somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অন্তত: একটি ভাল খবর:

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খবরের পাতা উল্টালে সবসময় খারাপ খবর দেখতে হয়। নৃশংস হত্যা, অন্যায়ভাবে নিরীহ মানুষদেরকে আটক, আর নির্যাতন। এছাড়া, খুন আর দুর্ঘটনার খবর তো আছেই। তার মধ্যে অন্তত: একটি ভাল খবর আমার চোখে পড়ল ফেব্রুয়ারীর 6 তারিখের খবরের পাতায়। অন্তত: বাংলাদেশের হাইকোর্ট একটি যুগান্তকারী রীট মামলা গ্রহণ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাধাহীন রাখতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ ও চৌদ্দ দলের লংমার্চ থেকে গণগ্রেফতারের শিকার সব বন্দীদের ব্যাপারে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভোরের কাগজ পএিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে বলা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এইড এন্ড হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান এডভোকেট জেড আই খান পান্নার দায়েরকৃত এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম এ মতিন ও বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবির সমন্বয়ে গঠিত একটি ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন। প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ 14 দলের ডাকা লংমার্চকে কেন্দ্র করে 14 দলের নেতাকমর্ী ও সমর্থকসহ হাজার হাজার নিরীহ মানুষ গ্রেপ্তারের ঘটনা চ্যালেঞ্জ করে এই রিট মামলা দায়ের করা হয়। আদালত 4টি কারণ জানতে চেয়ে সরকারের ওপর 2 সপ্তাহের র"লনিশি জারি করেন। কারণগুলো হচ্ছে, ডিএমপি অধ্যাদেশের 86 ধারা কেন বেআইনি ও সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, গণগ্রেপ্তার ও গ্রেপ্তারকৃতদের আটক রাখা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, বিনা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আটক রাখাকে কেন আইনগত কতর্ৃত্ব বহিভর্ূত ঘোষণা করে সংশিষ্ট কতর্ৃপক্ষকে ক্ষমতার অপব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং বেআইনিভাবে গ্রেপ্তারের দায়ে গ্রেপ্তারকৃত ও আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সংশিষ্ট কতর্ৃপক্ষকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চায় এই রীট মামলা হচ্ছে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এদেশে অতীতে বিচারপতিরা গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড়ো অনিস্ট করেছেন বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচারী ও সামরিক সরকারের রক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে। আজ এতো বছর পর মাননীয় হাইকোর্ট যদি এই রীট মামলায় একটি দৃস্টান্তমূলক রায় দিতে পারে তা এদেশে গণতন্ত্র চর্চায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, গণতন্ত্র কারও পকেটস্থ যাতে না হয়, তার নিশ্চয়তা সবচেয়ে বড়ো সুখবর আজকের আমাদের আর ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৬ রাত ১০:৩৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:০১


জুলাই: বাঙালি জাতির জন্য এক অভিশাপ ও মূল্যায়ন

আমাদের দৃষ্টিতে, তথাকথিত "জুলাই" বাংলাদেশের জন্য কোনো গৌরবের অধ্যায় নয়; বরং এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, অর্থনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাংগুক অচলায়তন

লিখেছেন মাসুদ রানা শাহীন, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৯


ভয় পাবেন না
আশার পিদিম জ্বালিয়ে রাখুন
প্রাণের ধুকপুকি জাগিয়ে রাখুন
হেরে যাবেন না।

ঘাবড়াবেন না
নতুন স্বর ও সাহসী উচ্চারণে অনবদ্য হোন
ক্ষুরধার সৃষ্টির ঔজ্জ্বল্যে উদ্ভাসিত হোন
থামবেন না।

নগদমূল্যে বিকোবেন না
ক্লান্ত শিরায় নতুন রক্ত বইয়ে দিন
তাতিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতিসত্তার পরিচয়ের বাজার

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৪ ঠা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:২১

ইতিহাসে কোনো আদর্শ সত্যিকার অর্থে মরে না। সে শুধু নাম বদলায়, পরাজিত আদর্শেরও পুনর্জন্ম হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ একটি আসনও পায়নি। কিন্তু সেই রাতে মুসলিম লীগ মরেনি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×