যারা লেখেন তারা সবাই পাঠকের ভাল লাগা ও খারাপ লাগাকে খুব মূল্য দেন। আমার ইংরেজী ব্লগে একটি লেখার মন্তব্য আমি সারা বছরের মধ্যে সেরা মন্তব্য হিসেবে মনে করি। গত বছরের এপ্রিলের 24 তারিখে আমার আড্ডার ইংরেজী ব্লগে প্রকাশিত একটি লেখার উপর ক্ষ ুরধার এক মন্তব্য পুরনো ঢাকার এক পাঠকের কাছ থেকে আসে। যারা লেখাটি ইংরেজীতে পড়তে চান, তাদেরকে আমি আড্ডার ইংরেজী ব্লগে গিয়ে পড়তে বলব। এখানে আমি লেখার পটভূমি ও মন্তব্যটির অংশবিশেষ অনুবাদসহ তুলে ধরছি।
এপ্রিলের এসময়ে বাংলাদেশের অতি দারিদ্রতাড়িত এক মহিলা তার চোখ বিক্রির বিজ্ঞাপন পএিকায় দিয়ে বেশ আলোড়ন সৃস্টি করেছিলেন। বাংলাদেশে ধনী আর গরীবের ব্যবধান দ্রুতহারে বাড়ছে, তাতে দারিদ্রের কশাঘাত সহ্য না করতে পেরে মহিলা পএিকার ধারস্থ হলেন। চুরি-ডাকাতি না করে, নিজের চোখ বিক্রি করে তিনি চাচ্ছিলেন দারিদ্র থেকে উওরনের। কিন্তু তার এই চেস্টা আমাদের সামাজিক নিসপৃহতার প্রতি এক বিরাট চপেটাঘাত। যে সমাজ এতো দরিদ্র ও বৈষম্য দেখে নির্বিকার থাকতে পারে, সে সমাজে একটা চোখ থাকুক আর না থাকুক, তাতে কি আসে যায়? আমার এই লেখার উপর মন্তব্য করতে গিয়ে "সাম গাই ফ্রম বকশীবাজার" নামে যে মন্তব্য করেছেন, তা আমাদের সামাজিক আর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের এক অনন্য চিএ তুলে ধরেছে। সেই অজানা মন্তব্যকারীর প্রতি আমার অনেক শুভেচ্ছা। তিনি লেখেন:
"হে: হে: বাংলাদেশের জীবন এতো বেশী যান্ত্রিক, এতোটা অমানবিক, তাতে এধরণের ঘটনা সত্যি আমাকে আনন্দ দেয়। কি বা হতো ভদ্রমহিলা যদি তার চোখ বিক্রি করে ফেলতেন? তার পরেও তো, পরের বছর আবার আমরা অথর্ব রাজনৈতিক নেতাগুলোকে (ক্র্যাপ হেড) ভোট দিব (সবগুলো নেতাই সে রকম), তার পর আবার কোন বাবা/ মা/বোন/ভাই বিক্রি করবে/হারাবে তাদের অন্ত্রনালী/চোখ/যৌনাঙ্গ/অহংকার/সতীত্ব...
বাংলাদেশের অবস্থা এতোই খারাপ যে, যারা উওরোওর উন্নতি লাভ করছে তারা হচ্ছে সমাজের দুবর্ৃও ও দুনর্ীতিবাজ, আর যারা পিছিয়ে পড়ছে তারা হচ্ছে অসহায় ও ভ্যবাচ্যাকা মানুষগুলো। তাই, এটা হচ্ছে দারিদ্রের নিয়তি, নিছক বাস্তবতা, যা কানাডা থেকে এক মন্তব্যকারীর (বিদেশী এক মন্তব্যকারীর প্রতি) কাছে মর্মন্তুদ মনে হবে..."
আমার বলার আর কিছু নেই। বলে, অন্ধজনকে আলো দাও। বিওবান যারা অন্ধের মতো নির্বিকার হয়ে আলোকিত দিনযাপন করেন, তাদের প্রতি কটাক্ষ করে দরিদ্র কেউ যদি চোখের আলোকে পরিত্যাগ করে আঁধারে বসবাস করতে চান চিরতরের মতো, তাহলে তাকে দোষ দিয়ে কি হবে? বাংলাদেশে সামাজিক ডারউইনবাদ জিন্দাবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




