somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক পাকিস্তানী বন্ধু:

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ৮:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বেশ অনেক বছর আগে, দেশের বাইরে পশ্চিমের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে যোগ দিয়েছি। সেখানে এক অপরাহ্নে মুখোমুখি হলাম পাকিস্তানী এই ভদ্রলোকের সাথে। তিনিও আমার মতো এখানে আগন্তুক। যারা দেশের বাইরে যান বা থাকেন তারা ভালভাবেই বলতে পারেন যে শ্বেতাঙ্গদের মাঝে বাদামী চামড়ার কাওকে পেলে খুব কাছের মানুষ মনে হয়। ভদ্রলোক আমাকে দেখামাএ উদর্ুতে জিজ্ঞেস করলেন আমার নাম এবং পরিচয়। ধরেই নিলেন আমি স্বজাতির একজন। আমি ইংরেজীতে আমার নাম ও পরিচয় দেওয়াতে ভদ্রলোক খুব একটা খুশী হতে পারলেন না। কথা চলতে লাগল। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "আমি উদর্ু জানি না কেন? কারণ আমরাতো এক দেশেরই বাসিন্দা ছিলাম"। ভদ্রলোককে আমি সরাসরি প্রশ্ন করলাম, "তিনি সেই সাবেক অখন্ড পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলা জানেন না কেন"? ভুত দেখার মতো চমকে উঠলেন আমার প্রশ্নে। আমি বললাম, "তোমার মতো পাকিস্তানীরা যদি বাংলা শেখার মতো উদারতা দেখাত তাহলে হয়তো পাকিস্তান আজও অখন্ডই থাকত"।

ভদ্রলোক করাচী থেকে এসেছেন। বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাগত বিহারীরা করাচীতেই এসে বসত্ স্থাপন করেছেন। তাই, বিহারীদের সম্পর্কে ভদ্রলোকের মনোভাব কেন জানি বেশ নেতিবাচক ছিল? আমি জন্মেছি ঢাকার মোহাম্মদপুরে, সেখানেই আমি বড়ো হয়েছি। আমার চারপাশে ছিল অবাঙ্গালীরা (বিহারীরা)। তারাই ছিল প্রতিবেশী, তাই তাদের সম্পর্কে ভালভাবেই জানি। পাকিস্তানী ভদ্রলোক বেশ খোশ আলাপী ছিলেন। আমরা খাবার টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম। চলতে লাগল আমাদের গল্প। কথার এক পর্যায়ে তিনি অনুযোগের স্বরে বললেন, কি ভালই না হতো আমরা মুসলমানরা যদি একএিত থাকতে পারতাম। আমার উওর ছিল সাদামাটা। বললাম, পাকিস্তানীরা যদি মার্চে গনহত্যা শুরু না করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজয়ী দল আওয়ামী লীগের দাবী মেনে নিত, সম্ভবত আমরা এখনো অখন্ড পাকিস্তানের নাগরিক থাকতাম।

তাকে বললাম, দু:খের বিষয়টা হচ্ছে যে ইসলামের নাম করে পাকিস্তানী আর্মি আর তার সহযোগীরা যেভাবে মানুষ হত্যা করেছে, তারপর পাকিস্তান অখন্ড থাকে কিভাবে? আরও বেশী দু:খের বিষয় হচ্ছে যে, আমরা তো স্বাধীন হয়ে দু'ই নেএীর মারামারির মাঝে গণতন্ত্রের চর্চা খুঁজি, তোমরা তো এখনও সেই একই আর্মির যাঁতাকলের নীচে জীবন-যাপন করছ। আমাদের গণতন্ত্র বিকলাঙ্গ হতে পারে, তারপরেও কিছু একটা পেয়েছি। তোমাদের উপায় কি? গণতন্ত্রতো তোমাদের জন্য সোনার হরিণের মতই রয়ে গেল। লেখাপড়া করা মানুষ আর নিজের জাতীয় স্বওা নিয়ে সচেতন। তারপরেও ফুটে উঠল তার মাঝে হতাশা ও বেদনার দীর্ঘশ্বাস। মেনে নিলেন, কথাটা অমোঘ সত্য। বিষোদগার করলেন সামরিক নেতাদের বিরুদ্ধে। তারপর অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলেন। আমার সেই পাকিস্তানী বন্ধু বুঝতে পারে বাংলাদেশের পটভূমিটি, বুঝতে পারেনা এদেশে অথর্ব রাজাকার-জামাতীরা। তাদের গোয়াতর্ুমির কোন অন্ত নেই। মূর্খ আর কাকে বলে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×