তার পাশাপাশি ভোরের কাগজের আজকের প্রতিবেদন অনুসারে, "রাজধানীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ির সংখ্যা। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়তে পারে এরকম প্রায় 3 হাজার জরাজীর্ণ বাড়ি রয়েছে নগরীতে। এসব বাড়িতে বসবাসকারী প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ ঝুঁকি নিয়েই জীবনযাপন করছে। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে মাথাব্যথা নেই সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় বা কর্তৃপক্ষের। এমনকি 20 মাস পার হয়ে গেলেও এ লক্ষ্যে গঠিত মন্ত্রিপরিষদ ও সচিব কমিটি কোনো কাজ করেনি"।
মর্গে যখন লাশ জমা হচ্ছে, স্বজনদের সন্ধানে যখন ভঁীড় বাড়ছে, খবরের কাগজে যখন ছবিগুলো আরো বেদনাহত করছে আমাদের মন, তখন কাকতালীয়ভাবে সংসদে পাশ হলো "ইমারত নির্মাণ বিল 2006"। অভিনন্দন আমাদের করিৎকর্মা সাংসদদেরকে। এদেশের ভবিষ্যত বড়ই উজ্জল যেভাবে চটপট করে এই আইনটি পাশ করা হলো। অবশ্য বিরোধী দলের সদস্যরা বাগড়া দিতে চেয়েছিল, দাবী জানালো পুরোনো আইনের সংশোধন না করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিল আনার জন্য। কিন্তু তাদের কথায় কান দিলে তো এর মাঝে আরও অনেক ভবন ধ্বসে যেতে পারে। তাই না?
আইনটির খুঁটিনাটি নিয়ে আমি আইনবিশারদদের লিখতে বলব। যতটুকু পড়েছি তাতে আইন অমান্যকারীদের সবের্াচ্চ শাস্তি হচ্ছে সাত বছরের জেল আর 50 হাজার টাকা জরিমানা। বাংলাদেশে একটি ভবন তৈরী করতে লাগে মাএ 15/20 হাজার টাকা! তাই, 50 হাজার টাকার জরিমানার ভয়ে এখন থেকে সব নির্মাতারা তটস্থ হয়ে থাকবেন!!! যারা এই দূর্ঘটনায় মারা গেছেন তাদের কবরের পাশে গিয়ে বলে আসতে হবে, আর 2টা দিন হলে তো তোমাদের আর এভাবে মরতে হতো না, আইনটা পাশ করা পর্যন্ত তোমরা ধৈর্য ধরতে পারলে না? এই আইনে শুধু জমির মালিক ও শ্রমিকদের জন্য সাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ যারা অনুমোদন দেন রাজউক এবং যে প্রকৌশলী ডিজাইন করেন এবং যারা নির্মাণ পরিদর্শন করেন তাদের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা নেই। কারণ, তারা তো আপনাকে ভবন নির্মাণ করতে হাতে পায়ে ধরেনি। তাই দায়-দায়িত্ব এখন থেকে সব নিমর্াতাদের আর বাসিন্দাদের। নিয়ম মাফিক নাস্তা পানির পয়সার যোগান দিয়ে এখন থেকে ভবনের নতুন নকশা কেবল পাশ করে নিবেন।
টিভির খবরে বারবার প্রচারিত মাননীয় পূর্তমন্ত্রীর বক্তব্যে সাহস পাচ্ছি, "কেউ মাপ পাবে না"। অবশ্যই মাফ্ পাবে না, কারণ যারা হারিয়েছে তারা তো স্বজনকে আর কখনো ফিরে পাবে না, তারা মাফ্ করবে কোত্থেকে? রাজনীতি আর প্রশাসনের সর্বএই যখন জবাবদিহিতা ধ্বসে পড়েছে, দূনর্ীতির রাজমুকুট ধারণ করে আছি, সেখানে ভবন ধ্বসা তো অতি তুচ্ছ মামুলী ব্যাপার। ইমারত নিমর্াণ আইন দিয়ে কি হবে, যেখানে একটি ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ সমাজ নির্মাণের দাবীকে প্রতিনিয়ত উপেক্ষা করা হচ্ছে। কবে হবে নির্বিকার বিবেকের নির্বাসন? আর কতো মৃতু্যর দরকার এই মৃত বিবেকে প্রাণ জাগাতে...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



