somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাস্ট্রদূত মাইলাম কি বলছেন?

১৪ ই জুন, ২০০৬ সকাল ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাস্ট্রদূত উইলিয়াম মাইলামের বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতা ও এর গতিধারা নিয়ে লেখাটি পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত ডেইলী টাইমসে জুনের 14 তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি 1990 থেকে 1993 সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের রাস্ট্রদূত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত উড্রো উইলসন সেন্টারের একজন ফেলো (http://www.wilsoncenter.org)

তিনি তার লেখায় বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের জন্য অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক ধারা আপাতত নিরপেক্ষ মনে হলেও তা দলীয় প্রভাবের শিকার হতে পারে- এ নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে বাদানুবাদ ও প্রভাব বিস্তারের চেস্টা অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার ধারাকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা ও ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাপার নিয়ে এই দু'টি মূল দলের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য দেখায়। তবে অন্তবতর্ীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা ঠিক করবে দেশে বিদেশে আগামী নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূল চারটি ধারার মধ্যে অন্যতম ছিল। বাংলদেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল সোপান ছিল বাঙ্গালীদের স্বতন্ত্র, বর্ণগত ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতা। এর মধ্যে ধর্মের কোন স্থান ছিল না। 1975 সালে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর থেকে জেনারেল জিয়া ধর্মভিওিক রাজনীতির প্রবর্তন করেন তার সামরিক সরকাররকে বৈধতা দেয়ার জন্য এবং আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ ধারণার বিপরীতে ধর্মভিওিক জাতীয়তাবাদের সৃস্টির জন্য।

তার ভাষায়, "He (Zia) changed the constitution to reflect a territorial identity and reached out to Islamist parties and elements, which had been politically marginalised by their opposition to the war for separation of 1971. The governments he led, both military and democratic, until his assassination in 1981 consistently sought to strengthen the nationalist vision of identity by re-legitimising the Islamist parties".

ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরোধীরা তাদেরকে ধর্মনিরপেক্ষতার কারণে ইসলাম বিরোধী বলে অভিযুক্ত করে। যদিও এই অভিযোগ একেবারে অমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। জিয়ার সময় থেকে যে ধর্মভিওিক রাজনীতির ধারা সূচিত হয় তা স্পস্ট। আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার মূল ধারণা থেকে অনেকটা সরে এসেছে এবং তারা এককভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় দল। 2001 সালের নির্বাচনে তারা 42% ভোট পায় যা 1996 সাল থেকে বেশী। অন্যদিকে বিএনপি জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করাটাকে লাভজনক মনে করেছিল এবং জামাতে ইসলামীর সাথে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করে। ধর্মভিওিক রাজনীতির বিতর্কের এই পটভূমিতে বিএনপি-জামাত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অবাধ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অত্যন্ত জরুরী। বাইরের লোকজনরা ভাবেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থা অবাধ ও মুক্ত নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু আসলে তা ঠিক নয়। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ইতোমধ্যে দলীয়করণ করা হয়েছে। দলীয়করণের এই অভিযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি'র মধ্যে বিরাজমান বিরোধ ও বিতর্ক বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দিবে। বাইরের দুনিয়ার লোকজন এব্যাপারটি নিয়ে যথেস্ট দ্বিধান্বিত। তবে নির্বাচন নিয়ে ফ্যাক্ট ও ফিকশনকে আলাদা করে দেখার যথেস্ট প্রয়োজন যা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন গ্রহণ করা হবে, না বর্জন করা হবে।

মূল লেখাটি পড়তে চাইলে: http://tinyurl.com/kjdmn
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৬ সকাল ১১:৩২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৬

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।
--------------------------
আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ আগে ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় পরে। এই দেশে মোল্লা, পুরোহিত, সাধু, বাউল, ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, চামার, মুচি সকলেই সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন ২০২৬

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×