অনেক অনেক বছর আগে একটা টিভি অ্যাড সারাদিন চলত। বিজ্ঞাপনটির শুরুতেই জিগ্যেস করতো: "আপনি কি বিষণ্নতায় ভুগছেন"। সিবা গেইগীর এই অ্যাডটি অভাগা দেশবাসীর ঘরে ঘরে প্রফুল্লতা বইয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেস্টা করতো। তাতে বিষণ্নতার অবসান ঘটেছে কি-না জানি না। তবে বহুজাতিক কোম্পানীটি অবসন্ন, বিষণ্ন ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর পকেট হাতড়ে মুনাফার মোটা অংক পকেটস্থ করেছে। সময়ের বিবর্তনে মানুষের অসুস্থতার উপসর্গের রকম সকমে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। তাই বিবর্তিত সময়ে অসুস্থতার প্রকাশ বিমূর্ত হয়ে উঠে অনাবশ্যক অহমিকতায় ও অজ্ঞতায়। কখনো এর প্রকাশ পায় গা চুলকে ঝগড়া করার মধ্য দিয়ে। কখনো প্রকাশ পায় আর দু'চার জনে মিলে পাঁচফোঁড়নের যথেচ্ছ ব্যবহারে। জানি না, এই অসুস্থতার খবর আমাদের বহুজাতিক ভাইরা জানেন কি-না?
তাই আড্ডাবাজ একান্তে খুঁজে বেড়ায় মন ভাল করার আর আনন্দ ছড়াবার দেশজ কবিরাজী ঔষধি গাছের। কিন্তু কবিরাজী গাছেও আছে বিপওি। এক দোস্ত আমার পুড়িয়া সরিয়ে রাখতে ভুলে গিয়েছিল। ধরা পড়ল ভাবীর হাতে। শার্ট ধুতে গিয়ে ভাবী দেখে শার্টের পকেটে গাছ গাছালির পুড়িয়া। ডেকে দেবরকে বলে কিসের পুড়িয়া? দেবর হচ্ছে বড্ডো স্মার্টী। বলে, কবিরাজের পুড়িয়া। মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে বলে দিয়েছে মাথায় দেওয়ার জন্য। সহানুভূতিশীল ভাবী কাজের বুয়াকে মশল্লার পাটা থেকে তুলে পুড়িয়া পিশিয়ে দেবরকে পিঁড়িতে বসিয়ে সারা চান্দিতে কবিরাজী পুড়িয়া লাগিয়ে দেয়। ভর দুপুরে মশল্লা মিশ্রিত পুড়িয়া মাথায় দিয়ে দোস্ত নিজের নিকুচি করছিল। গরমে আর মশল্লার ঝালে মাথা পুড়ছিল আর শ্রাদ্ধ করছিল ভাবীজানের অতি যত্নের। ভাগ্যিস একালের ভাবীদের হাতে পড়লে ট্রিটমেন্ট অন্যরকম হতো...। তাই কবিরাজী ঔষধের ডিরেক্ট অ্যাকশন অনেক সময়ে হিতে বিপরীত ডেকে আনতে পারে। এটা হয়তো অনেক বাঘা কবিরাজও ভুলে যান। তাই আমার প্রিয় কবিরাজের উদ্দেশ্যে রফিক আজাদের এই কবিতার ক'টি লাইন উৎসর্গ করতে চাই:
"হে কলম, উদ্ধত হ'য়ো না, নত হও, নত হ'তে শেখো
তোমার উদ্ধত আচরণে, চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,
অতএব, নত হও, বিনীত ভঙ্গিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না স্যার,
এবারকার মতো ক্ষমা ক'রে দিন...
...এই চমৎকার সমাজ ও সময়ের যোগ্য হ'য়ে ওঠো,
ভোঁতা হ'তে শেখো,
হে অপ্রিয় উচ্চারণ, বোবা হয়ে যাও কালা হ'য়ে যাও,
প্রতিবাদ কোরো না;
মেনে নাও সবকিছু, মেনে নিতে শেখো,
মেরুদন্ড বাঁকা ক'রে ফ্যালো,
সোজা হ'য়ে দাঁড়ানোর চেস্টা কোরো না,
হে কলম, হে প্রিয় বলপেন, নত হও,
নম্র হতে শেখো আর স্বভাব পাল্টাও-
যেমন চলছে তেমনটি চলতে দাও,
খবর্দার প্রতিবাদ করবে না..."
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ রাত ১১:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


