
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ঢাকার মতো জায়গায় ১৪,১৫,১৬ তিন আসনে জামায়াত জয়ী হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে বিএনপি-জামাতের ভোটের পার্থক্য ৫০০০ এর কম। বুঝাই যাচ্ছে উচ্চকক্ষে জামায়াত সিট পেতে যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে জামায়াতের এই অবিশ্বাস্য উত্থান ভবিষ্যতের জন্য কি বার্তা দেয়?
ঢাকা-১৪, ১৫, ১৬ আসনে গতকাল সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কোনোভাবেই বোঝার উপায় ছিলো না জামায়াত এই তিন আসন জিততে পারে। ঢাকা ১৪ আসনে ইন্টারিম সরকারের যোগসাজশে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো। এই আসনের প্রার্থী মীর কাসেম আলীর ছেলে আরমান মূলত ঢাকা ১৫ আসনের প্রার্থী। এখানে তার ভালো ফলাফলের কোনো সম্ভাবনা ছিলো না। সে ঠিক ভাবে পোলিং এজেন্ট পর্যন্ত বসাতে পারে নি। তার প্রচারণা ছিলো খুবই কম কিন্তু বিএনপির দলীয় কোন্দলের সুযোগে এই আসন তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে।
ঢাকা ১৫ আসনে জিতেছেন জামায়াতের আমীর যিনি এর আগে কোনো নির্বাচনে জামানত রক্ষা করতে পারেন নি। এবার বিএনপির মিল্টনের মতো প্রার্থীকে হারিয়ে আমীর সাব জিতে গেছেন। জামায়াত প্রচুর ভোট ঢাকায় মাইগ্রেশন করার অভিযোগ ছিলো গত দেড় বছরে যার সত্যতা কিছুটা হলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকা-১৬ আসনের ফলাফল দেখে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না। লাজফারমার মালিক জামায়েতের বাতেন সাহেব হেভিওয়েট প্রার্থী আমিনুল ইসলাম থেকে তিন হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাতেনের পোস্টার ছাড়া কোনো প্রচারণা ছিলো না। তিনি কোনো উঠান বৈঠক করতে দেখা যায় নাই। অথচ বিএনপির ঘাটি হিসাবে পরিচিত এই আসন এখন জামায়াতের দখলে। এই একটা আসন দেখেই বোঝা যাচ্ছে কি পরিমাণ মেটিকুলাস ডিজাইন করা হয়েছে এবারের ইলেকশনে। যখন ঢাকা ১৬ আসনের একটি কেন্দ্রে যাই তখন বাতেন সাহেব কতিপয় লোকের সাথে ঝগড়া করছিলেন জাল ভোট নিয়ে; এখন বুঝতে পারছি ! ঝুকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে মেটিকুলাস ডিজাইন বাস্তবায়নের কাজ সহজ হয়েছে।
ঢাকার মধ্যে বিএনপির ৬/৭ আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় তৃণমুলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। কারণ গুরুত্বপূর্ণ আসন গুলো দিয়ে ঢাকায় ঢোকার প্রবেশপথ রয়েছে। তারা আশংকা করছে জামায়াত-শিবির কিছু হলেই এসব পথ অবরোধ করতে পারে। কিন্তু মেটিকুলাস ডিজাইন অনুসারে বিএনপির হাই কমান্ড -জামায়াত - প্রশাসন মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ঠেকাতে এসব আসন জামায়াতের দখলে থাকা প্রয়োজন।
এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে অদ্ভূত লেগেছে আমীর হামজার মতো প্রার্থীর নির্বাচনে জয়ী হওয়া নিয়ে। আওয়ামী লীগ আমলে আওয়ামী লীগ ইন্টারিম আমলে জামায়াত বনে যাওয়া এই প্রার্থীর সংসদে যাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনা সমালোচনা চলছে। মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযোগ থেকে সদ্য খালাশ পাওয়া এটিএম আজহারও জিতে গেছেন। এদিকে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান কে নিয়ে এক শ্রেণীর বেকুব পাবলিক খুব খুশি। তাদের ধারণা মুক্তিযুদ্ধ জয়ী হয়েছে কিন্তু তাদের চোখে বিপরীত চিত্র চোখে পড়ছে না। এভাবে জাতিকে বিভ্রান্ত করে রাখা হয়েছে। নারীবিদ্বেষী ১/২ জন ইলেকশনে জয়ী হয়েছে। এগুলোর প্রভাব আগামী সংসদে পড়তে যাচ্ছে।
নির্বাচনের মেটিকুলাস ডিজাইন হচ্ছে জামায়াত-শিবির ঠেকানোর প্রজেক্ট মাঠে ছাড়ার মাধ্যমে। জামায়াত-শিবির নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করেছে, নারীদের গুহাবাসী করার কথা বলেছে যা কতিপয় নারী-পুরুষ মেনে নিলেও বেশিরভাগই চিন্তা করেছে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে কলাগাছ দাড়ালে তাকেই ভোট দিতে হবে। এভাবে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। মাজার রক্ষার জন্য চিটাগাং-সিলেটের মানুষ জামায়াত কে পুরোপুরি বয়কট করেছে। কিন্তু সাতক্ষীরা, যশোর আর রংপুরের মানুষ জামায়াত কে দুই হাত ভরে দিয়েছে। নিশ্চয়ই মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সংসদে এটিএম আজহারের সাথে মিলে হাসাহাসি করবেন কিভাবে আবেগপ্রবণ বাঙালিকে মেটিকুলাস ডিজাইনে বোকা বানানো হয়েছে !
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



