এত কম বেতনে সরকারী চাকরি মানুষ কেন করে এ রকম মৌলিক প্রশ্ন নিয়েই মাঝে মাঝে সরকারী চাকরির পরীক্ষা দিতাম আর ভুল ভাংত পরীক্ষার হলে গিয়ে এত পরীক্ষার্থী দেখে!!! দুটি পদের জন্য ৪০০ পরীক্ষার্থী বা চারটি পদের জন্য ৫৪০ জন পরীক্ষার্থী!!! এরা কি জানে না?...যদিও আমি নিজে জয়েন করেছি ননক্যাডার একটা পদে!!! বেতন পাই আগে যে চাকরিটা করতাম তার অর্ধেক!!! যদিও নিজেকে মাঝে মাঝে সান্তনা দেই এই বলে যে আমি আমার পড়াশোনার সাবজেক্ট অনুযায়ী চাকরি করছি, প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তা সত্যায়িত করতে পারি, চারিত্রিক সনদ দিতে পারি!!! আর মনে মনে হাসি কারন বেতনের দিনে এ সান্তনায়ও কাজ হয়না...যদিও আল্লাহতালাকে ধন্যবাদ জানাই অনেকেইত এটা পায়নি।
যাইহোক এবার আসল কথায় আসি। হয়ত সবাই জানে এ নিয়ম গুলো কিন্ত আমি যখন সরকারী চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ের মধ্যদিয়ে যাচ্ছিলাম তখন আমাকে আসল তথ্যগুলো দেওয়ার মত তেমন কাউকে পাইনি বা অনেক বিভ্রান্তি মুলক তথ্য পেয়ে অযথা সময় নষ্ট করেছি দুশ্চিন্তায়ও ভুগেছি।এজন্যই এধরনের একটি পোষ্ট দিতে ইচ্ছা করছিলো অনেকদিন ধরে যদি কারো উপকার হয় কিন্ত ধৈর্য ধরে লেখা অনেক কষ্টের, অন্যের লেখা পড়া কতইনা সহজ!!!
চাকরির বিজ্ঞপ্তি:
সরকারী চাকরির বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার সবচেয়ে ভাল উপায় সরকারী কর্মকমিশনের ওয়েবসাইটএ যাওয়া যদিও এখানে শুধুমাত্র গেজেটেড পোষ্টগুলোর বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যাবে, অন্যান্য বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার জন্য দৈনিক পত্রিকায় চোখ রাখা। সবচেয়ে বেশি সরকারী চাকরির বিজ্ঞপ্তি ইত্তেফাকে পাওয়া যায়, শুধুমাত্র চাকরীর বিজ্ঞপ্তির জন্যও পত্রিকা আছে।এছাড়া কিছু ব্লগও আছে যারা বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকার সরকারী চাকরির বিজ্ঞপ্তি গুলো প্রকাশ করে।
ফর্ম সংগ্রহ:
সোনালী ব্যাংকের কর্পোরেট শাখায় ফর্ম গুলো পাওয়া যায়, কেনার আগে দীর্ঘ লাইনে দাড়ানোর পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। তবে প্রথম শ্রেনীর পদগুলোর জন্য একজন ব্যাংক কর্মকর্তা থাকেন যিনি ঐ ফর্ম বিক্রি করেন তাকে খুজে বের করা যদিও একটু জিগ্যাসা করলেই পাওয়া যায়। ফর্ম কেনার সময় খুব গুরুত্বপূর্ন একটা বিষয় হল ফর্মকেনার রসিদ, দুটি রসিদ দেওয়া হয় যার একটা নিজের কাছে রাখার জন্য যা মৌখিক পরীক্ষার সময় অবশ্যই দেখাতে হবে না দেখালে মৌখিক পরীক্ষা গ্রহন করা হবে না এ ব্যাপারে খুব সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত,আমার সাথে একজন মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসেছিল কিন্ত তিনি এটা না আনার কারনে তার মৌখিক পরীক্ষা নোওয়া হয়নি। এর পর দ্বিতীয় রসিদটি ফর্মএর সাথে পাঠাতে হবে এটা না হলেও একই অবস্থা (আসলে বাদ দেওয়ার ফন্দি)। ফর্ম কেনার সময় ফর্মের দাম ছাড়াও সরকারী কোষাগারে টাকা জমা দিতে হয় যা চালান (ফটোকপির দোকানে পাওয়া যাবে), ব্যাংক ড্রাফট (ব্যাংকে পাওয়া যাবে ) বা পোষ্টাল অর্ডার (পোষ্ট অফিসে পাওয়া যাবে) মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়। মোটামুটি ভাবে যে টাকা দিয়ে আপনি পড়াশোনা শেষ করেছেন তার কাছাকাছি পরিমান অর্থ চাকরির দরখাস্ত করা বাবদ খরচ হবে বলে আশা করতে পারেন!!! একজন বেকারের জন্য এটা খুবই মর্মান্তিক।
ফর্ম জমা:
ফর্ম জমা দেওয়ার সময় খেয়াল রাখা যেন বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সকল কাগজপত্র যেন থাকে, শেষ তারিখের কম পক্ষে ৬ দিন পূর্বে পাঠানোর চেষ্টা করা। সরকারী ডাক ব্যাবহার করলে GEP করতে পারেন।
মৌখিক পরীক্ষা, স্বাস্থ পরীক্ষা, পুলিশ ভেরিফিকেশন, আ্যপয়েনমেন্ট লেটার প্রাপ্তি, যোগদান প্রকৃয়া, প্রথম মাসের বেতন তোলার প্রকৃয়া ও কিছু ঘুষ...এরকম বিষয়গুলো জড়িত সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে এ বিষয় গুলো নিয়ে লিখব আসা করছি...সরকারি চাকরি পাওয়া যেমন কঠিন যাওয়াও নাকি তেমন কঠিন---এক মুরুব্বির কথা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


