অনেক কিছুই হতে পারত। হয়নি। অনেক আশা ছিল। অনেকে ভরসা করেছিল। কিন্তু সবই ব্যর্থ। বড়ই অভাগা আমরা। বিস্মৃতি আমাদের নিত্য সঙ্গী। বাস্তব বড়ই নির্মম। পরিহাস করে অতীতকে। ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিল, তারা ফিরে আসতে পারলে মাথা হেট করে বসে থাকত। গেল ডিসেম্বরে বাংলা একাডেমীর বয়স হলো 50 বছর। বাংলা ভাষার উৎকর্ষ সাধনে, সংস্কৃতির প্রসারে আর বীর ভাষা সৈনিকদের সম্মানে বাংলা একাডেমীর জন্ম। তা আজ বন্দী হয়ে রয়েছে আমলাতন্ত্রের বেড়াজালে। বাংলা ভাষার প্রতি মমত্ব আবদ্ধ হয়ে আছে একুশে মেলার বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার আবর্তে, বট বৃক্ষের ঝুরিতে ঝোলানো বর্ণমালায়, সজ্জিত মঞ্চে, সাজানো গোছানো বইয়ের স্টলগুলোতে আর দর্শকদের পদভারে ভাসমান পদধূলিতে। "করতে হবে, দিতে হবে, পড়তে হবে, গড়তে হবে" জাতীয় চিরায়ত বক্তৃতায় আর করতালিতে আমরা আবারও উদ্ভোধন করলাম একুশে গ্রন্থমেলা।
তারপরেও আনন্দ। উৎসবমূখরতায়, লেখক-প্রকাশক ও বইপ্রেমীদের পদচারিতায়, নতুন বইয়ের গন্ধে, চকচকে প্রচ্ছদে আর উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে সত্যি বাংলা ভাষা আবারও মুক্তি পেল। ধন্য হলো আমাদের সংস্কৃতি। অথচ কি না হতে পারত? বাংলা একাডেমী তাদের একটা ওয়েব পেজ পর্যন্ত এখনও করতে পারল না। বাংলা শেখার জন্য, দুসপ্রাপ্য বাংলা বইগুলো প্রচারের জন্য, সংস্কৃতির প্রসারের জন্য, বাংলাকে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তোলার জন্য, ভাষা ও উচ্চারনের উৎকর্ষতার জন্য অনেক কিছুই তারা করতে পারত। কিন্তু সবই আমলাতন্ত্রের রশিতে বাঁধা, টিভির পর্দা ও খবরের কাগজে তুলে ধরার জন্য মাসিক অনুষ্ঠানমালায় বাঁধা বাৎসরিক উদ্যোগ-আয়োজনে সীমিত। চমৎকার প্রহসন আর উপহাস ভাষা শহীদদের প্রতি। তবুও আমরা ভীঁড় জমাব, বই কিনব, বই প্রেমী হব, আড্ডায় মেতে উঠব, বাঙালী সংস্কৃতির নাড়ীতে আর আত্মপরিচিতির স্মরণীতে মুখোমুখি হবো। তাই বলি, পটভূমি প্রস্তুত। প্রয়োজন সংস্কৃতিমনা মানুষ যারা বাংলা ভাষাকে ভালবাসবে তার আনুষ্ঠানিকতাকে মঞ্চস্থ করার জন্য নয়, বরং সার্বজনীনভাবে হৃদয়স্থ করার জন্য সারা বছর ধরে। যারা বাংলার চর্চা করে, তাকে তুলে ধরে সর্বএ, বাংলা নিয়ে যারা গর্ববোধ করে-তারা হোক আমাদের প্রেরণার নিত্য সহচর- আপাতত এই কামনায় এখানে বিদায়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




