ধর্মকে অবমাননা করার জন্য কেউ কার্টুন আঁকেন, কেউ বইতে লেখেন। ডেনমার্কে প্রকাশিত কাটর্ুন নিয়ে সারা বিশ্বে মুসলমানরা নিন্দা জানাচ্ছেন, মিছিল করছেন, অনেকে মারাও যাচ্ছেন। ইসলাম রক্ষায় আর প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স

এর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্যের অঙ্গীকারে উজ্জীবিত হয়ে সবাই ডেনীশ আর ইউরোপীয়ানদের প্রতি বিষোদগার করছেন। এতে ধার্মিক আর ধর্মান্ধ সবাই একযোগে একএিত হচ্ছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা তথাকথিত ইসলামী আন্দোলন করে, তারাও যখন প্রিয় নবী (স

এর প্রতি ধৃষ্ঠতামূলক লেখেন ও অসম্মান করেন, তখন কি আপামর মুসলিম জনতা এগিয়ে আসেন তার প্রতিবাদে ও প্রতিরোধে? তাহলে, মুসলিম সমাজে এই অসংগতি কেন?
জামাতে ইসলামীর তাওিক পুরোধা আর পাকিস্তানী লেখক মওদুদী যখন প্রিয় নবী (স

এর প্রতি অবমাননাকর ও ধৃষ্ঠতামূলক লেখেন, তখন তার প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ অনিবার্যকারণবশত: তেমনটা সরব হয় না। তাই, তার লেখা বিভ্রান্তিমূলক বইগুলো বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা উচিত। আমি তার লেখার থেকে কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরব যা প্রমান করে মওদুদীর লেখার বিভ্রান্তি, যা প্রকারান্তরে অবমাননা করে ইসলামী বিশ্বাস। নবী-রাসুলরা নিষ্পাপ এসম্পর্কে মুসলিম চিন্তাবিদদের মধ্যে কোন দ্বিমত নেই। ব্যতিক্রম হচ্ছেন মওদুদী। তিনি লেখেন, "নিষ্পাপ হওয়াটা মূলত নবীদের প্রকৃতিগত গুণ নয়... আল্লাহতায়ালা ইচ্ছে করেই প্রত্যেক নবীর উপর কোন না কোন সময় তাঁর হেফাজত উঠিয়ে নেন এবং তাঁকে দু'একটি গুনাহে লিপ্ত হতে দেন.." (মওদুদীর তাফহিমাত, 2য় খন্ড, পৃষ্ঠা 43)। দাজ্জাল সম্পর্কিত হাদীসগুলো সম্পর্কে তিনি লেখেন, "এসম্পর্কে যেসব কথা হুজুরের নিকট হাদীস থেকে বর্ণিত হয়েছে, মূলত এগুলো ছিল তার অনুমান (কিয়াস)। এসম্পর্কে নিজেও সন্দিগ্ধ ছিলেন। এসব কথা তিনি অহী লাভের ভিওিতে বলেননি, বরং অনুমান করে বলেছিলেন" (মওদুদীর রাসায়েল ও মাসায়েল, পৃষ্ঠা 55-56)। পবিএ কোরআন সম্পর্কে তিনি বলেছেন, "কোরআন করীম হেদায়াতের জন্য যথেস্ট, কিন্তু নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়" (মওদুদীর তাফহিমাত, 1ম খন্ড, পৃষ্ঠা 312)। মওদুদী সাহাবাদের সম্পর্কে বলেছেন, "সাহাবাদের মধ্যে জাহিলিয়াতের বদস্বভাবের পুনরাবৃওি ঘটে" (মওদুদীর তাফহিমাত, 2য় খন্ড, পৃষ্ঠা 155)। এধরণের অসংখ্য ভ্রান্ত ও অসংলগ্ন কথা মওদুদীর লেখায় পাওয়া যায়। তার লেখার অনুসারী, ধারক ও বাহকরা অবশ্যই মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উন্মাদনা ছড়াবে, তা আর বিচিএ কি?
এই উপমহাদেশের অন্যতম মুসলিম মনীষী মাওলানা যাকারিয়া (র

মওদুদীর লেখার এই অসংগতি নিয়ে লিখেছেন। তিনি বলেন, "আমার মতে মওদুদী সাহিত্যের সবচেয়ে মারাত্মক ও ভয়ংকর দিক হলো পবিএ কোরআনের মনগড়া ব্যখ্যা। মওদুদী সাহেব নিজেই স্বীকার করেছেন, "নিজের তফসীর লেখার সময় তিনি মনকুলাত বা হাদীস ও পুরনো তফসীরগ্রন্থরাজির প্রতি দৃস্টিপাত করা প্রয়োজন মনে করেননি"। তার তফসীরের শুরুতে তিনি লিখেছেন, "কোরআন পড়ে আমি যা বুঝেছি, আমার মনে যে প্রভাব পড়েছে হুবহু তাই আমি নিজের ভাষায় প্রকাশ করার চেস্টা করেছি" (মাওলানা যাকারিয়ার মওদুদী ফিতনা, পৃষ্ঠা 10-11)।
ইসলামে পবিএ কোরআনের মনগড়া তফসীর করা হারাম। পবিএ তিরমিযী শরীফের হাদীসে আছে, "যে ব্যক্তি পবিএ কোরআনের মনগড়া ব্যাখ্যা দেয় সে যেন তার স্থান দোযখে তালাশ করে"। যারা শিবির-জামাত ও মৌলবাদী আন্দোলন করেন, তারা মওদুদীর বইগুলোকে পাঠ্য হিসেবে ব্যবহার করেন, তার লেখাকে তথ্যনির্দেশিকা হিসেবে ব্যবহার করেন। ইসলামের নামে এধরনের বই ডেনীশ কাটর্ুনের মতই ক্ষতিকর ও অবমাননাকর। একটি তৈরী করেছেন অমুসলিমরা আর আরেকটি তৈরী করেছেন মুসলিম নামধারী মওদুদী এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা। তাহলে মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে মওদুদীর বই কেন নিষিদ্ধ করা হবে না? আর তার লেখার প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের সাথে জড়িত সেই ধর্মান্ধ রাজাকার-জামাতীদেরকেও কেন নিষিদ্ধ করা হবে না? সত্যি কথা বলতে আর তার মুখোমুখি হতে আমাদের এতো অনীহা কেন?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০