বিষ্ণু দে'র কবিতার মতো "স্বদেশীয় স্মৃতিই বিলাস" কি না জানি না। স্মৃতির মাঝে বাস করতে বলছি না। বরং স্মৃতি হোক আলোকিত সকালের মতো উজ্জ্বল, উদ্দীপ্ত আর প্রাণবন্ত। সামনে এগোবার শক্তি দিক। একটু আগেই কথা হচ্ছিল একজন মুক্তিযুদ্ধ গবেষকের সাথে। মার্চ মাসের উপর নতুন লেখা বেরোবে। প্রয়োজনীয় রসদের কথা বলতেই বললাম লাইব্রেরীর আর্কাইভে যেতে। খুব হতাশ হয়ে বললেন, 1971 সালের কাগজ পএিকা পাওয়া গেলেও অনেক জায়গায় পাওয়া যায় না রাজাকার বাহিনীর কুকীর্তির কথা। পএিকায় খবরের সেই অংশটুকু কেটে ফেলা হয়েছে। একেবারে উধাও। সত্যি, কিন্তু স্মৃতি থেকে উধাও করবে কি করে?
তাই স্মৃতি কাতরতায় ভুগতে বলছি না। বলছি স্মৃতির রসদ থেকে, ইতিহাসের পাতা থেকে, প্রতিটি পরিবারের ত্যাগ থেকে শক্তি ও প্রেরণা নিতে। প্রিয় বাংলাদেশ জেগে উঠবে প্রতিটি রক্ত বিন্দুর পাওনা বুঝে নিতে। কেউ ঠকাতে পারবে না। কেউ মুছে দিতে পারবে না। তাই অগি্নঝরা মার্চ থেকে প্রেরণা ও শক্তি নেওয়ার জন্য ডাক দিচ্ছি। ডাক দিচ্ছি কলম ধরার জন্য আর অগি্ন ঝরা মার্চকে চোখের সামনে উজ্জীবিত করার জন্য। বুকের ভেতর জলতে থাকা কস্টকে শব্দ দিয়ে, ছবি দিয়ে, গান দিয়ে, আর কবিতা দিয়ে উস্কে দিতে বলছি। বলছি, নতুন বাংলাদেশ গড়তে যেখানে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা শুধু ঘৃণা ও অভিশাপের পংক্তিমালায় উচ্চারিত হবে। যাতে প্রিয় বাংলাদেশের পতাকাকে অপবিএ করার সাহস আর কখনও না করে। দেশকে পুনরুদ্ধার করতে হবে নস্ট হয়ে যাওয়া অপশক্তির ছোবল থেকে। কবিকে দেখিয়ে দিতে হবে, পারি, আমরাও পারি। নস্টদের ছোবল থেকে প্রিয় বাংলা মা'কে মুক্তি দিতে।
[রং=ৎবফ]"আমি জানি সব কিছু নস্টদের অধিকারে যাবে।
নস্টদের দানব-মুঠোতে ধরা পড়বে মানবিক
সব সংঘ-পরিষদ; চ'লে যাবে, অত্যন্ত উল্ল্লাসে
চ'লে যাবে এই সমাজ-সভ্যতা-সমস্ত দলিল
নস্টদের অধিকারে ধুয়ে মুছে, যে-রকম রাস্ট্র
আর রাস্ট্রযন্ত্র দিকে দিকে চ'লে গেছে নস্টদের
অধিকারে। চ'লে যাবে শহর বন্দর গ্রাম ধানখেত
কালো মেঘ লাল শাড়ি শাদা চাঁদ পাখির পালক..."
হুমায়ুন আজাদ[/রং]
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৪:০৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




