somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাবার যত চিন্তা মেজ ছেলেকে নিয়ে

১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক রকম জোর করেই বাবা আমাকে বিদেশের মাটিতে পাঠিয়েছিলেন। আসার দিন বাবার মুখে ছিল বিজয়ের চিহ্ন, আর মায়ের মুখে ছিল অশ্রুসজল স্বান্তনা। বুকে জড়িয়ে যখন ধরেছিলেন তখন বাবা হেসে বলেছিলেন, কোদো না, সাহসী হও। মা কাদতে কাদতে বলেছিলেন, একদম কাদবে না। ছোট ভাই বেদনাক্লিষ্ট হাসি দিয়েছিল, আমি পারিনি। আমরা দুজন ছিলাম বন্ধুর মত। বয়সে প্রায় তিন বছরের ব্যবধান কিন্তু একসাথে এদিক সেদিক ঘুরতাম, আড্ডা দিতাম। সবাই অবাক হত, ইর্ষাও করত।

আজ প্রায় তিন বছর পর, গভীর রাতে ঘুমের মধ্যে ঢুকরে কেদে উঠলাম, বাবা বলে। কিছুদিন আগে বাবার অপারেশন হয়েছিল দেখতে গিয়েছিলাম, পনের দিনের ছুটি নিয়ে। খুশিতে বাবা কেদেছিলেন।

প্রতিবছর যখন পরীক্ষার রেজাল্ট দিত, ঘরের মধ্যে বিপরীত দুটো চিত্র দেখা যেত। আমার বড় এবং ছোট ভাই দুজনেই সদা সর্বদা এক থেকে তিনের মধ্যে থাকত আর আমি এক থেকে তিনটা পর্যন্ত বিষয়ে ফেল করে ঘরে ঢুকতাম। অংক, ইংরেজী ফার্স্ট পেপার এবং সেকেন্ড পেপার। বড় এবং ছোট ভাইকে আদর আর আমার জন্য অপেক্ষা করত বকঝকাসহ লম্বা লেকচার।

প্রাইমারি সমাপনীতে অবশ্য আমি ভাল করেছিলাম। আমার পজিশন ছিল ছয় নাম্বারে। বাবা খুশি হয়েছিলেন।এর পর ক্লাস সিক্স থেকে শুরু হল ফেলের অগ্রযাত্রা।

প্রতিবছর প্রথম সাময়িক এবং ২য় সাময়িকে ফেল করতাম। আর বার্ষিকে পাস করে পরের ক্লাসে উঠতাম। আর ফেল করা ছাত্রদের মধ্যে আমি প্রথম হতাম কেননা আমার মোট নাম্বার অনেকটা ক্লাসের ষষ্ঠ, সপ্তম এদের কাছাকাছি হত। এভাবে ক্লাস টেন পর্যন্ত উঠলাম।
বাবা প্রায়ই বলতেন বড় এবং ছোট ছেলেকে নিয়ে তার কোন চিন্তা নেই। যত চিন্তা মেজ ছেলেকে নিয়ে।

এস এস সির টেস্ট পরীক্ষা ঘনিয়ে এল বাবা মায়ের মুখে আতংক।
মা তো সবসময় দোয়া করতেন আমার পাশের জন্য। সেটা আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক ছিল। যাই হোক টেস্ট পরীক্ষায় অংক, ইংরেজী দুটোতেই পাশ করলাম টেনেটুনে। আর পাশের সাথে ফার্স্টও হলাম মানবিক বিভাগ থেকে।

আমার সহপাঠীদের মধ্যে যারা ভাল ছাত্র ছিল তাদের অনেকেই দোয়া করত যেন আমি অন্তত একটা বিষয়ে ফেল করি।

কেননা মোট নাম্বারে তার আমার পিছে থাকবে এটা নিশ্চিত ছিল। আমি যদি কোন একটা বিষয়ে ফেল করি তবে তাদের রোল নাম্বার আমার আগে হবে এ কারনেই তারা আমার ফেলের জন্য দোআ করত।
টেষ্ট পরীক্ষার পর তাদের বললাম ভাই, এখন তো আর রোল নাম্বারের বিষয় নেই, এতএব আমার জন্য দুআ কর, বদদোয়া করবে না।
এস এস সি পরীক্ষার প্রথম দিন

ফজরের সময় বাবার দোআর শব্দে ঘুম ভেঙে গেল।

বাবা দুআ করছেন" হে আল্লাহ আমার ছেলেটা যেন পরীক্ষায় পাশ করে" আরো অনেক দুআ করলেন।
শোয়া থেকে উঠলাম, উঠে দেখলাম আম্মু জায়নামাজে, তিনিও দুআ করছেন।
যাহোক, ছয় মার্কের জন্য এস এসসিতে স্টার মার্ক পাইনি।


বাবার কঠোররূপটাই বরাবর আমার সামনে থাকত্ । কিন্তু পরে লক্ষ্য করেছি, মূলত বাবা মায়ের থেকে বেশী নরম। কিন্তু আমার বিষয়ে তিনি একটু বেশীই কঠোরভাব দেখাতেন কেননা তিনি মনে করতেন যে আমাকে নরমভাব দেখালে আমি কথা শুনব না। ছোট বেলা থেকেই আমি একটু ঘাড় ত্যাড়া প্রকৃতির।

সম্ভবত জগতের সকল মেজ সন্তানই এরকম। বাবা চাইতেন আমাকে পরিবর্তন করে আমার প্রতি ভালবাসা দেখাতে আর আমি চাইতাম আমার অবস্থাতেই আমাকে বাবা ভালবাসা দেখাক যেমন মা দেখাতেন । আমি আসলে জেদ করে জিততে চাইতাম , যা ছিল প্রকৃতপক্ষে আমার হার।

আজ গভীর রাতে ঘুম ভেঙে গেলে, হাজার মাইল দূর থেকে শব্দহীনভাবে বাবাকে বললাম, সরি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রবাদ প্রবচন ও আলী ভাইয়া, জী এস ভাইয়া, খায়রুলভাইয়া ও সত্যপথিকভাইয়াদের পোস্ট..... এই আমি অপ্সরা

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২২


এই অপ্সরা শুধু একটা নিকই না। জীবনের একটা অংশের নাম। জীবনটা শুরু হয়েছিলো যবে থেকে তার পর ৫/৬ বছর থেকেই জীবনের নানা ক্ষনের নানা মানের উদ্দেশ্য বিধেয় ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×