আড্ডার ইংরেজী ভার্সনে পুরো লেখাটি প্রকাশ পায় ডিসেম্বরের 16, 2005-এ। এখানে বাংলায় প্রথম পর্ব প্রকাশ পায় ডিসেম্বর 18, 2005-এ। ধন্যবাদ।
প্রকৃতি অপূর্ব সাাজে সাজিয়েছে বাংলাদেশকে। এখানে রয়েছে পৃথিবীর দর্ীঘতম সমুদ্র সৈকত। সুন্দরবন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে 4500 বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ম্যানগ্রোভ বন তৈরী করে রেখেছে। এর তুলনা করা যায় ফোরিডার এভারগ্লেইডের সাথে। সুন্দরবনের গোলপাতা, পানির ধারা, সবুজ শ্যামলিমার মাঝখানে বিশ্বখ্যাত বাঘের বাস। এখানকার বাঘ এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এজন্যে প্রকৃতি প্রেমী ও পরিবেশ রাকারীদের একযোগে কাজ করতে হবে। এখানে প্রকৃতিকে দেখা যায় খুব কাছ থেকে। হৃদয় কেড়ে নেয় সুন্দরবন ভ্রমণ।
সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ পৃথিবীতে সপ্তম স্থান (144 মিলিয়ন) করে নিয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আমাদের স্থান তৃতীয়। আমরা গর্বের সাথে কথা বলি বাংলায় আর পৃথিবীতে আমাদের ভাষা-ভাষীর স্থান চতুর্থ। 1913 সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলীর জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। ন্যায়, স্বাধীনতা ও সাম্যের জন্যে অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হচ্ছেন আমাদের বিদ্রোহী কবি নজরুল। প্রতি বছর 21শে ফেব্রুয়ারী সারা বিশ্ব "আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস" হিসেবে উদযাপন করে। 1999 সালে বাংলাদেশের সাথে 28টি দেশের এক প্রস্তাবনায় ইউনেস্কো সর্বসম্মতভাবে এই দিনটি পালন করতে একমত হয়। 1952 সালের 21শে ফেব্রুয়ারীতে যেসব বীর সন্তানরা আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষাকে রক্ষা করতে জীবন উৎসর্গ করেন, তাদের প্রতি বিশ্বব্যাপী শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে ভাষা দিবসের পটভূমি। বাংলাদেশ পৃথিবীর একমাএ দেশ যেখানে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ রচনা হয়েছিল ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে।
বিদেশী গনমাধ্যমে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে প্রায়শঃ দারিদ্র্যের সমার্থক হিসেবে চিএিত করা হয়। কিন্তু আমাদের সংস্কৃতিতে প্রাগৈতিহসিককাল থেকে ধনী-গরীব সবাই অতিথির আতিথেয়তায় হৃদয় নিংড়ানো সমাদর করে যা পৃথিবীর অন্যএ সত্যি বিরল। এখানে বিওের দারিদ্র থাকতে পারে, চিওের নয়। এদেশের লোকজনক জীবন-সংগ্রামে অভ্যস্ত। কস্ট-দীনতার মাঝেও এরা কোন অভিযোগ ছাড়াই বেঁচে থাকে যা কোন অর্থনৈতিক সংজ্ঞা ও জিএনআইতে প্রকাশ করা যাবে না। এদেশে গবেষণারত কারেন্স মালোনী সংগতভাবে বলেন, "বাংলাদেশে মানবিক সম্পর্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায়, সংস্কৃতির প্রকাশে, অনুগ্রহের ধারায়, জীবনের প্রাণোচ্ছলতায়, বৈঠকী কথায়- সংক্ষেপে মানবিক গুণাবলীর প্রকাশ অন্য অনেক সংস্কৃতির চেয়ে বাংলাদেশে অনেক বেশী পরিপূর্ণভাবে বিকশিত" (বিহ্যাভিয়ার অ্যান্ড পভার্টি ইন বাংলাদেশ, 1989)।
এটা বেদনাদায়ক হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশে দরিদ্র ও বিওবান উভয় শ্রেণীর মাঝে বাড়ছে দারিদ্র। দরিদ্ররা আর্থিকভাবে দরিদ্রতর হচ্ছে যখন ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে অর্থনৈতিক সুযোগ আর বিওবানরা দরিদ্রতর হচ্ছে মানসিকভাবে যেখানে ক্রমবর্ধমানভাবে তারা বসবাস করছে বাস্তবতা শূণ্যতায় ও মানসিক দেউলিয়াত্বে। বাংলাদেশ উন্নয়নের আর কোন টেস্টকেস নয়, আমরা ভোগবাদী বিলাসবহুল জীবণধারায় চমকে দেয়ার মতো উদাহরণ সৃস্টি করে চলেছি। ঢাকার বিলাসবহুল বিপণীবিতান ও শপিং কমপ্লেঙ্গুলোর দিকে তাকালেই দেখা যায়। খবরে দেখা যায়, বাংলাদেশে এক দরিদ্র নারী দারিদ্রের জালা থেকে বাঁচতে তার চোখ বিক্রি করার চেস্টা করেন যেখানে এখানকার বিওবানরা বিলাসী লেঙ্াস গাড়ী কেনার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। এই চিএ স্পস্টতর করে এদেশের ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের ধারা। ঢাকা শহরে বসুন্ধরা বিপণী বিতান এদেশের বেড়ে উঠা বৈভবের চিএ তুলে ধরে। নিউ ইয়র্ক টাইম 2005-এর জুলাই 20 তারিখে ব্যয়বহুল 80 মিলিয়নের এই বিশাল বিপণী বিতান নিয়ে খবর সবার নজর কেড়ে নেয়। 2000-এর বেশী দোকানের সারি নিয়ে এই ভবন পরিচয় পায় দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সবচেয়ে বড়ো বিপনী বিতান।
ক্রমশঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




