বছর ঘুরে আবার এলো একুশে ফেব্রুয়ারী। বায়ান্নর রক্তঝরা দিনগুলোতে হারিয়ে যাওয়া ভাষা শহীদদের প্রতি ঘটা করে আবার শ্রদ্ধাঞ্জলী ও পুষ্পার্ঘ দেয়া হবে শহীদ মিনারে। চারদিকে সাজ সাজ রব। 54 বছর পর রুটিনমাফিক পরিমিত শ্রদ্ধা দেখানো হবে প্রভাতফেরীতে। উজ্ঝল আলোতে টিভির পর্দায় সারি সারি মানুষ ভীঁড় করবেন শহীদ মিনারের চত্বর। উপচে পড়া মানুষের ভীঁড় স্মরণ করিয়ে দিবে এতো উদযাপন ও আয়োজনের কারণ-বিবরণ। সাড়ম্বর সব উদযাপনের অবসান হবে আনুষ্ঠানিকতার পরিপাটি সাজ-সজ্জায়। তারপর শহীদ মিনারের ফুলের বেদী থেকে মুখ তুলে তাকাতে গিয়ে দেখব হারিয়ে ফেলেছি আমার 'আ মরি' বাংলা ভাষা।
কি সর্বনাশ! এতো কিছুর পর দেখি আমি ভুলে গেছি আমার মায়ের ভাষা। হারিয়ে যাচ্ছে কথার শুদ্ধতা, স্পস্টতা, ও স্বাভাবিকতা। সহজভাবে স্বচ্ছন্দে দু'টো কথা শুদ্ধভাবে বলতে পারিনা। বানান ঠিক করে লিখতে পারিনা। বিশ্বাস না হলে সামনের টিভি অন করে দেখুন। খবর দেখার চেস্টা করুন। তাকিয়ে দেখুন, রাজনীতিবিদ, আমলা, শিক্ষক, সাংবাদিকদের দিকে। তারা হয় জানে না, অথবা বলতে চায় না শুদ্ধ বাংলা। আঞ্চলিকতার টানের চেয়ে অশুদ্ধ ভাবে কথা বলার মধ্যে একটা নিবের্াধ অহংকার থাকতে পারে, তা কেবল এই বাংলায় দেখা যায়। কারও কারও মধ্যে কিছুটা অশুদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সেটাই যদি মূলধারা হয়ে যায়, তখন তা হয়ে দাঁড়ায় খুব কস্টের কারণ। একসময় পাকিস্তানীরা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিল বাংলাকে, আর এখন আমরা খুব অবহেলা করেই ভুলতে বসছি সেই প্রিয় বাংলাকে। একুশে ফেব্রুয়ারীর সব আবেদন ও ভাবনা যখন একদিনের আয়োজনে সীমিত হয়ে আছে, সেখানে সারা বছর ধরে অশুদ্ধ বাংলা বলার উৎসব হবে- তা আর বিচিএ কি? কেন আমরা বেরিয়ে আসতে পারিনা সাজানো এই গন্ডি থেকে। বাংলা চর্চা আর দিন-ক্ষণে বেঁধে রাখতে চাই না। চলুন, এখন থেকে বাংলা চর্চা হোক আমাদের নিত্যদিনের উৎসব ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১২:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




