চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রথম বর্ষের একটি ঘটনা,
.
তখন কলেজে ছেলেদের জন্য কমন রুম ছিল না, তো কমন রুমের জন্য অধ্যক্ষ বরাবর একটি এপ্লিকেশন করে উদ্যোক্তার ভাব নিয়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ত্রিশ জনের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি দরখাস্ত নিয়ে স্যারের রুমের আশেপাশে ঘুরছি, স্যার নেই ! পাচ্ছি না ! অবশেষে স্যারকে খুজে পেলুম মানবিকের ক্লাশ নিয়ে বের হয়ে বারান্দা দিয়ে যাচ্ছে তো স্যারকে পেয়ে সোনার হরিণ পেয়েছি ভেবে দৌড়ে গিয়ে দরখাস্তটি দিলাম ৷ স্যার একটু চোখ বুলিয়ে আমার ডান গালে যে থাপ্পড় দিয়েছিলেন তার আঙ্গুলের দাগ তিনদিন বসে ছিল কেন বাহিরে এপ্লিকেশন দিলাম ! তারপর টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ছুড়ে ফেলে দিলেন দরখাস্তটি
.
.
কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একটি ঘটনা,
.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র রঙ্গিন ট্যাবলয়েড 'আমার ক্যাম্পাসের' সাথে যুক্ত হয় ৷ একে একে নিউজ করতে থাকি ৷ পত্রিকার বিশ শতাংশ নিউজ সাথে তিনটি পেইজের সম্পাদনার দায়িত্ব আমার থাকত ৷ স্কুল এবং কলেজ নিয়ে তিন চারটা নিউজ ও করলাম, টনক নড়ল দুর্নীতি নিয়ে করা একটি নিউজকে ঘিরে ৷ স্বয়ং ভিসি মিটিংয়ে বসলেন, দশজন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বাতিলের সাথে গার্ডিয়ানদের দুটি করে ইনক্রিমেন্ট বাতিলের সিন্ধান্ত নিলো সাবেক ভিসি
.
.
তারপর থেকে স্যার আমাকে বাবা বাবা বলে ডাকে যেন আমি কলেজের সেরা স্টুডেন্ট, দেখা হলে এখনো চরম স্নেহ করে, সেদিন সাত বছর পর কলেজে গিয়েছিলাম, জামাই আদরের রেশ এখনো পরিলক্ষিত করলাম, স্যারকে আমিও ভালবাসি
.
.
"কিন্তু যখন তুমি কেবলি 'আবদুর রব শরীফ' ছিলে তখন তোমার গালে কেবলি চড় থাপ্পড় জুটেছিল !"
.
.
এটি পৃথিবীর কঠিন বাস্তবতা ৷ অতীত থেকে শিখতে হয় চান্দু ! ট্রায় টু চেঞ্জ ইয়ুর সেলফ ৷ যখন 'ইয়ু আর নো বডি' কেউ তোমাকে মূল্যায়ণ করবে না ইট ইজ দি রুল অব দি ওয়ার্ল্ড ৷
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




