somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আর অসহায়ত্ব নয়:

১২ ই জুন, ২০০৬ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশে আবার রক্ত ঝড়া শুরু হয়েছে। জমিদারের শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারের অবিস্মৃত উন্মাদনা সময়ের সিঁিড় বেয়ে আবার নতুন পোশাকে এখনকার মানুষ ও হূদয়কে রক্তাত্ব করা শুরু করেছে। বিরোধী দলের ঢাকা অবরোধ প্রতিরোধে পুলিশ ও বিরোধী দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় আজকের বাংলাদেশ আবারও রক্তাত্ব। দায় দায়িত্ব কি সব বিরোধী দলেরই? দেশের ভবিষ্যত কি? দেশটা কি কোন দলের নিজস্ব সম্পওি? দেশের পুলিশ বাহিনী কি লাঠিয়াল বাহিনী? শান্তিপূর্ণ ও ইসু্যভিওিক রাজনীতির দেখা কবে পাব?

দৈনিক ইওেফাক জুনের 12 তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, "পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগসহ 14 দলের ডাকে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং সিইসি ও অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে এই কর্মসূচি পালনকালে গোটা ঢাকা মহানগরী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অবরোধ কর্মসূচির নির্ধারিত স্পট ছাড়াও মহানগরী ও এর বাইরে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে 14 দলের নেতা-কমর্ীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওইসব এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অন্ততঃ পাঁচশ' আহত হয়েছে। এরমধ্যে কাঁচপুর ব্রিজের কাছে পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে, কাঁদানে গ্যাসের সেল ও গুলিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অবঃ) কেএম সফিউল্লাহসহ আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক..."।

আজকের ঘটনার পটভূমিতে প্রশ্ন করা সত্যি খুব সহজ। উওর দেওয়া অনেক কঠিন। অনেকের উওর দেয়ার মতো নৈতিক অথবা যৌক্তিক অবস্থানও নেই। বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচী প্রতিরোধে সরকারের পেটোয়া বাহিনীর সাফল্যকে মোবারকবাদ জানাবার মতো ধামা ধরার অভাব নেই। বিরোধী দলের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে কি-না তার উওর সময়মতো জনগণ দিবে। এটা কি জানেন, সময়ের চাকা বড়োই নিষ্ঠুর। গন্তব্যে পৌঁছে দিবে যে কোনভাবেই হোক। সরকারী দল হয়তো তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য নিজেদের অজান্তেই তৈরী করা শুরু করেছে।

দু:খজনক হলেও সত্য যে, নির্বাচন কমিশনকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে স্মরণকালের সেরা অথর্বকে। ভোটার তালিকা প্রণয়নে ও সংশোধনে কোর্টের নির্দেশ মানতে সরকার ব্যর্থ। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে গেছে জামাত ফ্যাক্টরের কারণে। বিরোধী দল যখন জামাতের পাশে বসে কথা বলতে অস্বীকার করেছে তখন সরকারী দল প্রমান করে দিল জামাত ছাড়া তারা কথা বলতে একেবারে অপারগ আর তাদের জোট এতোই নড়বড়ে যে এতে জামাত বেঁকে বসতে পারে। সরকারের পায়ের নীচ থেকে মাটি এতোটাই সরে গেছে যে এখন হলফ করে বলা শুরু করেছে শতকরা 4 ভাগ ভোট পাওয়া দলই তাদের পারিবারিক ভাই বেরাদর।

দোষ সরকারের নয়, দোষ হচ্ছে বিরোধী দলের একগুঁয়েমীর। কারণ, তারা সরকারের ভোট কারচুপির নীল নকশাকে নীরবে মেনে নিচ্ছে না। দোষ যারই হোক, সাধারণ জনগণ এধরণের অসহায় অবস্থার নীরব দর্শক আর কতোদিন হবে? পেটোয়া বাহিনী জনগণের তীব্র প্রতিরোধে অসহায় হয়ে পালাতে শুরু করলে কিন্তু তারা আবারও ঢিলের বদলে ফুল নেয়া শুরু করতে পারে। সরকারী দলের জন্য তা কোনভাবেই মঙ্গল আনবে না। লেজেহোমো এরশাদের পতনের সময় মতিঝিলের আল্ল্লাহওয়ালা বিল্ডিং যথেস্ট মজবুত ছিল না জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে। আর এখনকার হাওয়া বাতাসের উপর নির্মিত ভবন তারচেয়েও অনেক বেশী ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে যখন রক্তের দাগ দেখে ঘরের মানুষগুলো বাইরে আসতে শুরু করবে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৬

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।
--------------------------
আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ আগে ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় পরে। এই দেশে মোল্লা, পুরোহিত, সাধু, বাউল, ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, চামার, মুচি সকলেই সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন ২০২৬

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইশো নয় আসন নিয়েও কেন অন্যদের বাসায় যেতে হচ্ছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×