(আড্ডার একান্ত ভাবনা)
হঠাৎ অতীত নিয়ে কিছুটা স্মৃতি কাতরতা বা নস্টালজিয়ায় ভুগছিলাম। অবসন্ন দিনের বেলা সময় কাটাবার একটা ছুতো খুঁজা। আমার লেখা নেহাতই সময়ের শৃংখল থেকে বেরিয়ে আসতে একটা ব্যর্থ প্রয়াস-প্রচেস্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘড়ির কাটা ধরে সময় যাচ্ছে, বাড়ছে বয়স, বাড়ছে ব্যস্ততা, বাড়ছে দায়িত্ব, বাড়ছে ভাবনা। তাই, লেখার যৎসামান্য চেস্টা একটা ব্যতিক্রমী বিনোদন। ছকে বাঁধা ব্যস্ততায় হঠাৎ নীরব ছন্দপতন। খারাপ লাগে না। কারণ, জীবনটা যন্ত্র না। আর যান্ত্রিকতায় মুক্তি নেই, আছে একঘেঁয়েমী। সকাল-সন্ধ্যা ব্যস্ততার ছক থেকে মাঝে মাঝে অবসরের চেস্টা আনে কিছুটা বৈচিএ্য, কিছুটা আনন্দ, কিছুটা তৃপ্তি। মন্দ কী?
মজার ব্যাপার হচ্ছে আমার বাসার তেমন কেউ জানে না, আমি যে লিখছি। পরিচিতিটা উহ্য রেখে লেখাগুলো শেয়ার করতে খারাপও লাগছে না। নানান প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য কানে আসে। কিন্তু সবচেয়ে বড়ো সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে বাবার জন্য। ভাবছি, আরও কিছুদিন যাক, তারপরেই না হয় বাবাকে বলব, "দ্যাখো তো, কেমন লাগছে আমার লেখাগুলো"। বাবা নিজেই লিখেন। তার লেখা মাঝে মাঝে পএিকায় বের হতো। বেশ ক'টা অনুবাদও তার প্রকাশ পেয়েছে। ইদানীং তার পক্ষে তেমন লেখা আর সম্ভব হয় না বয়সের কারণে। কিন্তু লেখা-পড়ার ব্যাপারে বাবার সাথে ভাবনার বিনিময় আর বিতর্ক প্রায়ই হতো এবং এখনও হয়। প্রায়শ:ই অনড় থাকতাম আমরা যার যার চিন্তায়।
একটা মজার কথা মনে পড়ে, আমি আর আমার বোন প্রায়ই বকা খেতাম, "ভীষণ মজা হবে" এ কথা বলার জন্য। বাবার কথা হচ্ছে, "ভীষণ মজা" বললে বাক্যে ভুল হয়। সংশোধন করে বলতেন, বলো "খুব মজা" হবে। সবচেয়ে সুখকর স্মৃতি হচ্ছে, বড়ো হওয়ার পরও কোন মজার বিষয় বা গল্প পেলে বাবা আমাদেরকে পড়ে শুনাতেন, তা কখনও কখনও আনন্দদায়ক মনে হলেও অনেকসময় শাস্তিমূলক মনে হতো। এখন কিন্তু আমরাই বেশী বাবাকে পড়ে শুনাই। বাবার সাথে আমার সখ্যতা ও সম্পর্কের গভীরতা শুধু রক্তের বাঁধনে নয়, লেখা-পড়া ও আড্ডার মাঝেও। এরকম সহজ, আনন্দঘন, তর্কমূখর, তৃপ্তিময় সম্পর্কের বাঁধন কেটে আমার বাবা কি কখনও চলে যেতে পারেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
