দেশের বাইরের ছবিগুলো দেখলে আমরা সবাই খুব অভিভূত হয়ে যাই। কিন্তু বাংলাদেশে এসে এখানকার জীবন আর ছবি দেখে একজন বিদেশীর কেমন লাগে তা জানার খুব একটা সুযোগ আমাদের হয় না। সেদিন গুগল নিউজে বাংলাদেশে পীস কোরে কর্মরত এক ভলেন্টিয়ার জন রসবেরীর স্মৃতিচারণ নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আমার চোখে পড়ল।
মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ক্যান্টাকী অঙ্গরাজ্যের অধিবাসী রসবেরী বাংলাদেশে থেকে দু'মাস আগে ফিরে গেছেন আমেরিকায়। রসবেরী তার রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখেন চারদিক নির্জন, প্রতিটি বাসার ড্রাইভ থ্রুতে গাড়ী পার্ক করা। বাংলাদেশের সাথে এ ছবির কোন মিল নেই। তার মনে পড়ে যায়, সু্যট পড়া একজন ভদ্রলোক হাতে জ্যান্ত মুরগী নিয়ে ব্যস্ত ঘিঞ্জি রাস্তায় রিকশা করে যাচ্ছেন। রাস্তায় অসংখ্য লোকজনের ভীঁড়। মহল্ল্লার প্রতিটি কর্নারে চায়ের দোকানের খুপড়ি। সেখানে দুধ আর চিনি মেশানো গরম পানি কাপে পরিবেশন করছে (হায়রে অভাগা চা)। কংক্রীটের বাড়ীতে রড বের করে রেখে দেয়া হয়েছে অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ দেখাবার জন্য- এতে নাকি ট্যাক্স ফাঁকি দিতে সুবিধা হয়। আর যএতএ লোকজনের মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে বিরামহীন কথোপকথনে ব্যস্ত।
গত বছরের আগস্ট মাসে কলেজ গ্র্যাজুয়েট রসবেরী বাংলাদেশে পীস কোরের সদস্য হিসেবে আসেন। ছিলেন সিরাজগঞ্জ শহরে। তিনি বাচ্চাদের স্কুলে ইংরেজী শিখাতেন। খাবারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন সব খাবারেই ভাতের যথেচ্ছ ব্যবহার। সকালে নাস্তায় ভাত ও ডিম। দুপোরে ভাত আর মাছ। বিকেলে দুধ মেশানো ভাত (পায়েস)। রাতের খাবার ভাত দিয়ে মুরগী অথবা গরুর মাংস। একবার তিনি এক বন্ধুকে চিঠি লিখেছিলেন, জীবনে যাতে তাকে এরকম ভাতের উপদ্রব আর না দেখতে হয়। এবছরের মার্চ মাসে মার্কিন সরকার বাংলাদেশ থেকে পীস কোরের ভলিন্টিয়ারদেরকে প্রত্যাহার করলে রসবেরী দেশে ফিরে যান।
ফিরে গিয়ে দেখেন তার মা প্ল্লেটে সাজিয়ে রেখেছেন চকলেট চীপ কুকি। গরুর সিনার বারবিকিউ, চিকেন উইং, আর চকলেট পাই। কিন্তু না, কোন ভাত নয়। রসবেরী আবার পীস কোরের সদস্য হিসেবে অন্য কোন দেশে যাবেন, অথবা ফিরে যাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।
মূল লেখাটি পড়তে চাইলে: http://tinyurl.com/odbyd

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

