আহা, বিকেল থেকে হালুয়া রুটি বিতরণ। মায়ের ব্যস্ততা। হরেক রকমের খাবার সাজিয়ে দিতেন প্রতিবশেীদের বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারো বাসা থেকে খাবারের ট্রে আসলে যাতে সেটা খালি না যায় তার দিকে নজর রাখতেন। কি অদ্ভুত ব্যস্ততা। এর সাথে ধর্মের সম্পর্ক কতটুকু আছে জানি না, কিন্তু একধরণের আনন্দ ও উৎসবমূখরতার ছোঁয়া ছিল। বুটের হালুয়া আর সুজির হালুয়া। শক্ত হালুয়া আর নরম হালুয়া। ঠান্ডা অথবা গরম। অনেক আনন্দ। সন্ধ্যা থেকে হালুয়া বিতরণ। রাস্তায় মানুষের ভীঁড়। আনন্দ আর কোলাহল। রাস্তায় আতশবাজির বিকট শব্দ আর ধোঁয়া। কবরস্থানে আগরবাতি সুগন্ধ আর মোমবাতির আলো। এর মধ্যে বাড়াবাড়ি আছে, অপচয় আছে। ধর্মবোধের সাথে কিছু বাড়তি সংস্কারবোধের মিশ্রণ ও আছে।
শবে বরাত নিয়ে অনেকে উষ্মা প্রকাশ করেন। আনুষ্ঠানিকতাকে খাটো করতে চান। কিন্তু মূল কথা হচ্ছে আল্ল্লাহর কাছে প্রার্থনা কখনোই সামান্য নয়। শবে বরাতের রাতে করলে তার ফল অনেক বেশী। এটা বিশ্বাস। এটা সমর্পন। একে যুক্তি দিয়ে খোঁজা উচিত নয়। বিশ্বাসে মুক্তি, তাই বিশ্বাসটাকে নড়বড়ে করে দেওয়া উচিত না। শবে বরাতের রাত আরেকটা কারণে খুব মজার ছিল। এই একটা রাতে সারারাত বাইরে থাকার একটা অবাধ অনুমতি ছিল। নামাজ পড়ার ফাঁকে ফাঁকে মাঠে এসে আড্ডা জমতো। ধর্মের গল্প, জি্বনের গল্প, অন্ধকারের মধ্যে একা হাঁটার গল্প, একা একা কবরস্থানে গিয়ে থাকার অনুভূতির গল্প সব চর্চিত হতো। তারপরে অপেক্ষায় থাকতাম সবাই শেষ রাতের দীর্ঘ মুনাজাতের জন্য। ক্লান্ত শরীর নিয়ে যখন বিছানায় যেতাম, তখন ভাবতাম বরাতের পরের দিন থেকে ভাগ্য অনেক বেশী প্রসন্ন হবে। সাফল্য থাকবে পায়ে পায়ে। এধরণের অনুভূতি প্রতিটি শবে বরাতের পরেই মনের মাঝে অনুরণিত হতো। এক ধরণের আনন্দ, উৎসব ও কোলাহলের অপেক্ষায় থাকতাম। ভাবতাম, আবার কখন শবে বরাত আসবে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


