somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মনিরপেক্ষতা বনাম ধর্মহীনতা

২৭ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৩:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডিকশনারীতে লেখা আছে ধর্মনিরপেক্ষতা অর্থাৎ সেকুলারিজম্-এর অর্থ হল এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা যা ধর্মবিশ্বাসকে প্রত্যাখ্যান করে। এর কারণও আছে। হাজার হাজার বছর ধরে ধর্মীয় রাষ্ট্রের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিতিবিরক্ত জনগণ ঘৃণা ও গণবিক্ষোভের দ্বারা ধর্মীয় রাষ্ট্র উৎখাত করে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রে ধর্মের স্থান নেই। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা প্রাচীনকাল থেকে বলেছেন ইবনে রুশ্দের মত দার্শনিকেরাও (উইকিপিডিয়া)। কিন্তু “নিরপেক্ষতা” শব্দের অর্থ যাঁরা বলেন “হীনতা” তাঁরা বলতে চান বিবেকহীন লোক আসলে বিবেক-নিরপেক্ষ লোক, প্রাণহীন দেহ আসলে প্রাণ-নিরপেক্ষ এবং বৃষ্টিহীন মরু আসলে বৃষ্টিনিরপেক্ষ মরুভূমি। কথাটা মতলবি তা ব্যাখ্যার দরকার হয় না।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে প্রত্যেকের মানবাধিকার সুরক্ষিত এবং আইনের চোখে সবাই হুবহু এক তা সে রাস্তা-পরিষ্কারকারী হোক বা দেশের প্রেসিডেণ্ট হোক। অথচ ধর্মরাষ্ট্রে − ‘‘রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে আদালতী কার্যক্রম’’ ধারার উদ্ধৃতি দিচ্ছি ঃ- (রাষ্ট্রপ্রধান) ‘‘হদ্দ-এর আওতাভুক্ত কোন্ অপরাধ করিলে (ডাকাতি, চুরি, মদ্যপান, মানুষ-খুন, যৌন-ব্যাভিচার ইত্যাদি − লেখক) তাহার বিরুদ্ধে আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাইবে না’’ − বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ৩য় খণ্ড আইন নং ৯১৪ গ (উদ্ধৃতি শেষ) এবং হানাফি আইন হেদায়া পৃষ্ঠা ১৮৮। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এরকম ভয়াবহ আইন হয় না। তওবা করলেই গণহত্যাকারীর শাস্তি মাফ − বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ১ম খণ্ড ধারা ১৩, − ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এরকম ভয়াবহ আইনও হয় না। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রথম মহিলা গভর্নর ডঃ শামশাদ আখতার ব্যাংকের কিছু বিশেষ দলিলে সই করতে পারবেন না − এটাও ঘটে ধর্মীয় রাষ্ট্রেই, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে এটা কল্পনাও করা যায় না − দৈনিক ডন ২৯-০৯-২০০৮ − কেউ কেউ বলেন এসবের ব্যাখ্যা আছে। আমরা খুঁজে দেখেছি এসবের কোনোই গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই, থাকতে পারে না। তাছাড়া দুনিয়ায় প্রতিটি ধর্মের আলাদা ধর্মীয়রাষ্ট্র হ’লে বিশ্ব-মানবসমাজ ধর্মের ভিত্তিতে টুকরো টুকরো হয়ে পারস্পরিক ঘৃণাভিত্তিক মারাত্মক হানাহানির মধ্যে পড়ে যাবে। এসব কারণ ছাড়াও ন্যায় ও যুক্তির আলোকে অসংখ্য মুসলিম কোরাণের ভিত্তিতে ও অন্যান্য ধর্মবিশ্বাসীরা তাঁদের ধর্মগ্রন্থের ভিত্তিতে ধর্মে রাজনীতি এবং রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে ধর্ম মেশানোকে প্রচণ্ড ধর্ম-বিরোধী মনে করেন।

ধর্মীয় রাষ্ট্র হাজার হাজার বছর সময় পেয়েছিল নিজেদের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার, এখনো পাচ্ছে কিছু দেশে। কিন্তু কিছু হাতেগোনা শাসকের সময় ছাড়া এর ইতিহাস ভারাক্রান্ত হয়ে আছে জনগণের দুর্ভোগে, মানবাধিকার লঙ্ঘনে, নারীর অশ্রু আর রক্তে। ভ্রান্তিময় মানুষ যখন ঐশী ধর্মের মালিক হবার অপচেষ্টা করে তখন এসব হতে বাধ্য। এক ধর্মের ধর্মরাষ্ট্র বানাবার চেষ্টা করলে দুনিয়ার প্রতিটি ধর্মের আলাদা রাষ্ট্রকে বৈধ ও উৎসাহিত করা হয়। ইউরোপ-অ্যামেরিকা-অষ্ট্রেলিয়ায় ওরা ঈহুদী-খ্রীষ্টান রাষ্ট্র বানিয়ে আমাদের ঘাড়ে ওদের শারিয়া চাপিয়ে দিলে কোটি কোটি মুসলমানের কি দুর্দশা হবে আর তার জন্য কে দায়ী থাকবে ? ভারতের মুসলমানদের জন্য কি সর্বনাশের কথা, মওদুদি ভারতে হিন্দু-রাষ্ট্র সমর্থন করেছেন “যদি সেখানে মুসলমানদের সাথে শূদ্র-র মত ব্যবহার করা হয় তবুও” (মুনির কমিশন রিপোর্ট)। এই কি মওদুদি’র বিশ্ব-মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ? কিংবা “যদি সেখানে মুসলমানদের অধিকার থাকে যেমন ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিমদের আছে” (শাহ আবদুল হানড়বান − আন্তর্জাল আলোচনা ফোরাম)। কথাটা ঠিক নয়। শারিয়া আইনগুলো পড়ে দেখুন, শারিয়া-রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখুন, পাকিস্তান-ইরাণ-নাইজেরিয়ার অমুসলিমদেরকে জিজ্ঞেস ক’রে দেখুন, ভারত ও ইসরাইলে মুসলিমদের জিজ্ঞেস ক’রে দেখুন তাদের সম্মান ও মানবাধিকার কি অন্যায় ও নিষ্ঠুরভাবে পদদলিত করা হয়েছে । এ হবেই কারণ এ না-হলে ধর্মরাষ্ট্রই হয় না। “শারিয়া আইনের উদাহরণ” পরিচ্ছেদে দেখিয়েছি অতীতের হিন্দু-রাষ্ট্রে (মূল নাম সনাতন ধর্ম) কত অন্যায় ও হিংস্র আইন প্রয়োগ করা হতো − আবার দিচ্ছি (সূত্র ঃ প্রাচীন ভারত, সমাজ ও সাহিত্য − ডঃ সুকুমারী ভট্টাচার্য্য) ঃ

বিধবাকে মৃত স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারার আইন (অথর্ববেদ ১৮/৩/৩)।
“পিতামাতার জন্য কন্যা অভিশাপ” (ঐত্তরীয় ব্রাহ্মণ ৬/৩/১৩)।
“লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে মেরে দুর্বল করা উচিত যাতে শরীরের ওপরে তার কোনো অধিকার না থাকে” (শতপথ ব্রাহ্মণ ৪/৪/২/১৩)।
সর্বগুণান্বিতা নারীও অধমতম পুরুষের চেয়ে অধম” (তৈত্তরীয় সংহিতা ৬/৫/৮/২)।
“পুত্র-কন্যার সামনে স্বামী উপপতড়বী আনা বা বেশ্যাগমন করতে পারবে কিন্তু স্ত্রীর সামান্য পদস্খলনে সমাজ কঠোর দণ্ড দেবে” (মৈত্রায়নী-র বিভিনড়ব আইন ও তৈত্তিরীয় সংহিতা ৬/৫/৮/২)।
“কালো পাখি, শকুন, নেউল, ছুঁচো, কুকুর ও নারী হত্যার প্রায়শ্চিত্ত একই” (আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ১/৯/২৩/৪৫)।
“নারীকে অবরুদ্ধ রাখো, নাহলে তার শক্তিক্ষয় হবে” (শতপথ ব্রাহ্মণ ১৪/১/১/৩১)।
একটি যজ্ঞে “সদ্যোজাত পুত্রকে ওপরে তুলে ধরা হয়, কন্যাকে মাটিতে শুইয়ে রাখা হয়” (তৈত্তরীয় সংহিতা ৬/৫/১০/৩)।
“উত্তম নারী হল ‘যে স্বামীকে সন্তুষ্ট করে, পুত্র-সন্তানের জন্ম দেয় ও স্বামীর কথার ওপরে কথা বলে না’ ” (ঐত্তরীয় ব্রাহ্মণ ৩/২৪/২৭)।
“সন্তান না জন্মালে ১০ বছর পর ও পুত্র না জন্মালে ১২ বছর পর স্ত্রীকে ত্যাগ করা যাবে” (আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ১/১০-৫১-৫৩)।
“যার স্ত্রীর চেয়ে পশুর সংখ্যা বেশি সে সৌভাগ্যবান” (শতপথ ব্রাহ্মণ ২/৩/২/৮)।
ভয়াবহ ব্যাপার, কল্পনা করলেও গা’ শিউরে ওঠে। ইউরোপের গীর্জা-রাষ্ট্রের অত্যাচারও ছিল ভয়ংকর।

সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিবর্তনের ঐতিহাসিক শক্তির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে তবে তা জাতির দুর্ভাগ্য ও দুর্ভোগ বয়ে আনবে। মীর জাফর বা কুইসলিং নাম দ’ুটোর আদি অর্থ ভারী চমৎকার কিন্তু তা এখন এতই ঘৃণিত যে কোন বাঙালি বা নরওয়েবাসী তার ছেলের ও-নাম কোনদিনও রাখবে না। রাজাকার বা আল্ বদর শব্দেরও ওই দশা। বাস্তবে এখন সেকিউলারিজম-এর অর্থও বদলে গেছে আমূল। দুনিয়াময় ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলো এখন ধর্মের বিরোধী তো নয়ই বরং সাংবিধানিকভাবে সব ধর্মকে রক্ষা ও সহায়তা করে। আমাদের প্রথম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার বানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামি ফাউণ্ডেশন। বায়তুল মুকাররমের সমস্ত খরচ দেয় আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। ইউরোপ-আমেরিকা-ক্যানাডা-অস্ট্রেলিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ সরকারগুলোর অজস্র টাকা ও সহায়তায় মুসলিম ইমিগ্র্যাণ্ট, ইসলামি সংগঠন, মসজিদ-মাদ্রাসা, ওয়াজ-মহফিল, রেডিও-টিভি চ্যানেল, এমনকি শারিয়া-ব্যাঙ্ক, শারিয়া-মিউচুয়াল ফাণ্ড, শারিয়া-ইকুয়িটি ইত্যাদি গত কয় দশকে বেড়েছে কয়েক গুণ বললে ভুল হবে-বিস্ফোরিত হয়েছে কয়েকশ’ গুণ। কোন ধর্মনিরপেক্ষ সরকার কোটি কোটি দিনার-দিরহামকে বাধা দেয়নি হাজার হাজার মসজিদ ও ইসলামি সংগঠন বানাতে। এমনকি জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে শারিয়া’র সমালোচনা নিষিদ্ধ করে ক্রমাগত প্রস্তাব গ্রহণ করেছে গত বছরগুলো থেকে। উদ্ধৃতি দিচ্ছি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধী আমাদের দৈনিক থেকেও


“জার্মানীতেই বর্তমানে আড়াই হাজারের ওপর মসজিদ রয়েছে। সে-দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন তাঁর সরকার জার্মানীতে আরো মসজিদ তৈরি করবে। একই ঘোষণায় তিনি এ’ও জানান, জার্মানীর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় জার্মান ভাষায় ইসলাম শিক্ষা দেয়া হবে … এ বোধোদয় ফরাসী প্রেসিডেণ্ট সারাকোজীর মধ্যেও এসেছে … উদ্যোগ নিয়েছেন যাতে তিনি ফ্রান্সে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে অর্থ সহায়তা দিতে পারেন। বৃটেন ইতোমধ্যে মুসলমানদের বিভিনড়ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অর্থ সাহায্য প্রদান করেছে … ইতালীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ইতালীয় ইসলামি সংহতকরণ’ নামে ইতালীতে মুসলমানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদান চালু করেছেন। এভাবে ইউরোপের প্রায় সব দেশই রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে” (ইউরোপ ও ইসলাম − দৈনিক নয়া দিগন্ত − ২৩শে জুলাই, ২০০৮)।

আমেরিকার ডলারে লেখা নেই “ইন্ গড উই ট্রাস্ট”? হ্যাঁ, লেখা আছে। আদালতগুলোতে বাদী-বিবাদীকে ধর্মীয় শপথ নিতে হয় না ? হয়। সাংসদ ও রাষ্ট্রপ্রধানকে ধর্মীয় শপথ নিতে হয় না ? হয়। ক্যানাডায় সাংবিধানিকভাবে ক্যাথলিক স্কুলে প্রচুর সরকারি টাকা যায় না ? যায়। সমস্ত ধর্মীয় স্কুলে সরকারি আর্থিক অনুদানের প্রস্তাব করেনি এক রাজনৈতিক দল ? করেছে। বিলেতের সরকার রাষ্ট্রীয় ট্রেজারি থেকে শারিয়া-বণ্ড বাজারে ছাড়েনি ? ছেড়েছে। আমেরিকার ট্রেজারী ইসলামি ব্যাঙ্কিং-এর অনুমোদন দেয়নি ? দিয়েছে। আমেরিকার সরকারি প্রতিষ্ঠান এআই- জি শারিয়া-ব্যাঙ্কিং অনুমোদন দেয়নি ? দিয়েছে। লণ্ডনের বিশাল মসজিদের জন্য দশ কোটি পাউণ্ড সরকারি অনুদানের প্রস্তাব ছিল না ? ছিল, সে ই-মেল আমরা পেয়েছি। জার্মানীর কোলন-এ বৈধভাবে সুবিশাল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে না ? হচ্ছে। বিলেত ও জার্মানী তাদের আইনে মুসলিম নাগরিকদের জন্য বহুবিবাহের কিছু উপাদান গ্রহণ করেনি ? করেছে। লণ্ডনের টাওয়ার হ্যামলেট কাউন্সিল আটত্রিশ হাজার পাউণ্ড অনুদান দেয়নি কর্ডোভা ফাউণ্ডেশনকে ? দিয়েছে। সরকারগুলো পুলিশ দিয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর তত্ত্বাবধান করে না ? করে। বেলজিয়ামের ব্রাসেল্স্ শহরে সরকার শারিয়ার বিরুদ্ধে মিছিল নিষিদ্ধ করেনি ? করেছে। এক টরণ্টো শহরেই রেজিস্টার্ড ইসলামি সংগঠন নেই একশ’ একুশটা ? আছে। অনানুষ্ঠিানিক আরো কয়শ’? আছে। ইংল্যাণ্ডে জার্মানীতে ফ্রান্সে প্রায় সাত হাজার বৈধ ইসলামি সংগঠন নেই ? আছে। ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো সাধারণত বিশাল জমির ওপরে বিরাট দালান হয়, অনেক দেশে সাংবিধানিকভাবে সেগুলোর সম্পত্তি-কর ও পানি-বিজলির কর মওকুফ করা হয় না যার পরিমাণ বিপুল ? হয়। সরকারগুলোর ক্ষমতা নেই এগুলোর প্রত্যেকটি বন্ধ করার ? আছে, কিন্তু করেনি। এরই নাম ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। কাজেই ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীন বা ধর্মবিরুদ্ধ বলাটা প্রতারণামূলক অকৃতজ্ঞতা।

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থায় কিছু ত্র“টি অবশ্যই আছে যেমন এর ভেতর থেকেই বুশ-বেয়ার- এর মত গণহত্যাকরী দানব উঠে এসেছে, কিংবা দুর্নীতি, অস্ত্র ও পেশীশক্তির কারণে অনেক দেশে জনগণ ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারে না, ইত্যাদি। কিন্তু বহু দেশে এটা অত্যন্ত সফলও, সময়ের বিবর্তনে জনগণের শিক্ষা-সচেতনতায় ত্র“টিগুলো কেটে যাবে।

ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ইহুদী-খ্রীষ্টানদের পাদ্রী-রাবাইরাও বানায়নি, গীর্জাতেও বানানো হয়নি। ওগুলো সংসদে বসে বানিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানীরা যাঁরা আধুনিক বিষয়ে উচ্চশিক্ষিত, বাইবেল-এ নয়। সমাজ-বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে সংবিধানকে সংসদে বসে পরিবর্তন করছেন জনগণের নির্বাচিত সাংসদেরাই, গীর্জার পাদ্রী-রাবাইরা নন। ঠিক যেমন বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে বহু কষ্টের গবেষণায় বানিয়েছে বহু ওষুধ যা আমাদের প্রাণ রক্ষা করে বা দালান-ব্রিজ-কারখানা ও শিল্পায়নের প্রযুক্তি দেয়। তাই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা যদি “ইহুদী-খ্রীষ্টানদের শয়তানি ষড়যন্ত্র” ও “কুফরি আকিদা” হয় তবে ইহুদী- খ্রীষ্টানদের আবিষ্কৃত টু ব্রাশ চিরুণি থেকে শুরু করে বক্তৃতার মাইক বাস ট্রাক কাপড় হিটার এয়ারকণ্ডিশনার জুতো মাথাব্যথার ট্যাবলেট বুড়ো বাবা-মা’র ইনসুলিন কম্পিউটার রেডিও টিভি গাড়ি হাসপাতালের যন্ত্রপাতি হাজারো ওষুধ-সবই “ইহুদী-খ্রীষ্টানদের শয়তানি ষড়যন্ত্র” এবং “কুফরি আকিদা” হতে হয়।

যেখানে মানুষের জীবন ঘিরে আছে হাজারো ধর্মনিরপেক্ষ উপাদান সেখানে রাষ্ট্রযন্ত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অস্বীকার করাটা অজ্ঞতা বা আত্মপ্রতারণা ছাড়া আর কি হতে পারে আমি জানি না। “নিরপেক্ষতা” শব্দের অর্থ ”হীনতা” করলে মিথ্যাকে জায়েজ করা হয়। এই মিথ্যার সাথে যোগ হয়েছে, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাক্ষ্য গোপন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হইয়াছে”− বিধিবদ্ধ ইসলামি আইন ২য় খণ্ড পৃষ্ঠা ২৩১। বলাই বাহুল্য, এই “কোনো কোনো ক্ষেত্র”-টা আসলে কি তার তালিকা দেয়া হয়নি। তাই এউে দ্দশ্যে রাষ্ট্র-বিরোধী ষড়যন্ত্র, জঙ্গীতন্ত্র, বিদেশ থেকে গোপন অর্থ-সমাগম, গোপন অস্ত্রশিক্ষা, গোপন জঙ্গীসাহিত্য ইত্যাদি জানার পরেও “সাক্ষ্য গোপন রাখার উৎসাহ প্রদান করা হইয়াছে”। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ওরকম আইন হয়না, − সেখানে হয় “তোমরা সাক্ষ্য গোপন করিও না”− বাকারা ২৮৩, মায়েদা ১০৬, ইমরাণ ১৬১ ইত্যাদি।

এর সাথে এটাও দেখা দরকার −“যদি উদ্দেশ্যটি বাধ্যতামূলক হয় তবে মিথ্যা বলা বাধ্যতামুলক”− শাফি আইন নং আর.৮.২ ইত্যাদি। অর্থাৎ যিনি ধর্মীয় রাষ্ট্রকে বাধ্যতামূলক মনে করেন তাঁর জন্য এ উদ্দেশ্যে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতা, এই মিথ্যা বলাও বাধ্যতামূলক।

“মিথ্যা বলা বাধ্যতামুলক” আইনও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে হয় না। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে হয় − “মিথ্যা বলা থেকে দূরে থাকো … সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না”− সুরা হজ্ব ৩০ এবং বাকারা ৪২।

সে নির্দেশ লঙ্ঘন করলে কি হবে ?

“তাদের মিথ্যাচারের দরুণ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আজাব”− বাকারা ১০

লেখক পরিচিতি:::::::
হাসান মাহমুদ

[email protected]
http://www.hasanmahmud.com/

In SHARIAKIBOLE.COM it is written as:-

সদস্য – ওয়ার্ল্ড মুসলিম কংগ্রেস উপদেষ্টা বোর্ড
সাধারণ সম্পাদক- মুসলিমস ফেসিং টুমরো- ক্যানাডা
রিসার্চ এসোসিয়েট- দ্বীন রিসার্চ সেন্টার, – হল্যান্ড
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, আমেরিকান ইসলামিক লিডারশীপ কোয়ালিশন
ক্যানাডা প্রতিনিধি, ফ্রি মুসলিমস কোয়ালিশন
প্রাক্তন ডিরেক্টর অফ শারিয়া ল’ ও প্রেসিডেন্ট, মুসলিম ক্যানাডিয়ান কংগ্রেস
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ৩:৩৫
১০টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

টাই চাই

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩১

সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: অদ্য হইতে কোনো সরকারি বা বেসরকারি কার্যালয়ে ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থানে টাই ও বেল্ট পরিধান দণ্ডনীয় অপরাধ। কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে একবাক্যে: "কর্মক্ষেত্র ও যত্রতত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট জব

লিখেছেন রোদ্র রশিদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:১০



গত পনেরো দিন ধরে নতুন ম্যাডাম ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন। ট্রায়াল ক্লাস। ম্যাডামকে এখনো কলেজে পারমানেন্ট করা হয়নি। উনি খুব একটা খারাপ পড়ান না।

আজকের ক্লাস শেষে ম্যাডামের মন খুব খারাপ।
খুব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দশ বছরের ব্লগিং—মিষ্টি মুখ হোক সবার

লিখেছেন কাওসার_সিদ্দিকী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৯

আজ আমার ব্লগিং যাত্রার দশ বছর দুই মাস পূর্ণ হলো। এই দীর্ঘ সময়ে পাঠকদের ভালোবাসা, মন্তব্য আর সমর্থন আমাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাই আপনাদের সবার সাথে—তাই আজকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×