েছে a part of sth where two or more sides, lines or edges join এর অরিজিন হলো Latin "cornu" ।
কিন্তু বাংলা অভিধানে কর্ণার বলতে কোন শব্দ নেই । এছাড়া "কর্ণ" দিয়ে মহাভারতের কুন্তীর কুমারীকালের পুত্রকে বোঝানো হয়েছে । এছাড়া "কর্ণ" দিয়ে আমাদের শ্রবণেন্দ্রিয় কে বোঝানো হয়েছে যা "কান" নামে সুপরিচিত ।

ছবিটি এলিফ্যান্ট রোডের মেরী স্টোপস ("মেরি" হওয়া উচিত) ক্লিনিক থেকে নেওয়া ।
জিজ্ঞেস করেছিলাম এই বানান নিয়ে । আমাকে বলা হয়েছে এসব কাজ হেড অফিস থেকে করা হয়, তবে তারা পরবর্তীতে এই বানান নিয়ে জানানোর চেষ্টা করবে ।


সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো আমাদের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্তৃপক্ষই নিজের ভাষা নিয়ে সচেতন নয় ।
এর প্রতিফলন দেখা যায় দেয়াল জুড়ে শোভা পাওয়া এইসব বিজ্ঞাপন ।


এই প্রতিষ্ঠানটির সামনে থেকে তুলে আনা হয়েছে এই ছবিটি ।



নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী মারি ক্যুরির নামে করা এই স্কুলটির সাইনবোর্ড দেখিয়ে তাদের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এক ব্যক্তিকে বানানের ব্যাপারে বলাতে তিনি প্রথমে সন্দেহ প্রকাশ করেন । তারপর বলেন "কুরী" শব্দটি ঠিক আছে । তারপরও যখন আমি নিশ্চিত করতে চাইলাম তিনি পরে দেখবেন বলে এড়িয়ে যান বিষয়টি ।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাপূর্বক এই ইমেজটি দিলাম সচেতন হওয়ার জন্য ।

অনলাইন যোদ্ধাদের ভাষা সম্পর্কে সচেতনতা :
অনেকেই সচেতন নিজের মায়ের ভাষা , প্রাণের ভাষার ব্যবহারে ।কিন্তু অনলাইনে নিজের খেয়াল খুশি মতো ভাষার ব্যবহারে, অন্যকে অসম্মান করতে আমরা বেছে নেই ভাষার কদর্য ব্যবহারিক রূপটি । যা ভাষাকে সম্মানিত করে না । বরং এতো সংগ্রামের, গৌরবের ভাষাটিকে করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত নির্যাতন ।


একটি সুপারিশ :
অন্তত এই মাসে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত একটি অভিধান কিনে (যাদের নাই তাদের জন্য প্রযোজ্য) এবং তা নিয়মিত ব্যবহারের অভ্যাস করা ।

তথ্য সুত্র:
১. বাংলা ভাষা আন্দোলন

২. আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস

৩. মারি ক্যুরি

৪. শুদ্ধ বলা শুদ্ধ লেখা : রণজিৎ বিশ্বাস

৫. মাতৃভাষা সংকট ও মাতৃভাষা আন্দোলন : সম্পাদনা ড. প্রথমা রায় মণ্ডল

৬. বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান

৭. ছবি : নিজ অ্যালবাম থেকে নেওয়া


ভাষা নিয়ে আগের পোস্টটি দেখতে : ♣বানান সতর্কতাঃ "হ্রস্ব ইকার এবং দীর্ঘ ঈকার"♣
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:৪৪
৫৭টি মন্তব্য ৫৭টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। ২৪ ঘণ্টা পর সাইন ইন করলাম

লিখেছেন শাহ আজিজ, ১২ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৫৪

সামু বন্ধ থাকলে কি যে যাতনা তা এবারি বুঝতে পারলাম । দুপুরে জাদিদকে ফোন করে জানলাম সমস্যা সার্ভারে এবং তা সহসাই ঠিক হয়ে যাবে । মনের ভিতর কুচিন্তা উকি ঝুকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়েলকাম ব্যাক সামু - সামু ফিরে এল :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ১২ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৩



সামুকে নিয়ে আমি এর আগে কোন দিন স্বপ্ন দেখেছি বলে মনে পড়ে না । তবে অনেক দিন পরে গতকাল আমি সামুকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলাম।তবে সেটাকে আদৌও সামুকে নিয়ে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বয়কটের ব্যবচ্ছেদ

লিখেছেন শূন্য সময়, ১২ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:৪৫

আপনি বয়কটের পক্ষে থাকুন, বিপক্ষে থাকুন- এই বিষয় নিয়ে কনসার্ন্ড থাকলে এই লেখাটা আপনাকে পড়ার অনুরোধ রইলো। ভিন্নমত থাকলে সেটা জানানোর অনুরোধ রইলো। কটাক্ষ করতে চাইলে তাও করতে পারেন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামে আলেম নয়, ওলামার রেফারেন্স হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ২:৫০



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরাঃ ২৯... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ: গণতন্ত্রের মুখোশ পরা ভয়ঙ্কর অমানবিক এক রাষ্ট্র

লিখেছেন মিশু মিলন, ১৩ ই জুন, ২০২৪ সকাল ৭:০৮





প্রায় দুইশো বছর ধরে বাংলাদেশে বাস করছে হরিজন সম্প্রদায়। ব্রিটিশ সরকার ১৮৩৮ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে নগরের রাস্তাঘাট, নর্দমা এবং টাট্টিখানা পরিষ্কার করার জন্য তৎকালীন ভারতবর্ষের অন্ধ্র প্রদেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×