somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বি কে স্যার।

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


টিক ঠকাস...

ম্যাটাডর অরবিট এর লাল পেন দিয়ে একটা টিক দিল স্যার।
কিন্তু দাগ পড়লো না।আবার একটা টিক দিলো

টিক ঠকাস...

আবারও একই অবস্থা দাগ পড়েনি।

দাগ পড়ে না কেন?
কিছুটা বিরক্ত হয়ে স্যার জিজ্ঞেস করলো।

কালি নাই স্যার।
কালি নাই, তাহোলে এই কলম রেখে দিয়েছ কেন?ফেলে দাও।
স্যার এটা B.K স্যারের কলম।
B.K স্যার কে?
বিবেকানন্দ কবিরাজ, স্যার।

আমি ইংলিশ গ্রামারের অর্ধেক,ম্যাথের অর্ধেক, কৃষির যাবতীয় সব খুঁটিনাটি শিখি বিবেক স্যারের কাছ থেকে।বলতে গেলে এইসব বিষয়ে অর্ধেকটা পূর্ণতা দিয়েছে স্যারই।স্যারের এই একটা কলম সৃতি হিসাবে রেখে দিয়েছি। পড়ানোর প্রায় শেষদিকে স্যারের কলমের কালি ফুড়িয়ে যায়।স্যার,কলমের কালি শেষ হয়ে গেলে ফেলতেন না।টেবিলে রেখেই চলে যেতেন।আর ফেলানোর দায়িত্ব পড়তো আমার কাছে। আমি যত্ন করে সব তিন তালা থেকে ফেলে দিতাম।কিন্তু পরে যখন স্যারের পড়ানোর দিন শেষ হতে লাগলো,যখন শৈশবের স্যারদের বুঝতে শিখলাম,মনে ধরে রাখতে শিখলাম তখন এই কলমটা নিয়ে রেখে দিয়েছিলাম।অবশ্য কাওকেই কলমটা দেখিয়ে গর্ব করে বলিনি যে কলমটা আমার বিবেক স্যারের!আমি গর্তজীবী মানুষ।আমার যত সব আনন্দ,ফাযলামি স্ট্যাটাসেই সিমাবদ্ধ,এর বাইরে আমি যাই না।আসলে পারি না!

নামের সাথে অনেকের চরিত্রের মিল থাকে না। যেমন কারর নাম হয়,মুগ্ধ।অথচ দেখা যায় মুগ্ধ হওয়ার কোন ক্ষমতা তার নেই!অনেকের নাম হয় সাথী, দেখা যায় তাদের সাথীর বড়ই অভাব।(এটা আমার ব্যাক্তিগত গবেষনা,ঠিক নাও হতে পারে!)কিন্তু বিবেক স্যার ছিলেন একেবারেই পারফেক্ট!আমার মা তো একদিন মুক ফসকে বলেই দিলো,বিবেক নাম,আসোলেই মানুষটা বিবেক আছে,এই কথাটার একটা মানে,স্যার আমাকে একদিনও পড়া বাদ দেননি!বাদ দিলেও পরে যেদিন পড়ার দিন না সেদিন মেক আপ করে দিয়েছেন।একবারে টাইম টু টাইম এসেছেন।চারটায় আসার কথা থাকলে কোনদিনও ৫ টা বা তার পরে আসেননি।সত্যিই বিবেকসম্পন্ন মানুষ!

সৃষ্টিকর্তা সবদিকে দয়া করেন না।একদিকে ফাঁক থাকেই।স্যারের বেলায়ো এর ব্যাতিক্রম হয়নি।কারর ক্ষেত্রেই হবে না। সৃষ্টিকর্তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যেভাবে সৃষ্টি করেছেন,যে ব্রেন দিয়েছেন আর পাঁচটা মানুষকেও তিনি তাই দিয়েছেন,যাদের প্রবল ইচ্ছা থাকে তারাই উঠতে পারে।(এটাও আমার গবেষনা,নাও মিলতে পারে!)অবশ্য পাঁচটা জিনিস সৃষ্টিকর্তা আগে থেকেই নির্ধারন করে দেন।

কিছুদিন আগে শুনলাম স্যারের যমজ সন্তান হয়েছে।সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ শুকরিয়া।সৃষ্টিকর্তা অনেক সময় সবাইকে না দিয়েই তাকে ডেকে নিয়ে নেন!স্যারের ক্ষেত্রে তিনি করেননি এতেই আমার খুশিতে চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।অনেক ভালো থাকুক স্যারের সন্তান।স্যারের সন্তান'রা যেন স্যারের চেয়েও বিবেকসম্পন্ন হয়,এবং স্যার আমাকে যেভাবে জ্ঞান দিয়েছে তা সত্যিই অতুলনীয়, স্যারদের সন্তানরা যেন অতিরিক্ত বেশি জ্ঞানী হয়,সৃষ্টিকর্তার কাছে এই দু'য়া করি।
আমিন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

‘সবচেয়ে কঠিন’

লিখেছেন আবু সিদ, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:১৫


আমি সাদ। আমার বয়স ১৭ বছর। আমি ক্লাস টেনের ছাত্র। আমার ক্লাসের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বয়স ১৫ বা তার আশপাশে। আমারও ১৫ বছর বয়সে ক্লাস টেনে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্চে রাজনৈতিক বিভাজন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৪



উদীচী পুড়ার সময় কি হারমোনিয়াম, তবলা, একতারা, দোতারা, সেতার কিংবা বাঁশি পুড়েনি?, মনে রাখবেন তখন আগুন শুধু কিছু বাদ্যযন্ত্র পোড়ায়নি, -পুড়েছিল এই বাংলার সংস্কৃতির, এই বাংলার শত কোটি মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মেটিকুলাসলি ডিজাইন' করে সিলেটকে অশান্ত করে তোলার অর্থ কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৫

সিলেটে এন,সি,পি সাংগঠনিক ভাবে দূর্বল।
দলের ভিতরে কোন্দল মারাত্মক তা ফেসবুকে দলীয় নেতা কর্মীদের পোস্ট দেখে বুঝা যায়।
অথচ, সামনে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন।
এই পরিস্থিতিতে, দলের মানুষদের 'গরম' করে তোলার একটাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২৮

স্বাক্ষী থেকো বাংলাদেশ, স্বাক্ষী থেকো ১৮ কোটি মানুষ।
================================
ইতিহাস কখনো মুছে যায় না। যে জাতি তার মানুষের কান্না, আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের দাবি ভুলে যায়, সে জাতির ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়ে।
আজ এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অন্তর্দহনের ওপারে প্রশান্তি

লিখেছেন মুহাম্মদ তমাল, ৩১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৫৩



প্রিয় আকাশ,
মাঝে মাঝে তোমার দিকে তাকিয়ে মনে হয়, তুমিই সৃষ্টিকর্তার সবচেয়ে নিঃশব্দ প্রাঙ্গণ। তাই আমার সমস্ত অভিযোগ, অনুযোগ, ক্ষোভ, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত আর্তনাদ তোমার দিকেই ছুড়ে দিই। তুমি নির্লিপ্ত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×