somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জুল ভার্ন
এপিটাফ এক নিঃশব্দ প্রচ্ছদে ঢাকা আছে আমার জীবনের উপন্যাস...খুঁজে নিও আমার অবর্তমানে...কোনো এক বর্তমানের মায়াবী রূপকথায়।আমার অদক্ষ কলমে...যদি পারো ভালোবেসো তাকে...ভালোবেসো সেই অদক্ষ প্রচেষ্টা কে,যে অকারণে লিখেছিল মানবশ্রাবণের ধারা....অঝোর

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক এবং শিউরে ওঠার মতো।
বইটি পড়তে পড়তে বারবার মনে হয়েছে- আমি যেন আবার সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর মধ্যে ফিরে গেছি। পড়ছিলাম না, যেন নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায়গুলো আবার প্রত্যক্ষ করছিলাম। নিজেকে আবিষ্কার করছিলাম- আমার একপায়ে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে বেধড়ক পেটানো হচ্ছে, মুখ-নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে, শরীরে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হচ্ছে; আর অস্ফুট কণ্ঠে শুধু বলছি- “পানি… পানি…”

দুঃখ, কষ্ট, লজ্জা, ঘৃণা আর যন্ত্রণায় একসময় মনে হচ্ছিল- বইটি আমি পড়ছি না; বইটিই যেন আমাকে পড়ছে!
নিজেকে খুঁজে পাওয়া একটি তদন্ত প্রতিবেদনে
বিভিন্ন সংগত কারণেই গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আজমি, ব্যারিস্টার আরমান,রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং ‘জুলভার্ন’- আমার ছদ্মনাম- একাধিকবার এসেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যেও কয়েকজন উচ্চপদস্থ সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। এমন কিছু নামও আছে, যাদের নাম লিখতেও ঘৃণা হয়।
তবে তদন্ত কমিশন নিরাপত্তার স্বার্থে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে কোড নম্বর ব্যবহার করে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। কিন্তু একজন ভুক্তভোগী যখন এই বই পড়বেন, তখন সেই কোড নম্বরের আড়ালেও তিনি নিজের গল্পটি খুঁজে পাবেন। কারণ এটি কেবল কোনো একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নয়- এটি তাদের হারিয়ে যাওয়া জীবনেরই দলিল।

তদন্তের প্রতিটি ধাপ আমি কাছ থেকে দেখেছি
গুমের শিকার ভুক্তভোগী হিসেবে আমরা কেউ কেউ গুম কমিশন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্ত কমিশনের তদন্ত-প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম। ফলে তদন্ত কীভাবে এগিয়েছে, কীভাবে তথ্য যাচাই করা হয়েছে, কীভাবে একটি অভিযোগ ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তে রূপ নিয়েছে- সেসব আমি কৌতূহল ও গভীর আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছি। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে যারা গুমের শিকার হয়েছিলেন, তাদের একটা গ্রুপের পক্ষে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে গিয়ে আমিও তদন্তের বিভিন্ন ধাপ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি।
আমার পর্যবেক্ষণে তদন্তের প্রক্রিয়াটি ছিল মোটামুটি এমন-
প্রথমত; অভিযোগ গ্রহণ ও ডাটাবেজ তৈরি।
প্রতিটি অভিযোগ গ্রহণের পর নির্দিষ্ট ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত; স্ক্রুটিনি ও প্রাথমিক সত্যতা যাচাই।
অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। ঘটনাটি সত্যিই গুমের আওতাভুক্ত কি না এবং এর সঙ্গে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক ইঙ্গিত রয়েছে কি না- তা যাচাই করা হয়েছে।

তৃতীয়ত; গভীর অনুসন্ধান ও সাক্ষ্য গ্রহণ।
ভুক্তভোগীর পরিবার, স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ, র‍্যাব, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার নথিপত্র, লগবুক, রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য চাওয়া হয়েছে।

চতুর্থত; অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

পঞ্চমত; ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন ও স্পট ভিজিট।
সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্র বা সেল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব স্থাপনা, কক্ষের দেয়াল, শব্দ, আলো-বাতাস ও পরিবেশের মিল খোঁজা হয়েছে।

ষষ্ঠত; চেক, ক্রস-চেক ও ভেরিফিকেশন।
ভুক্তভোগী ও পরিবারের বক্তব্য, অভিযুক্তদের জবানবন্দি এবং সরকারি নথির মধ্যে অসঙ্গতি বা বৈপরীত্য খুঁজে বের করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজিটাল তথ্য, কল ডিটেইলস রেকর্ড ও মোবাইল টাওয়ার লোকেশনসহ অন্যান্য তথ্যও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সবশেষে এসব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তৈরি হয়েছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ।

সততা, সদিচ্ছা ও মেধার সমন্বয় হলে অসম্ভবও সম্ভব
এই তদন্তের সবচেয়ে বড় শিক্ষা। সুযোগ থাকলে, সদিচ্ছা থাকলে, সততা ও নিষ্ঠা থাকলে এবং সত্য উদঘাটনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকলে- একটি তদন্ত কমিশনও বিশ্বের পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতো অত্যন্ত জটিল ও গভীর তদন্ত পরিচালনা করতে পারে। আমি কোনোভাবেই বলতে চাই না যে একটি কমিশন সরাসরি CIA, MI6 বা সাবেক KGB/বর্তমান FSB-এর সমতুল্য। কিন্তু তাদের অনুসন্ধানী দক্ষতা, তথ্য যাচাই, ক্রস-চেক এবং ঘটনার অন্তর্নিহিত সত্য উদঘাটনের যে প্রচেষ্টা- তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।

যে সূক্ষ্মতা ও ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি অভিযোগের অনুসন্ধান করা হয়েছে, তা অনেক পেশাদার তদন্তকারীর পক্ষেও সহজ কাজ নয়। আমার কাছে আরও একটি বিষয় প্রমাণ করেছে- শিক্ষা ও মেধার সঙ্গে যখন সততা, সদিচ্ছা, নিষ্ঠা এবং সত্য অনুসন্ধানের মানসিকতা যুক্ত হয়, তখন একটি প্রতিষ্ঠান তার সীমাবদ্ধতাকেও অতিক্রম করতে পারে।
গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী ড. Nabila Idris, মানবাধিকারকর্মী নূর খান এবং সাজ্জাদ হোসেন - এই দলটি সেই কাজটিরই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে আমি মনে করি।

গুম শুধু একজন মানুষকে নিখোঁজ করে না
বলপূর্বক গুম এমন একটি অপরাধ, যার শিকার শুধু নিখোঁজ মানুষটি নন। একজন মানুষকে গুম করা হলে তার স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, ভাই-বোন- প্রতিটি মানুষকে যেন জীবন্ত অবস্থায় মৃত্যুর অপেক্ষায় রাখা হয়। আমার নিজের কথাই বলিঃ
আমি পিরোজপুর যাচ্ছিলাম। ১৫ দিন আগে স্টিমার পি.এস. টার্ন-এ কেবিন রিজার্ভ করেছিলাম। স্টিমার ছাড়ার মাত্র ৫-১০ মিনিট আগে সিভিল পোশাকে কয়েকজন সদস্য আমাকে জোরপূর্বক স্টিমার থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।
সন্ধ্যার পর থেকে আমার স্ত্রী-সন্তানেরা বারবার ফোন করেও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি।
পিরোজপুরের তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার- আমার ভাগ্নে- আমার জন্য হোটেলে কেবিন বুক করে রেখেছিল। সকালে আমাকে নিয়ে আসার জন্য হুলারহাট স্টিমার ঘাটে গাড়িও পাঠিয়েছিল....
কিন্তু আমার মতোই তারাও কেউ জানত না আমি কোথায়।
সম্ভাব্য সব যায়গায় খোঁজ নিয়ে আমার স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়স্বজন এবং ভাগ্নে নিশ্চিত হয়ে গেল- আমি হারিয়ে গেছি।

তারপর শুরু হলো দৌড়ঝাঁপ।
থানা পুলিশ, র‍্যাবের মহাপরিচালক, আইজিপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়- যার কাছে যাওয়া সম্ভব, সেখানেই তারা ছুটেছে। কিন্তু কেউ কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
তারা হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল, এমনকি মর্গেও ছুটেছে- অজ্ঞাতনামা লাশের মধ্যে আমাকে খুঁজেছে।
যেখানেই অজ্ঞাতনামা লাশের খবর এসেছে, সেখানেই আমার পরিবার ছুটে গেছে।

একজন মানুষ গুম হলে তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিনই তাকে খুঁজতে খুঁজতে একটু একটু করে মৃত্যুবরণ করে। একটা লাশের পরিচয় থাকে, কিন্তু একজন গুম ব্যক্তির কোনো আইনী পরিচয় থাকেনা।

....“সত্যি করে বল- তুই আসলে কে?”
গুম অবস্থায় একটি ঘটনা আজও আমার স্মৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে আছে। আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করা হতো- “তোকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এত লেখালেখি কেন হচ্ছে? সত্যি করে বল, তুই আসলে কে?”

এই প্রশ্নটির মধ্যেই যেন সেই সময়ের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মানসিকতার একটি ভয়াবহ চিত্র লুকিয়ে আছে।
আমি তখন বুঝতে পেরেছিলাম- আমাকে শুধু একজন মানুষ হিসেবে নয়, আমার লেখা, আমার বক্তব্য, আমার পরিচয় এবং আমার রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেও তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।

এক জীবনের ঋণ গুম থেকে আমাকে গ্রেফতার দেখানোর পর থানা পুলিশের রিমান্ডে নেওয়া হয়। শারীরিক নির্যাতন থেকে বাঁচতে এবং স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়ার জন্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই মুহূর্তটি আজও আমার কাছে অবিস্মরণীয়।
মনে হচ্ছিল- হাজার বছরের জমে থাকা না-বলা কথাগুলো কান্নার সঙ্গে এক নিঃশ্বাসে বেরিয়ে আসছে আমার স্ত্রীর মুখ থেকে। তিনি আমাকে বলেছিলেন-
“বাবুল ভাইয়ের নির্দেশে ফারদিন (কে এম নাজমুল হক) অনেক ঝুঁকি নিয়ে গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়িয়ে আমাদের বাসায় এসেছিল। শুভ(আমাদের বড়ো ছেলে)কে নিয়ে মহাসচিব মহোদয়ের কাছে গিয়েছিল। মহাসচিব মহোদয় তোমার গুমের নিন্দা প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানিয়ে প্রেসে বক্তব্য দিয়েছেন এবং আর্থিক সহায়তাও করেছেন। আবু সুফিয়ান ভাই এবং মোর্শেদ আলী খান সাহেব পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন- যা দেশের অসংখ্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।”

সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম- আমাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন শেষ পর্যন্ত আমাকে হত্যা করা হয়নি। মানুষের জীবনে কিছু ঋণ থাকে- যে ঋণ কোনোদিন শোধ করা যায় না। Shohidul Islam Babul ভাই(বিএনপি নেতা, বর্তমান সংসদ সদস্য), K M Nazmul Haque (বর্তমান সহকারী প্রেস সচিব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং) এবং পরম শ্রদ্ধেয় বিএনপি মহাসচিব Mirza Fakhrul Islam Alamgir স্যারের সেই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

দুটি বই, দুটি সময়ের দুটি ভয়াবহ দলিল।
লেখক রোকন উদ্দিন খানের “বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়ন” বইটি আমি ইতিপূর্বে পড়েছি। সেই বইয়ের অনেক ঘটনা বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেখান থেকেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
অন্যদিকে “আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস” মূলত গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদ। মূল প্রতিবেদনটি কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনকে বাংলাভাষী পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনুবাদককে আন্তরিক ধন্যবাদ।

দুটি বই দুটি ভিন্ন সময়ের, ভিন্ন ঘটনার দলিল হলেও একটি জায়গায় এসে তারা যেন একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়েছে-
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার যখন মানুষের মৌলিক অধিকারকে পদদলিত করে, তখন তার সবচেয়ে ভয়াবহ মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
একটি বই আমাদের ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের রক্তাক্ত বাস্তবতার সামনে দাঁড় করায়; অন্যটি আমাদের নিয়ে যায় দীর্ঘদিনের গুম, গোপন আটক, নির্যাতন এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায়ে।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস” আমার কাছে নিছক একটি অনুবাদ বই নয়।
এটি একটি দলিল।
এটি একটি সাক্ষ্য।
এটি একটি আয়না- যেখানে একটি দুঃসময়ের ভয়াবহ মুখ দেখা যায়।
আর আমার মতো যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাদের কাছে এটি আরও বেশি কিছু।
এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর স্মৃতি।
আমাদের পরিবারের কান্নার দলিল।
আমাদের নিঃশব্দ যন্ত্রণার সাক্ষী।
আর সবচেয়ে বড় কথা- সত্যকে মুছে ফেলা যায় না, তার একটি না একটি দলিল একদিন ঠিকই সামনে আসে- তার প্রমাণ।
বইটি পড়তে পড়তে আমি আবার সেই অন্ধকার কক্ষে ফিরে গিয়েছিলাম। আবার শুনেছিলাম দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ, আবার অনুভব করেছিলাম নির্যাতনের যন্ত্রণা, আবার শুনেছিলাম নিজের কণ্ঠের সেই অস্ফুট আর্তনাদ-
“পানি… পানি…”
কিন্তু এবার সেই অন্ধকারের মধ্যে একটি আলোও দেখেছি।
সেই আলো হলো- সত্য উদঘাটনের চেষ্টা।
আর সত্য যত দেরিতেই আসুক, অপরাধ কখনও চাপা রাখা যায় না, ফৌজদারি অপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ কখনও তামাদি হয়না। সত্যের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো- কোনো দিন তা গুম করে রাখা যায় না।

বই থেকে দুটি পৃষ্ঠার ছবি যুক্ত করেছি যেখানে চারটি মামলার অভিযোগ একই ভিন্ন ভিন্ন থানা, যার দুটি মামলা Digital Security Act এবং দুটি Information and Communication Technology (ICT) আইনে। দুই মামলার একটায় আমি Humayun Kabir এক নং আসামি, Zahid Hassan দুই নং আসামি। আবার এক মামলায় জাহিদ এক নং আসামি, আমি দুই নং আসামি। অন্য দুই মামলায় আমরা দুজন ছাড়াও Rajon Bapari Shovan Rezwanul Haque Wasim Iftekharul Haque ফসিউল আলম আরজান ইভান S M Sagor আসামি।
.
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছোট গল্পঃ শেষ জীবনে

লিখেছেন সামিয়া, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯



ঘুমিয়ে থাকা একজন মানুষ কখনো কখনো জেগে থাকা একজন মানুষের চেয়ে অনেক বেশি ভালো থাকতে পারে? কথাটা শুনতে অদ্ভুত। কিন্তু বয়স হলে মানুষ অনেক অদ্ভুত কথাই বিশ্বাস করে চিন্তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাবধান, এই ফলগুলো খাওয়ার আগে সচেতন হোন।

লিখেছেন জীয়ন আমাঞ্জা, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২

আজ কথা বলব একটা ভিন্নধর্মী সচেতনার বিষয় নিয়ে।
আপনারা অনেকেই জানেন, আপেলের বীজ বিষাক্ত, বেশি পরিমাণে খেলে মানুষ মারা যায়। কখনও ভেবেছেন, কেন মারা যায়? ঘটনাটা আসলে কী?

এর মূলে আছে Amygdalin... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতি পদে আনভীর সোবহানকে দেখতে চাই।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪২


সায়েম সোবহান আনভীর। এক বিশাল বিজনেস টাইকুন, বসুন্ধরা গ্রুপের যোগ্য কান্ডারী। আহা, কী তার ব্যক্তিত্ব! দেখতে যেমন সুন্দর, চরিত্রও যেন মাশাআল্লাহ্ ফুলের মতো পবিত্র। আর বসুন্ধরা গ্রুপের কথা তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাপের ওজন কমিয়ে ভারী করো নেকির পাল্লা, ও রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫০


বহু পাপে জীবন হয়ে গেল আধেক পার,
জেনেও না জানার ভান ছিল,
মোহ আঁকড়ে ধরে রেখেছি, ধরার সুখে যে আচ্ছন্ন!
পাপ জেনেও পাপ সমুদ্দুরে কেটেছি হরদম সাঁতার!

চোখের পাপ, হাতের পাপ, আহা ঠোঁটেরও যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই/ঝুলাই

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১৯



আমরাই মারবো,লাশ করবো গুম,
আমরাই জানাবো শোক!

আমরাই বলবো , গলা ফাটা চিৎকারে-
ওরা ছিলো আমাদেরই লোক॥

আমরাই বাঁধাবো দু’তরফা দাঙ্গা,
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×