somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাশ্চাত্য সভ্যতা বনাম আমাদের সভ্যতা

০৭ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ১:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরাধীনতার চেয়েও জঘন্য কিছু স্বাধীনতা আছে যা কখনো কাম্য হওয়া উচিৎ নয়। যে স্বাধীনতা নিজের স্বকীয়তা এবং সমভ্রমের জন্য হুমকি তাতে গা ভাসিয়ে দেয়াকে আধুনিকতা বলা যায়না । নিয়ন্ত্রীত স্বাধীনতা লাগামহীণ স্বাধীনতার চেয়ে ঢ়ের ভাল ।

একটি কুকুর কোথায় গেল কি করলো তার গর্ভে কার বাচ্চা ধারণ করলো এটি সভ্য সমাজের প্রশ্ন নয় । প্রতিটি সন্তান একসময় তার পিতৃপরিচয় জানতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক । বর্তমানে আধুনিকতার নামে, ভালবাসার নামে নারী-পুরূষের সর্বত্র অবাধ বিচরণ আমাদের কে পাশ্চাত্য সভ্যতা তথা কুকুরীয় সভ্যতা কে স্মরণ করিয়ে দেয় ।

আমাদের সভ্যতা আর পাশ্চাত্য সভ্যতার মাঝে পার্থক্য হলো আমরা সবচেয়ে বেশি ভালবাসি মা’ কে আর পাশ্চাত্যরা সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে এই মা’কেই । তারা মাকে চিনে কিন্তু বাবার পরিচয় জানেনা । বাবার পরিচয় জানার জন্য তাদের কে সম্ভাব্য বাবাদের একটি শর্টলিষ্ট তৈরি করে তাদের ডি ন এ পরীক্ষার আশ্রয় নিতে হয় । ভাগ্য বেশি ভাল হলে বাবার পরিচয় মিললো-নচেৎ নয় । আমাদের দেশের আধুনিক ছেলেমেয়েদের ভালবাসার ফসলদের কে মাঝে মাঝে খালের ধারে বিলের ধারে,ডাস্টবিনে আহত- নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়-- যেসব শিশু বেঁচে যাচ্ছে পিতৃ পরিচয় জানার জন্য তাদের কেও ডি এন এ পরীক্ষার আশ্রয় নিতে হবে । আর ডাক্তার ক্লিনিকের কল্যানে যেসব abortion হচ্ছে কিংবা প্রতিরোধের অন্যান্য আধুনিক উপায় যারা অবলম্বন করছেন তারা কি বেচে যাচ্ছেন মানবিক ক্ষয় থেকে ? যে মানবিক ক্ষয় পাশ্চাত্য দুনিয়াতে মেন্টাল হাসপাতালের সংখ্যা উত্তারাত্তর বৃদ্ধি করছে ! সে মানবিক ক্ষয় থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব নয় ।

পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মেন্টাল হসপিটাল বেশি আমেরিকায় । স্কুলে বাচ্চাদের ক্লাস চলছে-হঠাৎ কেউ একজন স্কুলের মধ্যে ঢ়ুকে পড়লো আর গুরি করে মের ফেললো ক’টি বাচ্চা,পরে মানষিক রোগিটি নিজেও আত্মহত্যা করলো--এই হলো পাশ্চাত্য ।

যাদের সমাজ অন্যকে পর্যুদুস্ত করার শক্তিতে বিশ্বাসী । কখনোও তারা আস্থা-বিশ্বাস এবং ভালবাসার শক্তিতে বিশ্বাসী নয় । যদি তাই হতো বোমার পরিবর্তে তারা অন্যকে ভালবাসা দিত--আস্থা-বিশ্বাস আর ভালবাসা দিয়ে তারা মোকাবেলা করতো অন্য কে । কিন্তু না, তারা ভালবাসাবাসির সভ্যতায় বিশ্বাসী নয় তারা কুকুরীয় সভ্যতায় আস্থাশীল ! এজন্যই তাদের কুকুর পোশার সখ । আমাদের আধুনিক সমাজেও এর হাওয়া লেগেছে অনেক আগেই ।

শূকর যখন যৌনকর্ম করে তখন তার বন্ধু- বান্ধবদের সাথে নিয়েই করে--অর্থাৎ,নিজের স্ত্রী অথবা প্রেমীকা বন্ধুদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত ! এই সংস্কৃতি পাশ্চাত্যরা চর্চা করে । তারা বন্ধুর সাথে স্ত্রী বদল করে পরে যার স্ত্রী সে আবার ফিরিয়ে ও নেয় । চিন্তা নেই.আজকাল আমাদের আধুনিক সমাজে এই সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েগেছে ।

পাশ্চাত্যে আজ আস্থা বিশ্বাস শূ্ণ্যের দিকে যাত্রা করছে ;আমরাও তাদের থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই ! বেশকিছু আগে খবরের কাগজে পড়েছিলাম একটি ঘটনা--স্বামী-স্ত্রী দুই আমেরিকান রান্না করছিলেন । একপর্যায়ে ‘স্বামী’ভালবাসার খুনসুটি স্বরুপ একটি পেঁয়াজ ছুঁড়ে মারেন স্ত্রীর দিকে;অত:পর স্ত্রী তার হাতের পেঁয়াজ কাটার ছোরাটা ঢ়ুকিয়ে দিলেন স্বামীর পেটে--স্পটডেথ--এই হলো পাশ্চাত্য ! আস্থাহীণতা-অবিশ্বাস-মানসিক অসুস্থতা এভাবেই ধ্বংস করে তাদের !

এক জাপানী গিয়েছিলেন আমেরিকায় বেড়াতে , তো তিনি ভুল করে এক মহিলার বাসার দরজায় কড়া নাড়েন । মহিলা ভেতর থেকে পরিচয় জানতে চান কিন্তু ইংরেজি না জানা বা না বুঝার কারনে মহিলার কথার অর্থ বুঝছিলেননা জাপানী । অতপর: মহিলা তার বাসায় সংরক্ষিত বন্দুক দিয়ে নিজ হাতে জাপানীকে শায়েস্তা করলেন-স্পটডেথ !--এই হলো আমেরিকা (সূত্র “যশোহা বৃক্ষের দেশে-হুমায়ূন আহমেদ )

আমি ভেবে কূল পাইনা দুনিয়ায় এত সভ্যতা থাকতে কেন আমরা দিন দিন অন্তঃসারশূণ্য এই পাশ্চাত্য সভ্যতাকে অনুসরন করছি !
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৫ বিকাল ৫:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×