খবরের পাতা উল্টালে সবসময় খারাপ খবর দেখতে হয়। নৃশংস হত্যা, অন্যায়ভাবে নিরীহ মানুষদেরকে আটক, আর নির্যাতন। এছাড়া, খুন আর দুর্ঘটনার খবর তো আছেই। তার মধ্যে অন্তত: একটি ভাল খবর আমার চোখে পড়ল ফেব্রুয়ারীর 6 তারিখের খবরের পাতায়। অন্তত: বাংলাদেশের হাইকোর্ট একটি যুগান্তকারী রীট মামলা গ্রহণ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাধাহীন রাখতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ ও চৌদ্দ দলের লংমার্চ থেকে গণগ্রেফতারের শিকার সব বন্দীদের ব্যাপারে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোরের কাগজ পএিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে বলা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এইড এন্ড হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান এডভোকেট জেড আই খান পান্নার দায়েরকৃত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম এ মতিন ও বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন। প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ 14 দলের ডাকা লংমার্চকে কেন্দ্র করে 14 দলের নেতাকমর্ী ও সমর্থকসহ হাজার হাজার নিরীহ মানুষ গ্রেপ্তারের ঘটনা চ্যালেঞ্জ করে এই রিট মামলা দায়ের করা হয়। আদালত 4টি কারণ জানতে চেয়ে সরকারের ওপর 2 সপ্তাহের র"লনিশি জারি করেন। কারণগুলো হচ্ছে, ডিএমপি অধ্যাদেশের 86 ধারা কেন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, গণগ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তারকৃতদের আটক রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, বিনা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আটক রাখাকে কেন আইনগত কতর্ৃত্ব বহিভর্ূত ঘোষণা করে সংশিষ্ট কতর্ৃপক্ষকে ক্ষমতার অপব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের দায়ে গ্রেপ্তারকৃত ও আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সংশিষ্ট কতর্ৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চায় এই রীট মামলা হচ্ছে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এদেশে অতীতে বিচারপতিরা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো অনিস্ট করেছেন বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী ও সামরিক সরকারের রক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে। আজ এতো বছর পর মাননীয় হাইকোর্ট যদি এই রীট মামলায় একটি দৃস্টান্তমূলক রায় দিতে পারে তা এদেশে গণতন্ত্র চর্চায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, গণতন্ত্র কারও পকেটস্থ যাতে না হয়, তার নিশ্চয়তা সবচেয়ে বড়ো সুখবর আজকের আমাদের আর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




