somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘সাগরের গল্প’ থেকে . . .

০৮ ই নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
সুজলা সুফলা ভিয়েতনাম - অপরূপ হা লং বে


ভিয়েতনামের উত্তর-পূর্বে হা লং উপসাগরের বুক জুড়ে নয়নাভিরাম পাহাড়গুলোকে নিয়ে রয়েছে বর্ণিল সুপ্রাচীন ইতিহাস।

অনেক অনেক বছর আগের কথা, ১৭৫০ ইয়োন পর (৩৬০ বর্গ-বৎসর বা এক লাখ উনত্রিশ হাজার ছয়শত বছরে এক ইয়োন) ভগবান যেইদ (Ngọc Hoàng Jade) অমরত্ব পেলেন। ভিয়েতনাম সবে নতুন রাজ্য। উত্তরের সাগর থেকে বহিঃশত্রুরা মূর্মুহুর্ত ভিয়েতনামকে আক্রমণ করে যাচ্ছে। শত্রু জাহাজ থেকে ভিয়েতনামীজদের বাঁচানোর জন্য ভগবান নক্ হোয়াং যেইদ স্বর্গ থেকে একটা ড্রগন আর তার বাচ্চাদের পাঠালেন। শত্রু জাহাজগুলো যখন ভিয়েতনামের সমুদ্রসীমায় ঢোকে, ড্রাগন পরিবার মুখ দিয়ে আগ্নিগোলা নিক্ষেপকরে শত্রু জাহাজগুলোকে ভস্মীভূত করে ভিয়েতনামিজদের রক্ষা করে। এরপর তারা সাগরের উপর থুথুর সাথে হীরে, পান্না, মণিমাণিক্য ছিটাতে থাকে। হাজার বছর পর ওইসব হীরে, পান্না, মণিমানিক্য জাদুবলে দ্বীপ আর ক্ষুদ্র-দ্বীপে (Islet) পরিনত হয়। শত শত ছোট বড় পাথুরে দ্বীপ ওই উপসাগরে প্রতিবন্ধকতার দেয়াল তৈরী করায় শত্রুরা আর আক্রমণ করতে পারেনা। যুদ্ধে বিজয়ের পর মা ড্রাগন আর সন্তানেরা স্বর্গে ফিরে যায় নি, তাদের তৈরী শত শত ছোট ছোট পাহাড়ী দ্বীপ সাগরের এই অঞ্চলকে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এনে দিয়েছে। ড্রাগন পরিবার এই এলাকাকে ভালোবেসে ফেলে। তারা মানুষের রূপ নিয়ে স্থানীয়দের সাথে মিশে যায়, সংসার ধর্ম করে রাষ্ট্রকে সমৃদ্ধশালী করে তোলে। ভিয়েতনামী জনসাধারণ বিশ্বাস করে তাদের পূর্বপুরুষেরা ড্রাগন ছিলো। উপসাগরের যেখানটায় মা ড্রাগন নেমেছিলো তার নাম ‘হা লং’, আর বাচ্চারা যেখানে নেমেছিলো তার নাম ‘বাই টু লং’। ভিয়েতনামের সবাই এই কাহিনী জানে। ড্রাগন পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতার চীরস্থায়ী প্রকাশে এই উপসাগর এবং শহরের নাম রাখা হয় Hạ Long, অর্থাৎ ‘ড্রাগন অবতরণ’।

আজকের সভ্য, সুন্দর, সুশৃংখল এবং শক্তিশালী ভিয়েতনাম আমেরিকানদের চীরস্থায়ী লজ্জ্বা হয়ে পৃথিবীর বুকে সগর্বে দাঁড়িয়ে।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৩ দুপুর ২:৩৭
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজধানীতে শিশু ধর্ষণ , নির্যাতন, হত্যাকান্ড ও মানুষরুপি কিছু জানোয়ারের কথা ।

লিখেছেন সাখাওয়াত হোসেন বাবন, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯

ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম , ইন্টারনেট ।

গতকাল ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে এক রাশিয়ান শিশু। অভিযোগ পাওয়ার পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত গ্রেফতার করেছে নির্যাতনকারীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর-রাহমান

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ দুপুর ১:৪৬




আর-রাহমান চির দয়াময় যিনি
পৃথিবী ভরিয়ে দিয়ে লতায় পাতায়
মাটিকে জীবন্ত করে সবুজ শোভায়
করেন ধরনীতল অনিন্দ সুন্দর।
সৃষ্টি তাঁর অপরূপে সাজালেন তিনি
রাতের প্রকৃতি ভাসে চাঁদ জোছনায়
গ্রীষ্মের রোদের তাপে তরু-বনছায়
শান্তির শীতল বায়ু... ...বাকিটুকু পড়ুন

=সকল ছেড়ে যেতে হবে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৩:৫২



©কাজী ফাতেমা ছবি

কেউ রবো না এখান'টাতে
ইহকালের মোহ টানে
সাঙ্গ হবে ভবলীলা-
ভেসে যাবো মরণ বানে!

কেউ রবে না আপন হয়ে-
হাতটি ছেড়ে দেবে শেষে
যেতে হবে খালি হাতে
শেষের খেয়ায় একলা ভেসে!

সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অক্টোপাসের বাহুতে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ বিকাল ৪:১২




রজর আলীর গাছীর বয়স সত্তুরের কাছাকাছি হলেও গায়-গতরে এখনো শক্তি সামর্থ্য সবই আছে। রোদে পুড়ে জলে ভিজে গড়া শরীরে কোন রকম বয়সের ভার চোখে পড়ে না। অগ্রাহায়নের শুরুতেই দুই গ্রামের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। খেজুর

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ রাত ৯:৪০



খুব পুষ্টিকর ফল খেজুর । সেই খেজুরের ট্যাক্স কমিয়েও রক্ষা নেই । খেজুর বিক্রেতারা খেজুরের দাম আরেক দফা দাম বাড়িয়ে ভোক্তাদের বিব্রত করেছে । সরকার কার্যত ব্যার্থ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×