somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি পলিটিক্স এবং পলিটিশিয়ান পছন্দ পারি না। কোন দলের প্রতিই আমার আলগা মোহ কাজ করেনা। "দলকানা" "দলদাস" ইত্যাদি গুণাবলী তাই আমার খুবই চোখে লাগে।

কেন পলিটিক্স পছন্দ করি না সেটা বলি।

যেকোন রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতার জন্য নির্বাচন করে, তখন ওরা বলে, ওরা ক্ষমতায় যেতে চায়, যাতে ওরা পাবলিকের "সেবা" করতে পারে।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, পাবলিকের "সেবা" করতে হলে তোমাকে কেন ক্ষমতায় যেতে হবে? ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তুমি সেবা শুরু করতে পারো।
তুমি তোমার এলাকার পথশিশুদের ক্লাস নিতে পারো। তোমার এলাকার ধনী-গরিবদের নিয়ে একটা সমিতি করতে পারো যারা ব্যবস্থা নিবে এলাকার কেউ ক্ষুধার্ত ঘুমাতে যাবেনা। এলাকার কোন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের জন্য নিজের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারো। এলাকার পুরুষ ও নারীদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে ওদের ভাগ্য বদলাতে সাহায্য করতে পারো। কারোর চিকিৎসা প্রয়োজন, তুমি সবাইকে নিয়ে ওর সাহায্যে এগিয়ে আসতে পারো। এগুলো কি সেবা নয়? এগুলোর জন্য আমাকে নির্বাচন করে ক্ষমতায় যাওয়ার অপেক্ষা করতে হবে কেন?

হ্যা, এইসব করতে গেলে রাজনীতিবিদেরা আমাকে ঠিকই বাধা দিবে।
কেন? কারন আমি ওদের চেয়ে পপুলার হয়ে যাব। ওরা টেনশনে পড়ে যাবে, আমি বুঝিবা নির্বাচনে দাঁড়াবো, তাই এমন করছি। অথবা ধরে নিবে আমি অন্য পার্টির হয়ে কাজ করছি। নাহলে আমার স্বার্থ কি? যদি বলেন "আমি এমনটা করছি কারন আমাকে আমার আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এমন করতে" - তাহলে ধরে নিবে আপনি জামাতে ইসলামী, আপনাকে "জিহাদিস্ট" "পাকিস্তানী এজেন্ট" বা ইত্যাদি ট্যাগ দিবে।
আপনি হিন্দু হলে আপনাকে র'য়ের এজেন্ট ঘোষণা দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেললেও অবাক হব না।
আপনি খ্রিষ্টান হলে দাবি করবে আপনি এইসব করে লোকজনকে খ্রিষ্টান ধর্মে কনভার্ট করে ফেলবেন।
আর যদি নাস্তিক হয়ে থাকেন এবং বলেন "আমি শুধু মানুষকে সাহায্য করতেই এমনটা করছি" - তাহলেও ধরে নিবে এর পিছনে আপনার নিশ্চই কোন কুমতলব আছে। আপনি মানুষকে নাস্তিক বানানোর পায়তারা করছেন। বাংলার জমিনে নাস্তিকের ঠাঁই নাই!

যে চোর, সেতো সবাইকেই নিজের মতই ভাবে। দেখেন না, ক্রিকেটে আইসিসির অন্যায়ের সমালোচনা করলে একদল তেড়ে এসে বলে আমরা পাকিস্তানের দালাল হয়ে গেছি? ওরা নিজেরা ইন্ডিয়ার পদলেহী বলেই কল্পনাও করতে পারে না শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বার্থেও কেউ কোন কথা বলতে পারে।

এখন নিজের জীবনের একটা উদাহরণ দেই তাহলে বুঝবেন।
আমেরিকায় প্রতি কোরবানির ঈদে আমরা কয়েকজন সাউথ ডালাসের মসজিদে নিজেদের তিন ভাগের এক ভাগ গরুর মাংস দিয়ে আসি। গরিব এলাকা। রিফিউজিরা আসে মাংস নিতে। বছরে এই একটা সময়েই ওদের পাতে "প্রোটিন" জোটে। ওদের জন্য খুব মায়া লাগে। কিন্তু আমাদের ক্ষমতা সীমিত।
গত বছর মসজিদ কর্তৃপক্ষ আমাদের জানালো আমরা যদি কিছু মনে না করি, তাহলে আমরা যেন মাংস না নিয়ে যাই।
খুবই অবাক হলাম। মনে হলো আমরা কি কোন ভুলটুল করছি যে ওরা আমাদের সাহায্য নিতে চায় না?
গিয়ে জানলাম আমেরিকার অতি বড় একটি ইসলামিক প্রতিষ্ঠান ওদের মাংস প্রদানের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। আমাদের মতন টুটাফুটা সাহায্য না, বিশাল এইটিন হুইলার ফ্রিজার ট্রাক ভরে ওদের জন্য মাংস নিয়ে হাজির হয়েছে। এত মাংস ম্যানেজ করার ক্ষমতা সেই মসজিদের নেই। কত মাংস খাবি? খা তোরা!
আনন্দ ও কৃতজ্ঞতায় চোখে পানি এসে গেল।
অতি ক্ষুদ্র পরিসরে আমরা শুরু করেছিলাম। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ক্ষুধার্তের পাতে মাংস তুলে দেয়া। আল্লাহ আমাদের সেই উদ্যোগকে কোথায় নিয়ে গেলেন! ঐ যে হাদিস আছে না, আমি আল্লাহর দিকে এক পা এগুলে তিনি দশ পা এগোন। আমি হেঁটে তাঁর দিকে রওনা হলে তিনি দৌড়ে আমার দিকে আসেন? সেটারই বাস্তব উদাহরণ দেখলাম।
হিন্দি একটি কবিতা আছে, "কে বলেছে আকাশে ছেদ করা সম্ভব না? কেউ ঠিকঠাক একটা ঢিল ছুঁড়ে দেখো!"
আমরা আকাশ ছেদ করলাম!
কিন্তু আমি যদি পলিটিশিয়ান হতাম, তাহলে নিশ্চিত করতাম ঐ বড় ট্রাক ভর্তি মাংস যেন কিছুতেই এ এলাকায় না পৌঁছে।
দেশের একটি প্রজেক্টের উদাহরণ দেই।
এক ডাক্তার বড় ভাই নিজের গ্রামের মানুষদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নিলেন। এলাকার চেয়ারম্যান দাবি করলো ঘোষণা দিতে হবে যে চেয়ারম্যান এই উদ্যোগটা নিয়েছে। ওকে প্রধান অতিথি করতে হবে।
বিরোধীদল হুমকি দিল সেটা করলে মারামারি দাঙ্গা হাঙ্গামা লাগানো হবে। জীবন নিয়ে ফিরে যেতে দেয়া হবেনা।
ডাক্তারভাই বললেন জনসেবার গুষ্ঠি কিলাই! বেঁচে থাকাটা জরুরি।
মাঝে দিয়ে লস হলো কাদের? জনতার। এইটাই পলিটিক্স।

হঠাৎ বন্যায় দেশ ডুবে গেল। বিভিন্ন সংস্থা মানুষের প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়লো। কেউ খাবার, আমরা চিকিৎসা, কেউ শুধু উদ্ধারকর্ম - ইত্যাদি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। সবকিছুতেই টাকার প্রয়োজন। আমি কিন্তু কাউকেই প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করি নাই। কারন দুর্গত মানুষের সব ধরনের সাহায্যেরই প্রয়োজন আছে। যে সংগঠনেই সাহায্য পাঠান, কোন সমস্যা নেই। আপনি এগিয়েছেন কিনা সেটাই প্রশ্ন। মূল উদ্দেশ্য যেন হয় মানুষকে সাহায্য করা। কার মাধ্যমে হলো সেটা যেন বড় বিষয় না হয়। আমি খুবই খুশি হবো যদি দেখি আমার এলাকায় আমি ইমার্জেন্সি সাহায্য নিয়ে হাজির হওয়ার আগেই অন্য কেউ আমার লোকেদের উদ্ধার করে ফেলেছে। এর মানে হচ্ছে আমার এলাকায় ভাল মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এর মানে হচ্ছে, আমি এই রিসোর্স অন্য কারোর সাহায্যে ব্যবহার করতে পারবো।
কিন্তু পলিটিশিয়ানরা এখানেই নোংরামি শুরু করে। ওরা নিজেরা নিজেদের এলাকায় অন্য কোন দলকে ঢুকতে দেয় না। এলাকার মানুষ বন্যায় ডুবে যাক, আগুনে পুড়ে যাক, কোন সমস্যা নাই। কিন্তু আপনি বিএনপি-জামাত হলে আওয়ামীলীগের এলাকায় বা আওয়ামীলীগ হলে বিএনপি জামাতের এলাকায় ঢুকতে পারবেন না।

তা বড় আকারে জনতার সেবা করতে সরকারি সাহায্য, তহবিল, ক্ষমতার বিকল্প নেই - সেটা সত্য। একটা সৎ নেতা গোটা দেশ পাল্টে দিতে পারে। একটা বদমাইশ নেতা দেশের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।
কিন্তু আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা ও দুর্ভাগ্য এই যে, যারা সেই রাজগদিতে বসতে চায়, ওগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় - ওরা ওগুলোকে নিজের বাপ দাদার সম্পত্তি ভেবে বসে। শুরু করে লুটপাট, দুর্নীতি। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা পুলিশ, RAB, DGFIকে নায়িকাদের সাথে শোয়ার কাজে ব্যবহার করে, বিশ্বাস হয়? কিন্তু সেটাই হয়।

অন্যদিকে আমাদের জনতাও খুবই ভোলাভালা। আমাদের চাহিদাও কম। আমাদের অন্ধকার রাস্তার সামনে একটা ল্যাম্পপোস্ট বানিয়ে দিলেই আমরা খুশি হয়ে যাই। ভাঙাচোরা রাস্তা পাকা করে দিলেই আনন্দে চোখে পানি চলে আসে। আমাদের এই ভোলাভালা স্বভাবেরই ভুল ফায়দা তোলে ক্ষমতায় যাওয়া নেতারা। একেকজন নির্লজ্জের মতন কোটি কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ তৈরী করে, আমরা কিচ্ছু বলি না। ব্রিজের বাজেট পাশ করিয়ে একটা কালভার্ট তৈরী করে বাকি টাকা হজম করে ফেলে। আমরা এমন নেতাই আজীবন পেয়ে এসেছি। দোষটা আমাদেরই। আমরাই কোনদিন কোন মন্ত্রীর কাছে গিয়ে ওর অর্থের হিসাব চাই না। যে যত বড় চোর, ওকে তত বড় সালাম দেই।
ছোটবেলা থেকেই এইসব দেখে যারা বড় হয়, ওরা তখন ভাবে, একবার, শুধু একবার সাংসদ হতে পারলে চৌদ্দ পুরুষের জন্য জীবন সেট। সেজন্য মানুষ খুনের মতন জঘন্য অপরাধ করতেও এদের কলিজা কাপে না। কমন সেন্সের কথা বলি, নেতারা যদি আসলেই আমাদের সেবা করতে চাইতো, তাহলে হারতাল, গাড়ি ভাংচুর, ককটেলবাজি, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি করতো? করা সম্ভব হতো? নিজের বা নিজের পরিবারের লোকজনের বাড়িঘর গাড়ি ইত্যাদির ক্ষতি ওরা করে?
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রক্তের গ্রুপ বৃত্তান্ত; জীবন রক্ষার স্বার্থেই জেনে রাখা দরকার রক্তের গ্রুপ

লিখেছেন নতুন নকিব, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:১৪

রক্তের গ্রুপ বৃত্তান্ত; জীবন রক্ষার স্বার্থেই জেনে রাখা দরকার রক্তের গ্রুপ

ছবি সংগৃহীত।

বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেছে। দুই পরিবার আনন্দে ব্যস্ত। বর ও কনে দুজনেই সুস্থ, শিক্ষিত, স্বাভাবিক জীবনযাপনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাল হাদিস ধরার একটি এপ্লিকেশনের আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩২

জাল হাদিস ধরার একটি সফটওয়্যার নিয়ে কাজ শুরু করেছি। এপ্লিকেশন বানানোর ছক আঁকার পরে এখন ইনভেস্টর খুঁজছি। দিন কয়েক আগের ঘটনা। সামুতে একটি পোস্ট দিয়েছিলাম, অসুস্থ্য থাকায় আল্লাহর নির্দেশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গদি লইড়া যাইতেসে রে.... :)

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:২০


নিয়াজ স্যার জানেন কিনা জানি না, তবে ছাত্রদলের সেই বিখ্যাত স্লোগান: "নীলক্ষেতের ভিসি আপনি"—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে যতবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে, ততবারই সাধারণ মানুষ চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে চেয়েছে যে ছাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৩৭

রোজা ও আধুনিক স্বাস্থ্য বিজ্ঞান; কিছু কথা, কিছু অনুভূতি

ছবি সংগৃহিত।

অংশ ১: ভূমিকা এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য

ইসলাম কোনো আংশিক বা বিচ্ছিন্ন জীবনদর্শন নয়। বরং এটি মানবজীবনের প্রতিটি স্তরের জন্য একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের বিজয় খুব দরকার ...

লিখেছেন অপলক , ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৩৪



বিগত সরকারগুলো যে পরিমান ক্ষয়ক্ষতি করে গেছে, তা পুষিয়ে নিতে ১০টা বছর যোগ্য এবং শিক্ষিত শ্রেনীর হাতে সরকার ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরী। গোমূর্খ চাঁদাবাজ আর নারী লিপ্সুদের ভীড়ে জামায়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×