দেশে আবার রক্ত ঝড়া শুরু হয়েছে। জমিদারের শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারের অবিস্মৃত উন্মাদনা সময়ের সিঁিড় বেয়ে আবার নতুন পোশাকে এখনকার মানুষ ও হূদয়কে রক্তাত্ব করা শুরু করেছে। বিরোধী দলের ঢাকা অবরোধ প্রতিরোধে পুলিশ ও বিরোধী দলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় আজকের বাংলাদেশ আবারও রক্তাত্ব। দায় দায়িত্ব কি সব বিরোধী দলেরই? দেশের ভবিষ্যত কি? দেশটা কি কোন দলের নিজস্ব সম্পওি? দেশের পুলিশ বাহিনী কি লাঠিয়াল বাহিনী? শান্তিপূর্ণ ও ইসু্যভিওিক রাজনীতির দেখা কবে পাব?
দৈনিক ইওেফাক জুনের 12 তারিখের প্রতিবেদনে বলা হয়, "পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগসহ 14 দলের ডাকে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং সিইসি ও অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে এই কর্মসূচি পালনকালে গোটা ঢাকা মহানগরী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অবরোধ কর্মসূচির নির্ধারিত স্পট ছাড়াও মহানগরী ও এর বাইরে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে 14 দলের নেতা-কমর্ীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওইসব এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষে পুলিশ-সাংবাদিকসহ অন্ততঃ পাঁচশ' আহত হয়েছে। এরমধ্যে কাঁচপুর ব্রিজের কাছে পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে, কাঁদানে গ্যাসের সেল ও গুলিতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সাবেক সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল (অবঃ) কেএম সফিউল্লাহসহ আহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক..."।
আজকের ঘটনার পটভূমিতে প্রশ্ন করা সত্যি খুব সহজ। উওর দেওয়া অনেক কঠিন। অনেকের উওর দেয়ার মতো নৈতিক অথবা যৌক্তিক অবস্থানও নেই। বিরোধী দলের অবরোধ কর্মসূচী প্রতিরোধে সরকারের পেটোয়া বাহিনীর সাফল্যকে মোবারকবাদ জানাবার মতো ধামা ধরার অভাব নেই। বিরোধী দলের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে কি-না তার উওর সময়মতো জনগণ দিবে। এটা কি জানেন, সময়ের চাকা বড়োই নিষ্ঠুর। গন্তব্যে পৌঁছে দিবে যে কোনভাবেই হোক। সরকারী দল হয়তো তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য নিজেদের অজান্তেই তৈরী করা শুরু করেছে।
দু:খজনক হলেও সত্য যে, নির্বাচন কমিশনকে নির্লজ্জভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে। নিয়োগ দেয়া হয়েছে স্মরণকালের সেরা অথর্বকে। ভোটার তালিকা প্রণয়নে ও সংশোধনে কোর্টের নির্দেশ মানতে সরকার ব্যর্থ। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা ভেস্তে গেছে জামাত ফ্যাক্টরের কারণে। বিরোধী দল যখন জামাতের পাশে বসে কথা বলতে অস্বীকার করেছে তখন সরকারী দল প্রমান করে দিল জামাত ছাড়া তারা কথা বলতে একেবারে অপারগ আর তাদের জোট এতোই নড়বড়ে যে এতে জামাত বেঁকে বসতে পারে। সরকারের পায়ের নীচ থেকে মাটি এতোটাই সরে গেছে যে এখন হলফ করে বলা শুরু করেছে শতকরা 4 ভাগ ভোট পাওয়া দলই তাদের পারিবারিক ভাই বেরাদর।
দোষ সরকারের নয়, দোষ হচ্ছে বিরোধী দলের একগুঁয়েমীর। কারণ, তারা সরকারের ভোট কারচুপির নীল নকশাকে নীরবে মেনে নিচ্ছে না। দোষ যারই হোক, সাধারণ জনগণ এধরণের অসহায় অবস্থার নীরব দর্শক আর কতোদিন হবে? পেটোয়া বাহিনী জনগণের তীব্র প্রতিরোধে অসহায় হয়ে পালাতে শুরু করলে কিন্তু তারা আবারও ঢিলের বদলে ফুল নেয়া শুরু করতে পারে। সরকারী দলের জন্য তা কোনভাবেই মঙ্গল আনবে না। লেজেহোমো এরশাদের পতনের সময় মতিঝিলের আল্ল্লাহওয়ালা বিল্ডিং যথেস্ট মজবুত ছিল না জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে। আর এখনকার হাওয়া বাতাসের উপর নির্মিত ভবন তারচেয়েও অনেক বেশী ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে যখন রক্তের দাগ দেখে ঘরের মানুষগুলো বাইরে আসতে শুরু করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

