আমার কিছু ভালো দিক আছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো একটি গুণ আছে সেটি হলো মানুষ খাওয়ার টাইম নাই!
.
সে যে ই হোক! হতে পারে সে আমার অনেক নিকট আত্মীয়! আমার যদি কখনো মনে হয় সে আমাকে অবজ্ঞা করেছে! মূল্যায়ণ করেনি! তারপর আমি শুধু মনে মনে বলি, নো খাইলাম তোমারে!
.
এটা ভীষণ শক্তি! যা আমাকে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা দেয়!
.
আমি জানি আমি কে! কি পরিমাণ শক্তি আমার মধ্যে আছে! আই এম সুপার পাওয়ার! আমাদের সবার মধ্যে সুপার পাওয়ার আছে!
.
২০০০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে ব্রিলিয়ান্টরা যখন পঞ্চম শ্রেণি বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন জাপানের হোন্ডা কোম্পানি 'আসিমো' নামক এক রোবট জনসম্মুখে নিয়ে আসে!
.
১৯৮০ সাল থেকে ২০০০ সাল দীর্ঘ বিশ বছর গবেষণা করে তারা এটি বানিয়েছিলো! তখন সে শুধু হাটতে পারতো!
.
নিউজটা শুনে ভাবছিলাম, এতো বছর লাগে! জাপান আমার বন্ধুদের ভাড়া করে নিয়ে গেলে দুই বছরে কাজ হয়ে যেতো! তাদের এতো ব্রিলিয়ান্ট মনে হতো আমার! বৃত্তি পরীক্ষা দিচ্ছে! ভাবা যায়!
.
আমাদের সময় বৃত্তি পরীক্ষা ছিলো! জীবনে অনেক স্বপ্ন ছিলো বৃত্তি পরীক্ষা দিবো! কিছু টাকা পাবো! বিস্কুট আচার চকলেট খাবো পেট ভরে! কিন্তু মার্কস ছিলো না বলে সেই চান্স হয়নি!
.
আসিমো তৈরীর উদ্দেশ্য ছিলো, 'মানুষের মত তৈরী করে মানুষকে সাহায্য করা ৷'
.
ASIMO যার পূর্ণরুপ হচ্ছে "Advanced Step in Innovative mobility" মানে সে সামনে অগ্রসর হবে! আরো এক যুগ পেরিয়ে গেলে সে নাকি এখন দৌড়াতেও পারে! ঘন্টায় ছয় কিলোমিটার বেগে দৌড়ায়!
.
হালার আমি ১৯৯০ সালে জন্মগ্রহণ করে ২০০০ সালে রীতিমতো ডাব চুরি করে খেতে পারি! জন্ম নেওয়ার কিছুক্ষণ পর গরুর বাচ্চা কয়েক কিলোমিটার বেগে দৌঁড়াতে পারে! সেখানে আসিমো মাত্র হাত নাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে চা সরবরাহ করে! যুগ পেরিয়ে দৌঁড়াতে শিখেছে!
.
যখন শুনি এখন পর্যন্ত এটাই সেরা যন্ত্রমানব যে কিনা হাটা দৌঁড়ানো চা দেওয়া টুকিটাকি কাজ ছাড়া কিছু করতে পারে না! এই বুদ্ধি নিয়ে আসিমো ভাই ডাব চুরি করতে গেলে কি হবে সেটা ভাবছি!
.
যদিও ২০১৪ সালে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে সে ফুটবল খেলে প্রেসিডেন্টকে মুগ্ধ করেছিলো! কয়েক ঘন্টা পর যদিও চার্জও শেষ হয়ে গিয়েছিলো!
.
আমেরিকান কোম্পানি বস্টন ডায়নামিক্স এমন আরো একটি রোবট বানিয়েছিলেন যার নাম পেটম্যান! সে আসিমোর মতো সমৃদ্ধ নয়! তবে এর পরে তারা নিয়ে আসে আরো আপডেট রোবট 'এটলাস!'
.
ফ্রেঞ্চ কোম্পানি আলডেব্রান অনেক বছর সাধনা করে বানিয়েছিলেন রোবট 'নাও!'
.
সেরা রোবটগুলোর কেউ ৫২ টি এঙ্গেলে অঙ্গভঙ্গি করতে পারে! কেউ ২৫ টি এঙ্গেলে! কেউ আরো কম! কিন্তু প্রশ্ন হলো এতো কম এঙ্গেল দিয়ে ডাব চুরি করা কখনো সম্ভব নয়!
.
সুতরাং একজন ডাব চোরা রোবট আবিষ্কার করতে হলে বিজ্ঞানীদের আরো হয়তো কয়েক সহস্র বছর লেগে যেতে পারে! শর্ত থাকবে মালিকের কাছে কোন রকমেই ধরা খাওয়া যাবে না এমন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে!
.
তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার দ্বারা সম্ভব! আমি আপনি কতটা মূল্যবান সৃষ্টি ভাবতে পারেন? এতো এতো মেধা দিয়েছেন আমাদের আল্লাহ তার দশ ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করে নাকি নিউটন আইনস্টাইন পৃথিবী পাল্টিয়ে দিয়েছে!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




