somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মর্গে লাশ আর সংসদে বিল:

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ রাত ১১:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঢাকায় ভবন ধ্বসে মৃতু্যর ঘটনার চিএ অনেক বেশী হূদয়বিদারক। ভাষা দিয়ে দু:খ ও ক্ষতি কি প্রকাশ করা যায়? যারা হারিয়েছে, তারা পাথরের মতো ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে আছে- তাদের যন্ত্রণা প্রকাশ করার মতো কোন শব্দ আমার কাছে নেই। দৈনিক ইওেফাকের আজকের খবরে বলা হয়, "নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আসা নারী-পুরুষের আহাজারি ও বিলাপে গতকাল রবিবার তেজগাঁওয়ে বিধ্বস্ত ফিনিক্স ভবনের চারপাশে ছিল শোকার্ত পরিবেশ। এই ভবনের নীচে এখনো কতজন চাপা পড়ে আছে কেউ জানে না। তিন-চার দিনের মধ্যে উদ্ধার কাজ শেষ হবে না বলে ঘটনাস্থলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক লাশ রয়েছে বলে স্বজনহারাদের দাবি। ভবনটিতে 2 শতাধিক শ্রমিক কাজ করছিল। পাশে 25টি বস্তিঘর চাপা পড়ে। এই সকল ঘরে ঘটনার সময় নারী-পুরম্নষ মিলিয়ে কমপক্ষে 30/40 জন ছিল বলে বস্তিবাসীরা জানান। ধ্বংসস্তুপের বস্তির অংশে লাশের দুর্গন্ধ আসছে"।

তার পাশাপাশি ভোরের কাগজের আজকের প্রতিবেদন অনুসারে, "রাজধানীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির সংখ্যা। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে এরকম প্রায় 3 হাজার জরাজীর্ণ বাড়ি রয়েছে নগরীতে। এসব বাড়িতে বসবাসকারী প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই জীবনযাপন করছে। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে মাথাব্যথা নেই সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের। এমনকি 20 মাস পার হয়ে গেলেও এ লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ ও সচিব কমিটি কোনো কাজ করেনি"।

মর্গে যখন লাশ জমা হচ্ছে, স্বজনদের সন্ধানে যখন ভঁীড় বাড়ছে, খবরের কাগজে যখন ছবিগুলো আরো বেদনাহত করছে আমাদের মন, তখন কাকতালীয়ভাবে সংসদে পাশ হলো "ইমারত নির্মাণ বিল 2006"। অভিনন্দন আমাদের করিৎকর্মা সাংসদদেরকে। এদেশের ভবিষ্যত বড়ই উজ্জল যেভাবে চটপট করে এই আইনটি পাশ করা হলো। অবশ্য বিরোধী দলের সদস্যরা বাগড়া দিতে চেয়েছিল, দাবী জানালো পুরোনো আইনের সংশোধন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিল আনার জন্য। কিন্তু তাদের কথায় কান দিলে তো এর মাঝে আরও অনেক ভবন ধ্বসে যেতে পারে। তাই না?

আইনটির খুঁটিনাটি নিয়ে আমি আইনবিশারদদের লিখতে বলব। যতটুকু পড়েছি তাতে আইন অমান্যকারীদের সবের্াচ্চ শাস্তি হচ্ছে সাত বছরের জেল আর 50 হাজার টাকা জরিমানা। বাংলাদেশে একটি ভবন তৈরী করতে লাগে মাএ 15/20 হাজার টাকা! তাই, 50 হাজার টাকার জরিমানার ভয়ে এখন থেকে সব নির্মাতারা তটস্থ হয়ে থাকবেন!!! যারা এই দূর্ঘটনায় মারা গেছেন তাদের কবরের পাশে গিয়ে বলে আসতে হবে, আর 2টা দিন হলে তো তোমাদের আর এভাবে মরতে হতো না, আইনটা পাশ করা পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধরতে পারলে না? এই আইনে শুধু জমির মালিক ও শ্রমিকদের জন্য সাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ যারা অনুমোদন দেন রাজউক এবং যে প্রকৌশলী ডিজাইন করেন এবং যারা নির্মাণ পরিদর্শন করেন তাদের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কারণ, তারা তো আপনাকে ভবন নির্মাণ করতে হাতে পায়ে ধরেনি। তাই দায়-দায়িত্ব এখন থেকে সব নিমর্াতাদের আর বাসিন্দাদের। নিয়ম মাফিক নাস্তা পানির পয়সার যোগান দিয়ে এখন থেকে ভবনের নতুন নকশা কেবল পাশ করে নিবেন।

টিভির খবরে বারবার প্রচারিত মাননীয় পূর্তমন্ত্রীর বক্তব্যে সাহস পাচ্ছি, "কেউ মাপ পাবে না"। অবশ্যই মাফ্ পাবে না, কারণ যারা হারিয়েছে তারা তো স্বজনকে আর কখনো ফিরে পাবে না, তারা মাফ্ করবে কোত্থেকে? রাজনীতি আর প্রশাসনের সর্বএই যখন জবাবদিহিতা ধ্বসে পড়েছে, দূনর্ীতির রাজমুকুট ধারণ করে আছি, সেখানে ভবন ধ্বসা তো অতি তুচ্ছ মামুলী ব্যাপার। ইমারত নিমর্াণ আইন দিয়ে কি হবে, যেখানে একটি ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ সমাজ নির্মাণের দাবীকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা হচ্ছে। কবে হবে নির্বিকার বিবেকের নির্বাসন? আর কতো মৃতু্যর দরকার এই মৃত বিবেকে প্রাণ জাগাতে...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গ্রেট প্রেমানন্দ মহারাজ

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮



'প্রেমানন্দ' একজন ভারতীয় হিন্দু তপস্বী ও গুরু।
১৯৭১ সালে কানপুরের কাছে 'আখরি' গ্রামে তার জন্ম। দরিদ্র পরিবারে জন্ম। ১৩ বছর বয়সে প্রেমানন্দ সন্ন্যাসী হওয়ার জন্য গৃহ ত্যাগ করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুতাপ (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯

একনাগাড়ে ৪-৫ বছর কাজ করার পর রহিমের মনে হলো, নাহ! এবার আরেকটা চাকরি দেখি। লোকাল একটা কোম্পানিতে কাজ করত সে। কিন্তু কোনকিছু করার জন্য শুধু ভাবনাই যথেষ্ট নয়। সে চাকরির... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৩৩


করোনার সময় নানান উত্থান পতন ছিল আমাদের, আব্বা মা ছোটবোন সহ আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় মরে যেতে যেতে বেঁচে গিয়েছিলাম শেষ মুহূর্তে, বেঁচে গিয়েছিল আমাদের ছোট্ট সোনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডোগান- এক রহস্যময় জাতি

লিখেছেন কিরকুট, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ বিকাল ৫:১০



আফ্রিকার মালি এর হৃদয়ে, খাড়া পাথুরে পাহাড় আর নির্জন উপত্যকার মাঝে বাস করে এক বিস্ময়কর জনগোষ্ঠী ডোগান। বান্দিয়াগারা এস্কার্পমেন্ট অঞ্চলের গা ঘেঁষে তাদের বসতি । এরা যেন সময় কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৩)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



সূরাঃ ১৩ রাদ, ১১ নং আয়াতের অনুবাদ-
১১। মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে। উহারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আর আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×