somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি ও কবিতা

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





কবি তিনি যিনি সাধারণের মাঝে বিচরণ করেন । সাধারণ কে সত্তায় ধারণ করেন । কিন্তু সাধারণের আবেগ অনুভূতিকে সত্তায লালন করেন না । এজন্য কবি সাধারণের কাছে অপাঙক্তেয় ; কারো কাছে অপাদার্থ ও বটে । লোকে সপ্ন দেখে মানুষ হবার কিন্তু কবি কি জানে তার স্বপ্ন কি ? তিনি এক অপরিনামদর্শী সাধানায় লিপ্ত । কবির পদযাত্রা ঠিকানহীন গন্তব্যে নয় কি ? তিন লিখেন আত্মার মুক্তির জন্য ; কাউকে মুক্ত করার জন্য নয় । কবি নিজেই অস্পৃশ্যের শৃঙখল থেকে মুক্ত নন- কোন অদৃশ্য শক্তির টানে তিনি লিখে যান ; উড়ে যান কোন এক সুতো ছেঁড়া ঘুড়ির মতো ।
ব্ন্ধুবর আইবেকশাহ আকাশের ভাষায়-
“ হায় সুতো ছেঁড়া ঘুড়ি
তুমি তো জানলেনা
ফেরারি ফিরলো কোথায় ?
অবশেষে কোন দৈব্য অমানিশারে
দিল উড়ো চিঠি ! ”

লোকে বলে কবির চেয়ে কাকের সংখা নাকি বেশি । সস্পটতই বোঝা যাচ্ছে কবি তে এ শ্রেণীর এলার্জি ।অথচ জীবনানন্দ বলছেন, ‘ সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি ।’ ফরাসি কবি শার্ল বোদলেয়ারের সংগ্রাম ছিলো যা কিছু কবিতা নয় তাকে কবিতা থেকে বাদ দিতে হবে । কবি মুহাম্মদ রফিক বলেন , ‘সব শালা কবি হতে চায় । ’

কবিতা লেখলেই কি কবি হওয়া যায় ? আমরা সাধারণত বলি আমি একটি কবিতা লেখেছি । একটু চিন্তা করছিনা সেটি আসলে কবিতা হয়েছে কিনা ? হলে আদৌ কতটুকু হয়েছে । বুঝতে ও পারছিনা আমার ভেতরে কবিতার বোধ আছে কতটুকু ! ভাবছিনা কবিতা বিষয়ে আদৌ আমার কোন পড়াশুনা আছে কিনা । অথচ মনে মনে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছি অনন্য উচ্চতায় । নামের সাথে কবি শব্দ ব্যবহার করে কেউ কেউ নিজেকে ধন্য করছেন !

কবিতার নির্দিষ্ট কোন সংগা নেই । কবিতা অনুভূতির বিষয় । যুক্তি বিদ্যায় কবিতার বিশ্লেষণ চলেনা । অনেকে কবিদের কে জ্ঞান দেন - এভাবে লেখবেন না , ও ভাবে লেখবেন , এত কঠিন করে লেখেন কেন ? কবিতার পক্ষে কি আদৗ কঠিন কিংবা সহজ হওয়া সম্ভব ? কবিতা কে কি করে কৃষকের কাছে পৌঁছানো যেতে পারে ? এর একটি ভাব আছে । এঁর একটি শৈল্পীক মুল্য ও থাকা চাই ।

একজন ভদ্র লোক সারা জীবন ব্যয় করেছেন শিল্পের পেছনে অথচ তিনি কিনা একটি সিনেমা নির্মান করলেন- যার নাম ‘ খাইছি তোরে ।’ আর যাই হোক ‘খাইছি তোরে’-এর সাথে কবি ও কবিতার কোন সম্পর্ক থাকতে পারেনা । ব্যবসায়িক সাফল্য এবং গণমানুষের মনোরঞ্জণের সাথে কবি ও কবিতার সম্পর্ক নেই । কবিতা গণমানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন কোন সত্তা নয় তবে গণ মানুষই এর অর্থ উদ্ধারে ব্যর্থ হন । ফলশ্রুতিতে কবি ও কবিতার সাথে তৈরি হয় এক অদৃশ্য বিদ্বেষ । এর জন্য কে দায়ী জানিনা তবে এর দায় ভার কবি ও কবিতা নিতে পারেনা ।

“আমি কবি বলে অন্ধেরা খুলে দেয়
বন্ধ দুয়ার
আমি কবি বলে নারীর সফেদ বুকে
নামে হিমেল অন্ধকার
আমি কবি বলে শ্যাওলা পড়া পাথরের বুকে হয়
রেশমের চাষ
আমি কবি বলে সৌম্য চঞ্চল চোখে তার
প্লাবনের উদ্ভাস ”

এটি আদৌ কবিতা হয়েছে কিনা বা কতটুকু হয়েছে সে বিশ্লেষণে না গিয়ে যুক্তি বাদীরা যখন প্রশ্ন করে বসেন- কি করে অন্ধেরা বন্ধ দুয়ার খুলবে ? কি ভাবে পাথরের বুকে রেশমের চাষ হবে ? তখন কবিতা বিষয়ে যুক্তিবাদীদের জ্ঞানের গভীরতা টের পাওয়া যায় । কবিদের মধ্যে ও কেউ কেউ এধরনের প্রশ্ন করেন । এসমস্ত কবি ও যুক্তিবাদীরাই কবিতাকে সহজ করে লেখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।

কবিতার পাঠক কবি ও সাহিত্যিকরাই ….এতদসত্তেও সমকালীন কবিদের পরস্পরের মধ্যে ও বিদ্বেষ কাজ করতে পারে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারেও । ফরাসি কবি গোতিয়ে এবং শার্লবোদলেয়ার দুজনই ঐ দেশের বিখ্যাত কবি ছিলেন কিন্তু গোতিয়ে কখনও বোদলেয়ার কে কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেন নি । এতে বোদলেয়ার তার সহজাত লেখা থেকে এতটুকু বিচ্ছুত হন নি ।

কবি একটি confusing character এর নাম । confidence রেখে কোন প্রতিশ্রুতি দেয়া কবি কে মানায় না বলে সুনির্ষ্ট লক্ষ্য স্থির করা তার জন্য কঠিন ।

কবির ভাষায়--
“তুমি লিখোনা, লিখোনা আমায় বন্ধু !
সমাজ-সংস্কারের মাথা খেয়োনা
নেমোনা কো মাঠে আদাজ্বল খেয়ে
নিভৃতেই ফেলো নিঃশ্বাস !
আমি ঘ্রাণ শুঁকে চিনে নিবো
এ তোমারই দীর্ঘশ্বাস !”

কবি এখানে সংযমের ভূমিকায় - প্রেয়সিকে সংস্কারের খোলসমুক্ত হয়ে লোকালয়ে আসাকে নিষেধ করছেন ।

অন্য দিকে
কবি বলছেন--
আমার চোখ ফেটে যায় বুক ভেঙ্গে যায়
না বলা কথার কান্নায়
সূর্য ওঠে সূর্য ডোবে কাল কাটে প্রতিক্ষায়
তবু অসেনা সময়
শিউলির গন্ধ ভেসে আসে আসোনা তুমি !"

যে কবি প্রেয়সীকে সংস্কারের খোলসে থাকতেই অনুরোধ করেছেন তিনিই আবার এখানে করুণ সুরে প্রেয়সী কে আহ্বান করলেন !

কবি কখনও প্রেয়সির হৃদয়ের গরল পান করে মহান হন --
হে নির্বাক নন্দিনী---
পথে হলো দেখা
নির্মোহ হাত দুটি দিলে বাড়িয়ে
গড়ে দিলে মঞ্চ এক
তুলে সুরের ঐকতান
হৃদয়ের গরল হৃদয়ে ঢেলে
করিয়ে দিলে স্নান !

কখনওবা হৃদয়েই পূঞ্জীভূত রাখেন হৃদয়ের উত্তাপ--

“ছিন্ন পালকের মতোই ছিলাম
কখনও বা বিবর্ণ পথিক
উর্বশী হৃদয়ের উত্তাপে পোড়ালে আমায়ে
দিলে নিঃস্বর্গের আয়েশ ।
আরশিতে নিজের শ্রী দেখে ভেবে ছিলে
এ বুঝি আমারই মুখ !
হৃদ মন্দিরে তোমার হৃদয়া হেয়েছি
এ আমারই পরম সুখ ।”

কবিতা হলো কবির আত্মা । মার্কেটিং এর শব্দগুলোর সাথে কবি ও কবিতার আজন্ম বিদ্বেষ । এতদসত্তে ও কবি কে করে যেতে হচ্ছে আজন্ম আত্মার মার্কেটিং ।

কবি এক অভিমানি সত্তার নাম । অভিমান কবির রক্তে দুন্ধুভি বাজায় । তুলে সকরুণ সুর-

“ কবি, অতৃপ্তির কালি দিয়ে তোমার ভাগ্য লেখা
সাধ্য কি তুমি তৃপ্ত হও !
অভিমান তোমার রক্তে দুন্ধুভি বাজায়
এ ভাবেই ছাড়তে হবে ভূবন ।”

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৫৯
৮টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×