somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অপেক্ষা . . . (ধারাবাহিক, সত্য ঘটনা অবলম্বনে।) পর্ব: ৩

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্কেটবোর্ড পার্ক পার হতেই দেখলো এশিয়ান একজন পুরুষের ব্যাক স্ট্যাক হ্যান্ডকাফ লাগানো। ফ্লেচার এগিয়ে হারিয়ে যাওয়া ফোনটা নাইজেলের হাতে তুলে দিলো। আইফোন। লক স্ক্রীনে একটা অপরূপা কিশোরীর সাদাকালো ছবি, ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে। নাইজেলের বুকে কেমন যেন অনুভূতি হল, অনেক ভালোলাগার। ছবিটা ওর মায়ের। ক্লডিয়া ছুটে একে নাইজেলের ডান বহুর উপর হাত রেখে স্বস্নেহে জানতে চাইলো ও ঠিক আছে কিনা। “ইয়েস আ’ম ফাইন ক্লড!” নাইজেল ভাবতে পারছেনা কাঠখোট্টা কলিগ ক্লডিয়া যে কিনা নাইজেলের দিকে কোনদিন ফিরেও চায় নি আজ সে সবার আগে ছুটে এসেছে। একটু পর পর নারী, পুরুষ সব অফিসাররেরা এসে এসে নাইজেলের খোঁজ নিচ্ছে ও ঠিক আছে কি না। সবার এত আন্তরিকতা দেখে নাইজেল আবেগ লুকাতে পারেনা। আরে বাবা ওর ফোন হারিয়েছিলো, অন্য কিছু না।

একশ নব্বই বছর ধরে লন্ডন মেট্রপলিটন পুলিশের এই ভাতৃত্বের সংস্কৃতি এখনও অটুট রয়েছে।

ইদানীং লন্ডন মেট পুলিশ রেসপন্স কারগুলোর আশি ভাগই ইলেক্ট্রিক। শতভাগ ইলেক্ট্রিক মানে শতভাগ পরিবেশ বান্ধব, হাইব্রীড জাতীয় দুনম্বরী নেই। বি এম ডাব্লিউ আই-থ্রী। কোন শব্দ করেনা, ভুতের মত। এক্সেলেটরে জোরে চাপ দিলেই বুলেট স্পীড উঠে যায়। মাত্র তিন সেকেন্ডে ৬০ মাইল বা ৯৬ কিলোমিটার স্পীড। গতির এই হঠাৎ পরিবর্তন খুব এনজয় করে নাইজেল। আজ সে ইলেক্ট্রিক কার নেয় নি, নিয়েছে একটা ম্যানূয়াল ভক্সহল এশট্রা ডিজেল কার। কারন সারাদিন ওটা পড়ে থাকবে হাসপাতালের সামনে। ওর পোষ্টিং পড়েছে স্যাল এর সাথে। অনেক অভিজ্ঞ, গত আট বছর ধরে মেট পুলিশের সাথে আছে। বেংগলি অফিসার, ওর বাবা কিংবা দাদা সিক্সটিজ-এ ইন্ডিয়া থেকে লন্ডনে এসেছিলো। এখন ইস্ট লন্ডনের এই এলাকা বাংলাদেশ হয়ে গেছে। অত্যন্ত সুভদ্র স্যাল এর ফুল নেইম সালাম মিয়া। নাইজেল স্যালের সাথে কাজ করে আরামও পায়, খুব সাপোর্টিভ আর তারুণ্যে ভরপুর এশিয়ান দক্ষ অফিসার।

হোয়াইটচ্যাপেল রোডের দক্ষিনে প্রায় রাস্তার গা ঘেঁষে বিশাল এলাকা জুড়ে সুউচ্চ আর অত্যাধুনিক রয়েল লন্ডন হসপিটাল দেখলে বিশ্বাস হতে চায় না এই এলাকায় এত বিশাল, দৃষ্টিনন্দন হাসপাতাল থাকতে পারে। ঐতিহ্যবাহী এই হাসপাতালের বয়স বর্তমানে প্রায় ২৮০ বছর। ১৭৪০ সালে ছোট পরিসরে গঠিত এই আরোগ্যাশালার নাম ছিলো লন্ডন ইনফার্মারী, আট বছর পর নাম দেওয়া হয় লন্ডন হসপিটাল। ২৪৩ বছর পর ১৯৯০ সালে এর নাম রাখা হয় দ্য রয়েল লন্ডন হসপিটাল।

মেইন বিল্ডিংয়ের পূর্বদিকে মিলওয়ার্ড স্ট্রীটে যেখানে এ্যাম্বুলেন্সগুলো পার্ক করা থাকে সেখানে ডানদিকে সুবিধামত এক জায়গায় গাড়ী পার্ক করে নাইজেল আর স্যাল ছয়তলার সেকশন সি’র পিডিয়াট্রিক ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট (PCCU)-এ পৌঁছলো ততক্ষনে প্রায় সকাল পৌনে আটটা বেজে গেছে। যে দুজন অফিসার ডিউটিতে ছিলো তারা ভোর চারটা থেকে এখানে।

হ্যান্ডওভার নিতে গিয়ে যা শুনলো হতভম্বব নাইজেল। বিমূঢ় হয়ে স্যাল এর দিকে তাকিয়ে আছে। অভিজ্ঞ স্যাল ইশারায় তাকে আশ্বস্ত করলো। ভোর সাড়ে তিনটার দিকে রিসাস (Resuscitation ওয়ার্ড যেখানে মৃত্যুপথযাত্রি রোগীদের বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করা হয়) -এর ডাক্তার পুলিশে রিপোর্ট করে। একটা ছোট বাচ্চাকে রিসাসিটেশন ওয়ার্ডে আনা হয়েছে যার ইনজ্যূরি সন্দেহ জনক। একটি শিশুর পিতা ইমার্জেন্সীতে ফোন করে জানায় শিশুটির বাঁ কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। শিশুটির বয়স তেরো সপ্তাহ। মেয়ে। পিতা মাতা এশিয়ান বাংলাদেশী। শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে আনার পর দেখা গেলো মা এক বর্ণও ইংরেজী বলতে পারেনা। বাবা বলছে সে ঘটনার বিস্তারিত জানেনা, সম্ভবতঃ বিছানা থেকে পড়ে গেছে।

সেখান থেকেই সন্দেহের শুরু। মাত্র তের সপ্তাহ বয়সি এই শিশুটির মাথার নরম খুলি ভেঙ্গে ব্রেনে পর্যন্ত পৌঁছেছে। ঘাড়ের তিনটি ভার্টিব্রা ভেঙ্গে গেছে, ডান বুকে চারটি পাঁজরের হাঁড় ভেঙ্গে তিনটি হাঁড় ফুসফুস ভেদ করে ঢুকে পড়েছে। একটা শিশু শ্রেফ বিছানা থেকে পড়ে গেলে এত ভয়াবহ ইনজুরি হতে পারে না। রিসাস ওয়ার্ড থেকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক এ্যাসেসমেন্ট শেষে শিশুটিকে পিডিয়াট্রিক ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাচ্চাটির বাঁচার কোন সম্ভাবনা নেই। যে কোন সময় মারা যাবে, তখন এই মৃত্যু আর স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে গণ্য হবেনা। এটা ক্লীয়ার মার্ডার। সেজন্য পুলিশ গার্ডের ব্যাবস্থা। সবার আগে সন্দেহ আসবে পিতা-মাতার উপর। সব শুনে নাইজেলের অস্থির লাগছে, দুনিয়াটা এত কঠোর কেন? নাহ্ আর এই চাকরী করা যাবেনা।

মনের উপর এত চাপ, এত্তো চাপ সে নিতে পারবেনা।

চলবে. . .
পর্ব: ১
পর্ব: ২

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ দুপুর ২:৪২
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আম্রকাননের আগুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:২১


আম্রকাননের আগুন

এপ্রিলের এক দুপুর।
বাতাসে বারুদের গন্ধ, আকাশে অনিশ্চয়তার মেঘ।
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আমগাছের ছায়ায় এসে দাঁড়ালেন কয়েকজন মানুষ।
দূরে চুয়াডাঙ্গা জ্বলছে, তবু এখানে শপথ।
একটি আমবাগান সেদিন হয়ে উঠল একটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৮ ভগ্ন শাখা- ভগ্ন জীবন

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

জীবনের ভগ্নদশা অনেকটা এমন এক বৃক্ষের মতো, যার ডালপালা একে একে বিলুপ্ত হয়েছে।

একসময় যে শাখাগুলোতে স্বপ্ন, সম্পর্ক ও সম্ভাবনার পাতা দুলত, আজ সেখানে শূন্যতা ও নীরবতা। তবু কাণ্ডটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১২

/স্বাধীনতা বিরোধীদের safe home আগে ছিলো লিবিয়া আর এখন হলো তুরস্ক।

/শুধু তাই না, তারা খোলাখুলি ভাবেই আমাদের স্বাধীনতা বিরোধী জামায়াতের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ৭১ এর মানবতাবিরোধী অপরাধের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×