ফেব্রুয়ারীর মাস গর্বের ভাষা আন্দোলনের মাস। 21শে ফেব্রুয়ারী আমাদের আবেগপ্রবণ করে দেয়, "আ মরি বাংলা ভাষার" প্রতি আমাদের অনুরাগ আর শ্রদ্ধার অফুরন্ত উচ্ছ্বাস দেখতে পারি। আনন্দ বই মেলায়, আনন্দ আমাদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে, আনন্দ আমাদের স্বতস্ফুর্ততায়। এতো আনন্দ আর আবেগের ঘনঘটায় আর আত্মপরিচিতির সরণীতে ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের একান্ত ও সম্মিলিত শ্রদ্ধাঞ্জলী বাঙ্গালীর আত্মসওাকে স্বমহিমায় উদ্ভাসিত করে। এখানেই বাংলাদেশের অনন্য পরিচিতি ও স্বাতন্ত্র্য বসবাস করে।
ভাষা আন্দোলনের উওাল দিনগুলোতে যারা শহীদ হয়েছেন আর যারা বলিষ্ঠ অঙ্গীকারে উদ্দীপ্ত হয়েছেন, তাদের সেই ত্যাগ ও প্রচেস্টার সফল প্রকাশ হচ্ছে আমাদের গর্বের বাংলা ভাষা। সেই ভাষা সৈনিকদের একজনের প্রতি আমি আমার হৃদয়-নিংড়ানো শ্রদ্ধা জানাব। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাএদের মিছিলে যখন পাকিস্তানী পুলিশ বাহিনী গুলি ছুঁড়ল, তখন তার বাম দিকের এক তরুন ভাষা সৈনিক মারা গেল, তিনিও মারা যেতে পারতেন। তিঁনি বেঁচে গেছেন বলে এই "আড্ডাবাজের" জন্ম হয়েছে। আমি সেই গর্বিত ভাষা সৈনিকের অপদার্থ সন্তান। কোন যুদ্ধেই যেতে পারিনি বয়সের কারণে। তাই, আমি একজন ভাষা সৈনিক "আমার বাবার" প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আর বাংলা ভাষার প্রতি যত্নবান হয়ে ভাষা সৈনিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবার আহবান জানাই আমার পাঠকদের প্রতি। ভাষা আন্দোলনের উপর আমার বাবার স্মৃতিচারণমূলক লেখার শেষ অংশটুকু থেকে তুলে ধরছি:
"বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রচিত হয় আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের বুনিয়াদ। ভাষা আন্দোলনের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা মনে পড়লে এখনও আমার দেহ-মন শিউরে উঠে। ...চোখ বুজলে মনের মাঝে পরিস্কার ভেসে উঠে সে দিনের মর্মান্তিক দৃশ্যটি। সত্যি, মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আমাদের জাতীয় চেতনার এক উজ্জ্বল শিখা"।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




