somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কবি তিনি যিনি সময়ের ভিতর দিয়ে হেঁটে যান কিন্তু সময়ের কাদামাটি গায়ে মাখেন না । নিজ অন্ত:পুরেই রাখেন সময়ের আক্ষেপ । কবি একজন natural character তাই তাকে নির্ভেজাল সাধক ও বলা যেতে পারে । তিনি সমগ্র সত্তা দিয়ে ভালবাসতে জানেন । কিন্তু ভালবাসার দাবি পুরণে তাকে পুরোপুরি ব্যর্থ বললে সবসময় অত্যুক্তি হয়না ।

প্রেয়সীর ভালবাসা প্রেয়সীর কল্পনার রঙে রিসিভ করার ফুরসত কবির নেই বলে কবি কে তার প্রেয়সী সবসময় সর্বসত্তা দিয়ে ভালবাসে না । ভাল বাসলে ও প্রেয়সীর ভালবাসা কবির কাছে সবসময় অচ্ছুতই থেকে যায় ।

কবি আবুল হাসান একজন প্রেমিকার অভাব বোধ করছিলেন বেশ । গ্রামের মেয়ে হাসানের ভালবাসাকে প্রত্যাক্ষান করেছিলো । শহুরে মেয়ে সত্তা দিয়ে ভালবেসেছিল কবি কে । অথচ তার রস আস্বাদন করার অবকাশ কবির হলো কোথায় ! ক্ষণজন্মা এই কবির মৃত্যুর পরে শহুরে প্রেয়সী কবির বুকের প’রে কেঁদে কেঁদে বলেছিলো, ‘ হাসানের এ বুকে ভালবাসা ছাড়া কিছুই ছিলোনা ।’

কবির কাছে কবিতার শব্দ ব্যতীত তামাম পৃথিবী যেন হাতুড়ির শব্দের ন্যায় কর্কশ এবং বিদঘুটে । কবিতাই যেন তার অক্সিজেন । সারাদিনের কর্মক্লান্তি কে কবি কাব্য চর্চার মাধ্যমেই refresh করে নেন । এ যেন নিস্বর্গে নিস্তব্দতার আয়েশ ।
কবি কখনও নির্ভরতার প্রতীক নন । লোকে কবি কে ভালবাসে কিন্তু পছন্দ করেনা । রবি ঠাকুর বলেন,‘ কবি-সাহিত্যিকদের কে দূর থেকে শ্রদ্ধা করা যায়; কাছে ডেকে বোনের বিয়ে দেয়া যায়না । ’

কবির মাঝে সংগ্রামী চেতনা কাজ করলে ও তিনি সেই চেতনা বাস্তবায়নের কর্মী নন-উস্কানিদাতা ।একটি চেতনা বাস্তবায়নে একাগ্রতা প্রয়োজন , প্রয়োজন টার্গেট ঠিক করা এবং দৃঢ়তার সাথে সেই ইচ্ছে পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া । কবির মধ্যে এসব গুণাবলীর উপস্থিতি কোথায় ?

মাইকেল মধূ‘র ‘একেই কি বলে সভ্যতা,’- প্রবন্ধে তিনি ইংরেজদের বেলেল্লেপনার বিরোধীতাকরেছেন কঠিনভাবে । অথচ বাস্তবে তিনি নিজেই ইংরেজদের অনুসারি ছিলেন । তবে কি কবি কে নড়বড়ে character বললে অত্যুক্তি হয় ?

যে নার্গিস একটু চোখের আড়াল হলেই নজরুলের প্রান হতো ওষ্ঠাগত; তিনি কিনা বিয়ের পরদিনই নার্গিসের জীবন থেকে চির তরে বিদায় নিলেন ! আমাদের জাতীয় কবি বাসর সেরেই সেই যে উধাও হলেন প্রিয়তমা নার্গিসের খবর নিলেন ১১ বছর পর, তখন তিনি অন্যের ঘরের ঘরনি ! কী দুর্লভ ট্র্যাজেডি !

কবি মাত্রই অভিনেতা । তিনি অন্যের সত্তায় ভর করে অন্যের জীবনদর্শন কে ফুটিয়ে তুলেন নিজের সত্তা দিয়ে । এখানে অনেকে কবি কে ভুল বুঝেন । সৃষ্টির প্রয়োজনে তিনি অন্যকে নিজের করে নেন। নিজেকে অন্যের হতে দেন - অথচ পুরো ব্যাপারটাই অভিনয় বৈ কি । তবে কবি যেহেতু রক্ত-মাংসেরই একজন মানুষ অভিনয় করতে যেয়ে কারো প্রতি বিশেষ দুর্বলতা এসেও যেতে পারে । তার প্রতিও কারো দুর্বলতা আসতে পারে । এজন্য অনেক সময় কবি কে অন্যের কটূক্তি কিংবা বিদ্রূপাত্মক দৃষ্টিভঙ্গীর ও শিকার হতে হয় । সৃষ্টির প্রয়োজনে তাকে এটুকু মেনে নিতেই হয় ।

স্বাভাবিকভাবে একটি প্রশ্ন এসেই যায়, কবি মাত্রই কি উদ্ভ্রান্ত পথিক ? এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কবিগুরু রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ।সমগ্র জীবনে তিনি ছিলেন নিয়মানুবর্তিত । তাঁর জীবন অনুসন্ধান করলে উদ্ভট কিছু খুঁজে পাওয়া ভার। সর্বক্ষেত্রেই যিনি নম্বর ওয়ান এক্ষেত্রে কেন তিনি পিছিয়ে থাকবেন ।

কবির নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই । ব্যক্তি বিশেষই সময়ের প্রয়োজন এবং উপযোগিতা অনুযায়ী কবি কে সজ্ঞায়িত করেন । এটি সকলের কাছে সমভাবে সমাদৃত বা বর্জিত না হওয়াই স্বাভাবিক । বাস্তবতার নিরিখে কবি চরিত্রটিকে ফুটিয়ে তোলার মধ্য দিয়ে চরিত্রটির স্রষ্ট্রার রুচির পরিচয় পাওয়া যায় । তাই চরিত্রটিকে কেন সজ্ঞায়িত করা হলো এ বিষযে সমালোচনা নয়; সমালোচনা হতে পারে যিনি চরিত্রটি সৃষ্টি করেচেন তার রুচিবোধ নিয়ে ।

কবি স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কাটেন । সময়ের পিঠে চাবুক মেরে সময়ের মুখে তুলেন উল্টোসুর । কবি মিথ্যেকে সত্য , সত্যকে মিথ্যে হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন । কবি যদি তার বুকে উত্তপ্ত গরল ধারণ করেন তবে তা ধ্বংসের প্রতিক না হয়ে হয়ে যায় সৃষ্টির প্রতীক । এ বিষয়গুলো যার মাঝে আছে তিনিই কবিত্বের দাবিদার ।

আরব্য গল্পের মিথ্যেবাদী বালকের কথা কার না জানা । অথচ কবি আল মাহমুদ বলেন, “লোকে বালককে মিথ্যেবাদী প্রতিপন্ন করলে ও প্রকৃত পক্ষে বালক ছিলো সত্যবাদী ! কেননা একদিন বাঘ এসে তাকে ঘ্রাস করবে- এ সংবাদ বালকের পূর্ব থেকেই জানা ছিলো ।” গণমানুষের মনে যুগযুগ ধরে যে ধারণা বদ্ধমূল ছিল আলমাহমুদ মুহূর্তেই তা উল্টে দিলেন এবং চিরন্তন একটি মিথ্যেকে পরিণত করলেন সত্যে-এটিই তার কবিত্বের পরিচয় ।


সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×