somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলা একাডেমীর 50 বছর:

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(ছবিটি বাংলাপিডিয়ার সৌজন্যে)
অনেক কিছুই হতে পারত। হয়নি। অনেক আশা ছিল। অনেকে ভরসা করেছিল। কিন্তু সবই ব্যর্থ। বড়ই অভাগা আমরা। বিস্মৃতি আমাদের নিত্য সঙ্গী। বাস্তব বড়ই নির্মম। পরিহাস করে অতীতকে। ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিল, তারা ফিরে আসতে পারলে মাথা হেট করে বসে থাকত। গেল ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমীর বয়স হলো 50 বছর। বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধনে, সংস্কৃতির প্রসারে আর বীর ভাষা সৈনিকদের সম্মানে বাংলা একাডেমীর জন্ম। তা আজ বন্দী হয়ে রয়েছে আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে। বাংলা ভাষার প্রতি মমত্ব আবদ্ধ হয়ে আছে একুশে মেলার বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার আবর্তে, বট বৃক্ষের ঝুরিতে ঝোলানো বর্ণমালায়, সজ্জিত মঞ্চে, সাজানো গোছানো বইয়ের স্টলগুলোতে আর দর্শকদের পদভারে ভাসমান পদধূলিতে। "করতে হবে, দিতে হবে, পড়তে হবে, গড়তে হবে" জাতীয় চিরায়ত বক্তৃতায় আর করতালিতে আমরা আবারও উদ্ভোধন করলাম একুশে গ্রন্থমেলা।

তারপরেও আনন্দ। উৎসবমূখরতায়, লেখক-প্রকাশক ও বইপ্রেমীদের পদচারিতায়, নতুন বইয়ের গন্ধে, চকচকে প্রচ্ছদে আর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে সত্যি বাংলা ভাষা আবারও মুক্তি পেল। ধন্য হলো আমাদের সংস্কৃতি। অথচ কি না হতে পারত? বাংলা একাডেমী তাদের একটা ওয়েব পেজ পর্যন্ত এখনও করতে পারল না। বাংলা শেখার জন্য, দুসপ্রাপ্য বাংলা বইগুলো প্রচারের জন্য, সংস্কৃতির প্রসারের জন্য, বাংলাকে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য, ভাষা ও উচ্চারনের উৎকর্ষতার জন্য অনেক কিছুই তারা করতে পারত। কিন্তু সবই আমলাতন্ত্রের রশিতে বাঁধা, টিভির পর্দা ও খবরের কাগজে তুলে ধরার জন্য মাসিক অনুষ্ঠানমালায় বাঁধা বাৎসরিক উদ্যোগ-আয়োজনে সীমিত। চমৎকার প্রহসন আর উপহাস ভাষা শহীদদের প্রতি। তবুও আমরা ভীঁড় জমাব, বই কিনব, বই প্রেমী হব, আড্ডায় মেতে উঠব, বাঙালী সংস্কৃতির নাড়ীতে আর আত্মপরিচিতির স্মরণীতে মুখোমুখি হবো। তাই বলি, পটভূমি প্রস্তুত। প্রয়োজন সংস্কৃতিমনা মানুষ যারা বাংলা ভাষাকে ভালবাসবে তার আনুষ্ঠানিকতাকে মঞ্চস্থ করার জন্য নয়, বরং সার্বজনীনভাবে হৃদয়স্থ করার জন্য সারা বছর ধরে। যারা বাংলার চর্চা করে, তাকে তুলে ধরে সর্বএ, বাংলা নিয়ে যারা গর্ববোধ করে-তারা হোক আমাদের প্রেরণার নিত্য সহচর- আপাতত এই কামনায় এখানে বিদায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×