somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিলোপ

১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আয়েশি ভঙ্গিতে বসে আছেন তিনি । চেহারায় আনন্দের সুস্পষ্ট ছাপ । তিনি মনে মনে আনন্দ ও সুখের পার্থক্য নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন । তার ভাবনায় আনন্দ ক্ষণস্থায়ী আর সুখ দীর্ঘস্থায়ী । এই যে যেমন পুরনো বন্ধুর সাথে দেখা হলে আমরা আনন্দ পাই । তারপর আমরা ঈদের আনন্দ বলি । ঈদের সুখ বলি না কারণ ঈদ স্থায়ী নয় । দুদিন পরে এর আমেজ শেষ হয়ে যায় । কিন্তু সুখ আলাদা জিনিস । এর রেশ সতত বহমান । তাই সহজে একটা মানুষকে আমরা সুখী বলতে পারি না । এই যে এখন তিনি আনন্দিত কিন্তু সুখী নন । তার মেয়ে সাত বছর পর কানাডা থেকে এসেছে । ছেলে ঢাকা থেকে এসেছে চার বছর পর । দুদিন পর তারা চলে যাবে । তারপর আবার একা হয়ে যাবেন তিনি ।
অতীতের অনেক কথা একে একে মনে পড়ছে তার । তখন আহসানের জন্য পাত্রী দেখছিলেন । তিনি ছেলেকে বললেন , আমার প্রথম নাতিকে হাফেজ বানাব । এই কথা শুনে ছেলে তার বাড়ি থেকে উধাও । তার খালার বাসায় গেছে । খালা ফোন করল , কী দুলাভাই আহসানকে কি বলেছেন এসব । নাতিকে হাফেজ বানাবেন মানে । এই যুগে এসে এই চিন্তা কেউ করে । ও তো একটা মেয়েকে পছন্দ করে । তারপর আর কোন কথা নেই , পরের দিন একটা মেয়েকে নিয়ে হাজির । বিয়ে করে এসেছে । খালাকে নিয়ে এসেছে সমঝোতাকারী হিসেবে । ঘটনাটিকে আর বড় করেন নি তিনি । আহসানের ছেলে এখন ইংলিশ মিডিয়ামে কাস সেভেনে পড়ে । এই নাতি সারা বাড়ি সরব করে রেখেছে । বাড়ির বুয়া থেকে শুরু করে গরু ছাগল সবাইকে হাই হাই করছে । কানে একটা ইয়ার ফোন নিয়ে হাত পা নাচাচ্ছে । কখনো মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে গরু ছাগল , হাস মুরগির ছবি তুলছে । আর তার মেয়ের ও একটা ছেলে । এই নাতির নাম টমাস । কি বিদঘুটে নাম । তিনি ভাবছেন তাকে টমেটো বলে ডাকবেন টমাস ভাল করে বাংলা বলতে পারে না । দাদাকে সে বলছে হেই গাই ।
আগামীকাল পহেলা বৈশাখ । এমন উৎসবের আগে তার ছেলে মেয়ে এসেছে তার বেশ ভাল লাগছে । তার পৌহিত্র জেসি পাশে আসল । তার হাতে একটা কাগজ । সেখানে লেখা শুভ নববর্ষ ।
- হাই দাদু এই দেখ শুভ নববর্ষের নিচে সালটা লিখব । কালকে কত সাল পড়বে ?
শহিদুল সাহেব অবাক হলেন । কালকে বাংলা কত সাল পড়বে তা নাতি জানে না ? তারপরও তিনি হাসি ভরা মুখে বললেন , কেন দাদু তুমি এটা জান না ?
- না দাদু । এটা তো জানার প্রয়োজন পড়ে না । সবখানে তো ইংরেজি তারিখ লেখি ।
- কাল কে বাংলা কোন মাস পড়ছে এটা জান তো ?
- হুম জানি । বৈশাখ মাস ।
- বাংলা বার মাসের নাম বলতে পার দাদু ?
- এটা পারব না কেন ! তবে বাংলা তারিখ বলতে পারি না । বাদ দাও তো । কোন সাল এটা বল । আব্বু বলল তোমার কাছে জানতে ।
- আচ্ছা যাও লিখ ১৪১৭ ।
বেশ লজ্জায় পড়লেন তিনি । অবশ্য নাতিকে দোষ দিয়ে কি করবেন তিনি ? আমাদের দেশটাই তো এমন । আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় ২১ ফেব্র“য়ারী । অথচ এটা পালিত হওয়া উচিৎ ছিল ৮ ফাল্গুন । শূধু পহেলা বৈশাখের দিনটি মনে রাখে সবাই । অন্য সময় তারিখ কেন মাসের নামটা বলতে পারে না অনেকে । অনেকেই তো সালটাই জানে না । যেমন তার নাতিই জানে না ।
গ্রামের স্কুল মাঠে বিরাট মেলা বসবে কাল থেকে । এবার সার্কাস এসেছে । কাল নাতিদের নিয়ে মেলায় যাবেন । ছোট বেলার কথা মনে পড়ল তার । বন্ধুদের কথা মনে পড়ল । নিয়াজ , ফজলু, রফিকদের কথা মনে পড়ল । তিনি জেসিকে ডাকলেন মান্না দের কফি হাউজের আড্ডা গানটা শুনবেন বলে । কিন্তু এবার আরো লজ্জায় পড়লেন । নাতি বলল , মান্না দে আবার কে ? দাদু আমি তো লিংকিং পার্ক , বোম্বে ভাইকিংস এদের গান শুনি । এবার তিনি মেয়েকে ডাকলেন । শুটকি আর ইলিশ মাছ আনা দরকার । কাল সকালে তো পান্তা খাওয়া হবে । আর কি কি লাগবে জানা দরকার । বকুলকে বাজারে পাঠাতে হবে । মেয়ে বলল , আব্বা কি বলছেন এসব টমাস তো এগুলো খাবে না । শুটকির গন্ধ পেলে ও বমি করবে । আমরা ঠিক করেছি সবাই মিলে একটা চাইনিজ রেস্টুরেন্টে যাব । এখানে নাকি এখন বেশ কয়েকটা চাইনিজ রেস্টরেন্ট হয়েছে ।
- কেন তোরা মেলায় যাবিনা ?
- মেলায় কেন ? ওখানে তো শুধু ধুলা ধুলা আর ধুলা। তাছাড়া তোমার জামাই এসব পছন্দ করে না । এসব গ্রাম্য মেলায় গিয়ে কি করব ?
- ও আচ্ছা । ঠিক আছে তুই যা ।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন তিনি । বুকের গভীর থেকে আসা সে দীর্ঘশ্বাস বাতাসে মিলিয়ে গেল । এমনি করে সবকিছুই যেন মিলিয়ে যাচ্ছে । ক্ষণস্থায়ী আনন্দটুকু নিমিষে উবে গেল ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ১:১৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×