somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাম্পার ফলনেও কৃষক হতাশায়!!!

০১ লা জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।”
রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণীর স্মরণীয় পংক্তিটি আজ নিরাশায় রুপান্তর হয়েছে। বাংলাদেশের কৃষকের মুখে হাসি নাই, মাঠে বাম্পার ফলন, ধানের বাইল দেখলে মন জুড়িয়ে যায়, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা থাকায় সেচের কোন সমস্যা হয়নি, ছিল কীটনাশক ও সারের সঠিক সরবরাহ, সব কোম্পানী ও সরকারী বীজের মানও ছিল চমকপ্রদ। আবহাওয়াও ছিল অনুকুল। তবুও মনে সুখ নেই কৃষকের। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকের উৎপাদন খরচ উঠছে না। ঘিওর উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলাপনগর গ্রামের মোহাম্মদ বারেক বলেন, “ এখন জমি বিক্রি করা ছাড়া কোন উপায় নাই। নতুন ধান বিক্রি করছি ৫৫০ টাকা মণে। এ ধান জমিতে চাষ করতে বীজ, সেচ, সার, ডিজেল, কীটনাশক, শ্রমিকসহ প্রতি মন উৎপাদন খরচ হয়েছে ৭৫০ টাকা। যদি এই দাম থাকে, তাহলে আগামীতে আর কেউ ধান চাষ করবে না।” কৃষক অহিদুল ইসলাম টুটুল জানান, “সরকার কর্তৃক সরবরাহকৃত গভীর নলকুপ সমবায় সমিতির মাধ্যমে নিয়ে ১০০ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ করি, কিন্তু অন্যান্য খরচসহ প্রতি মন ধানের দাম প্রায় ১০০০ টাকা পড়েছে। বাজারে এখন সর্বোচ্চ দাম ৬০০ টাকা মন। সামনের বছর গভীর নলকুপটি চালাবো কিনা ভেবে কোন কুলকিনারা পাচ্ছিনা। আর কত লোকসান দিয়ে আমরা টিকে থাকবো। এদিকে ৫০০ টাকার নিচে কোন শ্রমিক পাওয়া যায় না। মনে হচ্ছে গৃহস্তগিরি বাদ দিয়ে শ্রমিক হওয়া ছাড়া কোন উপায় নাই।” এত গেল ধানের অবস্থা। মরিচ চাষীদের তো মাথায় হাত। জমিতে মরিচ আর মরিচ। জমি থেকে এসব কাঁচা মরিচ তুলে কৃষকেরা বিক্রির জন্য নিচ্ছেন পাশের বরংগাইল হাটে। হায়!! মরিচের প্রচুর আমদানি। কৃষক ক্ষেত থেকে তুলে বস্তায় ভরে ভ্যান ভাড়া দিয়ে নিয়ে এসেছেন এই হাটে। আড়াই টাকা কেজি দরে দাম মাত্র ১০০ টাকা মণ। যা ক্ষেত থেকে তুলতেই শ্রমিকরা নিয়েছে ৩ টাকা কেজি। মনের দুঃখে কৃষক আব্দুর রহমান মরিচ তুলা বন্ধ করেছে। এদিকে কাঁচা মরিচ পেকে যাচ্ছে। মরিচে মাথা ভার হয়ে গাছ মাটিতে নুইয়ে পড়ছে। কিন্তু মরিচ তুলে বাজারে নেওয়ার সাহস হচ্ছে না কৃষকের। আব্দুর রহমান আরো জানান, “১ একর মরিচের জমিতে আশি হাজার টাকা খরচ পড়েছে কিন্তু মনে হয় দশ হাজার টাকার মরিচও বেচতে পারব না।” ধান ও মরিচের দাম না পাওয়া কৃষক দিশেহারা। কেউ তাদের দেখার নেই। কাগজে কলমে সরকার ৮৫০ টাকা মন দরে ধানের দাম ধরেই যেন তাদের দায় শেষ করেছে। স্হানীয় গুদাম কর্মকর্তারা কৃষক হতে ধান কিনছে না। যখন কিনবে তখন আর কৃষকদের কাছে ধান থাকবে না, তা চলে যাবে মজুতদারদের হাতে। রাজনৈতিক নেতাদের সহায়তায় এই মজুতদাররা গুদাম কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশে ঠিকই প্রতি মণ ৮৫০ টাকা দরে ধান গুদামে সরবরাহ করবে। মাঝে সরকারের এই অতিরিক্ত টাকা গেল মজুতদার, চাতাল মালিক, গুদাম কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের হাতে। এভাবেই কৃষক আজ দিনে দিনে পথে বসছে। সরকারের খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ভবিষ্যতে হুমকির মুখে পড়বে আর বাংলাদেশ আবার খাদ্য আমদানীকারক দেশে রুপান্তরিত হবে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে কৃষকদের জমিতে চাষাবাদ বাদ দিয়ে শহরে এসে শ্রমিক হওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৫ রাত ৮:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×