
২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা আসনে লড়ে ৬টা জিতেছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া এই দলটা কি সত্যিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক উদীয়মান শক্তি হয়ে উঠছে? নাকি এটা শুধু একটা সাময়িক ঝলক?
যে আসনগুলোতে এনসিপি জিতেছে, সেগুলোর দিকে তাকালে প্রশ্নটা আরও জোরালো হয়। ঢাকা-১১ আসনটা তো আগে আওয়ামী লীগের লৌহ দুর্গ ছিল। সেখানে নাহিদ ইসলাম ৯৩,৮৭২ ভোট পেয়ে জিতেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম এ কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১,৮৩৩ ভোট। মার্জিন মাত্র ২,০৩৯ ভোট।
কুড়িগ্রাম-২ আসনটা দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টি (এরশাদ)-এর শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। সেখানে আতিকুর রহমান মুজাহিদ ১৭৮,৮৬৯ ভোট নিয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সোহেল হোসেন কায়কোবাদ পেয়েছেন ১৭০,৩৩৫ ভোট। মার্জিন প্রায় ৯,৫৩০ ভোট। উত্তরাঞ্চলে জামায়াত-এনসিপি জোটের এই জয় দেখায় যে পুরনো ঘাঁটিগুলোতেও ফাটল ধরছে।
রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনটাও আগে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির প্রভাবে ছিল। আখতার হোসেন এখানে প্রায় ৭২,৮৯৭ ভোট (ফাইনাল কাউন্টে আরও বেশি) পেয়ে জিতেছেন। বিএনপির এমদাদুল হক বর্ষা পেয়েছেন প্রায় ৫৭,৪৩৯ ভোট। মার্জিন ১৫,০০০-এর ওপর। এই বিশাল ভোটের সংখ্যা দেখে মনে হয় তরুণরা শুধু প্রতীকে নয়, পরিবর্তনের স্বপ্নে ভোট দিয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহ জিতেছেন, যেখানে আগে আওয়ামী লীগের প্রভাব ছিল প্রবল। নারায়ণগঞ্জ-৪-এ আবদুল্লাহ আল আমিন এবং নোয়াখালী-৬-এ আবদুল হান্নান মাসুদও লাখের কাছাকাছি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই আসনগুলোতে এনসিপির এত বড় ভোটের ঝুলি দেখে অবাক হতে হয়।
হারের আসনগুলোতেও গল্পটা শেষ হয়নি। ঢাকা-৯-এ জাভেদ রাসিন ৫৩,৪৬০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন, বিএনপির হাবিবুর রশীদ হাবিব (১১১,২১২ ভোট) থেকে ৫৭,৭৫২ ভোট পিছিয়ে। ঢাকা-১৯-এ দিলশানা পারুল ১২৫,২৮৩ ভোট নিয়ে দ্বিতীয়। ক্লোজ কনটেস্টগুলো আরও উত্তেজনাপূর্ণ—পঞ্চগড়-১-এ সারজিস আলম ১৬৮,০৪৯ ভোট পেয়ে বিএনপির কাছে মাত্র ৮,১২০ ভোটে হেরেছেন। ঢাকা-৮-এ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী মাত্র পাঁচ হাজারের মতো ব্যবধানে পিছিয়ে।
এনসিপি যে পরিমাণ ভোট পেয়েছে সারাদেশে সেটা কোনো বড়ো দলের চেয়ে কম নয় । জামায়াত-এনসিপির এগারো দলের জোটের মাঝে তুলনা করলে এনসিপি ভোটের মাঠে জামায়াতের চেয়েও এগিয়ে । ইনটারিম আর কিছু করতে পারুক আর না পারুক এনসিপিকে সংসদে নিয়ে যেতে পেরেছে । ইউনুস সাহেব চেয়েছিলেন তরুণরা যাতে সংসদে যায় এবং মন্ত্রী হয় । বাংলাদেশের বহু তরুণ জেন-জির মনেও একই ভাবনা কাজ করেছে হয়তো ; তারা চেয়েছিলো সংসদে জেন-জি'রা যাবে এবং তাদের মনের কথা বলবে । এনসিপির ছয় নেতার সামনে সুযোগ এসেছে নিজেদের প্রমাণ করার ।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




