
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা এগারোটি আসনে জয় পেয়েছে। বাকি ৪২টি আসনের ফলাফল এখনো প্রক্রিয়াধীন।
আওয়ামী লীগকে ছাড়া নির্বাচন হবে- এটা তো অভাবিতই ছিল। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা তো কম হলো না। শেষ পর্যন্ত বিপক্ষ শক্তি পেরে উঠল না। জামায়াত-এনসিপি জোট বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো করেছে। ক্ষমতায় যাওয়ার একটা সম্ভাবনাও তৈরি করেছিল। বিশেষ করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের নিজেদের মতো করে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল। এবার না পারলেও ভবিষ্যতে আরো ভালো করার সম্ভাবনা আছে।
আমি সবসময় বলে আসছি, আওয়ামী লীগ-বিএনপির ব্যর্থতা জামায়াতকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। নইলে কেউ কি ভাবতে পেরেছিল যে দলটা দেশটা স্বাধীন হোক চায়নি, তারা সংসদে যাবে? একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এ টি এম আজহারুল হচ্ছেন আইনপ্রণেতা। ভাবা যায়? এ ব্যর্থতার দায় কি আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে দেবেন না?
মন্দের ভালো হিসেবে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করবে বিএনপি। আনন্দের ব্যাপার হলো- ফজলুর রহমান, রুমিন ফারহানা, জোনায়েদ সাকি, পার্থর মতো সোচ্চার কণ্ঠ সংসদে যেতে পারছে। সংসদ অন্তত আগের মতো ম্যাড়ম্যাড়ে হচ্ছে না। উড়ে এসে জুড়ে বসা অতিথি পাখিরা দেশের যতটুকু ক্ষতি করার করে গেছে। পরবর্তী সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে ঠিকমতো দেশ চালানো।
বিএনপি যদি অতীত থেকে শিক্ষা না নেয়, আর আগের মতোই বেপরোয়াভাবে সরকার চালায়, তাহলে দেশের অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়বে। দেখা যাক সামনে কী হয়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


