(1ম পর্ব)
শোহেইল মোতাহের চৌধুরী তার দূরের জানালা ব্লগে একটা গঠনমূলক প্রস্তাব দিলেন, "কি লেখা উচিত এবং কিভাবে লেখা উচিত"। তাই, ভাবলাম লিখে ফেলি কিছু একটা। ব্লগে লেখার ব্যাপারে আমার এই লেখাটা কেমন লাগল অবশ্যই জানাবেন। আমি আরও ক'টা ধারাবাহিক পর্বেএই লেখাটা প্রকাশ করব। এতে অবশ্য রাজনীতির কোন ছোঁয়া থাকবে না। তাই ভূতসহ সকল শরীরি ও অশরীরি পাঠককে স্বাগত জানাই।
সুন্দর ও সহজ করে লেখা ও বলা সত্যি একটি আর্ট। সবার প্রশ্ন: সুন্দর করে লেখা যায় কিভাবে? কঠিন ও জটিল শব্দ ব্যবহার করে আমরা লেখাকে বুঝার জন্য অবোধ্য করে ফেলি। লিখবেন ছোট ছোট বাক্যের ব্যবহার করে। লিখবেন শুদ্ধ বানান ও সঠিক শব্দ চয়ন করে। খেয়াল রাখবেন, লেখায় ধারাবাহিকতা আছে কি না? লেখার বিষয় কি? সহজ ভাষায় লেখার আরেকটা কায়দা হচ্ছে, ভাববেন আপনার লেখাটা পাঠকের সাথে কথা বলছে। সহজ কথা কঠিন করে বলা সহজ, কিন্তু সহজভাবে বলা তার চেয়েও কঠিন। লেখাটা ভাব বিনিময়ের জন্য। তাই অসংখ্য ভাব দিয়ে লেখাটাকে ভারাক্রান্ত করবেন না। কি নিয়ে লিখবেন, কাগজে টুকে রাখুন। কি কি বিষয় নিয়ে লিখবেন, তালিকা করে নিন। তা কাজে লাগবে পরে। লেখাতে মিশিয়ে দিন আপনার আবেগ ও হৃদয়ের ছোঁয়া। নিজের লেখাকে বিভিন্ন সময়ে বারবার পড়ে দেখুন, সম্পাদনা করুন। একসময় নিজেই বলে উঠবেন: "লেখাটা চমৎকার"।
অসংখ্য কবিতা ও প্রবন্ধ পড়ুন। শব্দ চয়নগুলো দেখুন। লেখার মাঝে কোন অসংগতি ও অসামঞ্জস্যতা আছে কি না তা লিখে রাখুন। হাতের পাশে বাংলা ও ইংরেজী অভিধান রাখুন। অন্যকে বলুন, আপনার লেখার সমালোচনা করতে, শুধু বিষয় নিয়ে নয়, ধরণ নিয়েও। আপনার লেখা নিয়ে হতাশ হবেন না, কথা বলতে পারাটা যেমন একদিনে হয়নি, লেখাটাও তেমন। এর জন্যে দরকার চর্চার। বড়ো লেখার দরকার নেই। ছোট করে লিখুন। কিন্তু লিখুন এমনভাবে যাতে আপনার লেখাটা পাঠকের মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পাঠ্যচক্র তৈরী করুন। আড্ডার ফাঁকে 15মিনিটের জন্য আলাপ করুন, সবার পড়া বইটি কেমন লেগেছে? যদি লিখতে চান, লেখার নেশা করুন। সুস্থ সমাজ ও সংস্কৃতিমনা মনন নিমর্াণে প্রয়োজন চমৎকার লেখা। আপনার লেখা ভাবনার জগতে আনবে বিপ্লব। ভাবনার হাত ধরে আসবে পরিবর্তন। বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ লেখার সুযোগ করে দিয়েছে। বাকীটা এখন আপনাদের উপর। ক্রমশ:...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
