জীবণ শুধু দু:খবোধ ও যন্ত্রণার অগ্রন্থিত কথনিকা নয়, সুখবোধের ভাবনা আচ্ছন্ন করে রাখুক আমাদের সকাল-সন্ধ্যা-দিন-রাত। এরকম একটা মঙ্গল কামনাকে সম্বল করে নিজস্ব ভাবনার প্রশস্ত করিডোরে হারিয়ে যাওয়ার মধ্যে অনেকে নার্সিস্টিক ভাবনার গন্ধ পেলে আমি ক্ষমাপ্রাথর্ী। ভানুর কৌতুকের মতো সবকিছু সহ্য হয়ে যাবে বলে নেক্সট আইটেম নিয়ে একরাশ ভাবনা আমরা প্রথাগতভাবেই শুরু করি। সেই তুলনায়, পশ্চিমা বস্তুবাদী জীবণধারায় 'এর চেয়ে অধিকতর ভাল কিছু হতে পারত না' বলে একটা ভাব প্রকাশের মধ্যে অহমিকাবোধ বা সহজতাবোধ থাকতে পারে হয়তো, কিন্তু তাতে বাস্তবতাবিবর্জিত স্বপ্নবিলাস কাজ করে না। উপযোগিতাবাদিরা প্রতিনিয়ত সংগ্রাম ও প্রতিযোগিতার মধ্যে সুখ বিলাস খুঁজে নেয়, সেখানে আমরা নিয়তিবাদী হয়ে সুখ চিন্তা বিসর্জন করে দু:খবিলাস করতে ভালবাসি।
গ্রীক মিথোলোজীর প্যান্ডোরার বাক্স খুলে তাবৎ অনিস্টের পাশাপাশি একটু আশা আর একটু স্বপ্ন যে মানুষকে বিরামহীনভাবে অনুসরণ করছে তা আমরা একেবারে ভুলে যেতে চাই। হতাশার চাষাবাদ তো আমাদের ধর্মেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে যা করুণাময়ের কল্যাণের ধারা নিয়ে আসবে। এরকম আত্মবিশ্বাসী প্রত্যাশার মাঝে বেড়ে উঠা মানুষকে দু:খবোধ খুব একটা কাবু করতে পারে না। আমরা এক ধরণের ধূসর বাস্তবতায় জীবণ-নির্বাহ করলেও তার মাঝেও স্বপ্নের সোনালী সূর্য উঁকি দেয়। প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ তো বলে উঠেন,
"...পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন,
মানুষেরা রবে না আর, রবে শুধু মানুষের স্বপ্ন তখন
সেই মুখ আর আমি রবো সেই স্বপ্নের ভিতরে"।
তাই সুখের আর স্বপ্নের চমক দিয়ে প্রত্যয়ী ভাবনায় জীবণ সাজাতে পারলেই নিত্যদিনের জীবণ অনেক আনন্দের হয়ে উঠবে। তাই আমি সোচ্চার, "আমি সুখী মানুষ"। বেঁচে থাকতে চাই সুখী ও আনন্দিত মানুষ পরিবেস্টিত হয়ে। আপনার কে কে আমার সাথে যোগ দিবেন আজকের সকালের আনন্দ গীতমালায়
?
"সদা থাকো আনন্দে, সংসারে নির্ভয়ে নির্মলপ্রাণে
জাগো প্রাতে আনন্দে, করো কর্ম আনন্দে,
সন্ধ্যায় গৃহে চলো হে আনন্দগানে
সঙ্কটে সম্পদে থাকো কল্যাণে,
থাকো আনন্দে নিন্দা অপমানে।
সবারে ক্ষমা করি থাকো আনন্দে,
চির-অমৃতনির্ঝরে শান্তিরসপানে"
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



