আমার ক্লাসমেট, পাশের হলে থাকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাড়াতাড়ি আমরা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্সএ করে প্রায় ৩০ কিমি. দুরে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। সিট পেলামনা মেঝেতে রাখতে হবে আপাতত, নার্স এসে স্যালাইন দিয়ে গেছে আমি পাশে বসে আছি, বকিরা চলে গেছে একঘন্টার মধ্যে সবার চলে আসার কথা যদিও আমি জানি কয়েকদিন পর আমাদের ফাইনাল পরিক্ষা, পায়চারি করছি আর দেখছি ও জেগেওঠে কিনা, কত ধরনের অসুস্থতা নিয়েই না মানুষ হাসপাতালে আসে,আমাদের পাশে বয়স্ক একজন রুগী এসেছেন সাথে একজন মহিলা পরে জানলাম তিনি তার ছেলের স্ত্রী,আমার পাশেই তারা বিছানা করছেন, জিজ্ঞেস করতেই বল্লেন তার স্বশুর কে ঢাকার হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়েছে তিনি ক্যানসারএ ভুগছেন। বাসায় আনার পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে কিন্তু ছিট নেই তাই মেঝেতে। বৃদ্ধ লোকটি আস্তে আস্তে চোখ মেলছেন বুঝতে পারলাম তিনি পরিচিত জনদের খুজছেন, মহিলাটি তিনি কিছু খাবেন কিনা জিজ্ঞাস করে ডাক্তার আনতে গেলেন।আমি বৃদ্ধ লোকটির দিকে তাকিয়ে আছি তিনি আমার দিকে হাত বাড়ালেন বুঝতে পারলাম তিনি আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছেন, আমি তার হাত ধরে বল্লাম আল্লাহতালা আপনাকে নিশ্চই সুস্হ করে দিবেন,তিনি কথাবলার চেষ্টা করছেন কিন্তু গলা থেকে শব্দ বের হচ্ছেনা চেষ্টা করে যাচ্ছেন, আমি বুঝতে পেরে বল্লাম আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি।আসলে তার গলায় ক্যানসার হয়েছে তিনি খেতেও পারতেন না।আমি তার হাত ধরে কথা শুনছি ,মাথা নাড়ছি যদিও কিছু বুঝতে পারছি না...তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন কথা বলতে বলতে, তখনও আমার হাতটা ধরে আছেন আর আমি ভাবছি এই বৃদ্ধ লোকটিও একসময় সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন, হাসতেন, খেলতেন কতইনা সতঃস্ফুর্ত জীবন যাপন করেছেন কিন্তু সময় তাকে কতইনা অসহায় করে দিয়েছে...এখন এক অচেনা মানুষের কাছে সস্তি খুজছেন ।কতই না ভাল হত যদি আমি সবাইকে সস্তি দিতে পারতাম!...ঐ দিন আর কেউ আসেনি অনেক রাত পর্যন্ত হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


