
রামিসার ঘটনা নিয়ে আমার মনটা ভালো নেই।
গতকাল সারারাত আমি ঘুমাইনি। ঘুম আসেনি। কেমন দম বন্ধ হয়ে আসছিলো! আমার কন্যা আমার পাশে গভীর ঘুমে। রামিসার চেয়ে আমার কন্যা আড়াই বছরের ছোট হবে। বারবার মনে হচ্ছে মেয়েটাকে দুনিয়াতে নিয়ে এসে কি ভুল করলাম? নোংরা এক সমাজে বাস করি। মানুষ গুলো কুৎসিত, ইতর। রামিসার বাবা কাঁদতে কাঁদতে বলছিলো- ''আমি দরিদ্র মানুষ। কিন্তু আমার মেয়ে কিছু চাইলে আমি ছুটে গিয়ে নিয়ে আসতাম। লিচু খেতে চাইলো। লিচুর অনেক দাম। অনেক দাম দিয়েই আমি মেয়ের জন্য লিচু কিনে নিয়ে আসি। আমার জুতো ছিড়ে গেছে, জুতো সেলাই করি। আবার ছিড়ে যায়, আবার সেলাই করি। তবু মেয়ে যা খেতে চায়- কিনে আনি''।
বেশ কিছু ছেলেকে দেখলাম- মিরপুর দশ নম্বর রাস্তা আটকে দিয়েছে।
কারণ রামিসা। তারা রামিসার হত্যার বিচার চায়। আসামী ধরা পড়েছে। এটা ভালো সংবাদ। কিন্তু ছেলেরা ঢাকার একটা ব্যস্ত রাস্তা চারদিক থেকে আটকে দিয়েছে। ফলাফল গজব জ্যাম। জ্যাম একদম মিরপুর ১২ নম্বর ছাড়িয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষের সীমাহীন কষ্ট। সীমাহীন দুর্ভোগ। 'জুলাই যোদ্ধা' টাইপ কিছু ছেলে রাস্তায় চিৎকার করছে রামিসার জন্য। এদিকে রাস্তায় জ্যামের কারণে ভয়াবহ অবস্থা। এম্বুলেন্স পর্যন্ত যেতে পারছে না। ছেলে গুলো রাস্তা আটকাতে পেরে হয়তো নিজেদের সফল মনে করছে। লোকজন বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়ি ফিরছে। কারণ রিকশা চালক ৫০ টাকার ভাড়া চাইছে ২৫০ টাকা। সিএনজি চালক ২ শ' টাকার ভাড়া চাইছে ৫ শ' টাকা। অন্যের বিপদে কিছু লোক সুযোগ খুজে বেড়ায়।
যখন ৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হলো-
তখন কেন রাস্তা আটকে আন্দোলন করা হলো না? যখন শেখ মুজিবের ভাস্কর্যে মুতে দেওয়া হলো, ভেঙ্গে দেওয়া হলো- তখন কেন আন্দোলন হলো না? যখন থানায় আগুন দেওয়া হলো, পুলিশ হত্যা করা হলো- তখন কেন আন্দোলন হলো না? যখন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হলো- তখন কেন রাস্তা আটকে আন্দোলন হলো না? দূর্নীতির বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন হয় না? ফুটপাত দখল মুক্ত এবং সিএনজি চালকেরা মিটারে যায় না- সেজন্য কেন আন্দোলন হয় না। মব সৃষ্টি করে কত মানুষকে মারা হলো, সে জন্য কেন রাস্তা আটকে আন্দোলন হলো না? সারজিস, পাটোয়ারী, হাসনাতদের বাপ এলেও সিএনজি চালকদের মিটারে যাওয়াতে পারবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত করতে পারবে না। সরকারি হাসপাতাল থেকে দালালও দূর করতে পারিবে না।
কয়েকদিন পর ইদ।
গরুর হাট বসতে শুরু করেছে। ঢাকার বাইরে থেকে গরু আসা শুরু হয়েছে। স্কুল কলেজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফারাজার স্কুল বন্ধ। ফাজ্জা ১৬ দিন স্কুল বন্ধ পেয়েছে। আমি বন্ধ পাবো চারদিন। আজ দুপুরে খাইনি। রামিসার ঘটনা আমার ক্ষুধা নষ্ট করে দিয়েছে। সুরভি যে দুপুরের জন্য যত্ন করে খাবার দিয়েছে, সেটা ভুলেই গিয়েছি। রামিসাকে এরকম নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করার প্রয়োজন কেন হলো? হত্যা না করলে মেয়েটা অন্তত বেঁচে তো থাকতো। যাইহোক, আমি রামিসাকে ভুলে যাবো। রামিসার ঘটনা আমাকে যন্ত্রনা দিচ্ছে। খাওয়া নেই, ঘুম নেই। বিধ্বস্ত অবস্থা। হামে ৫শ' শিশু মারা গেলো! এটাই আমাদের দশ। আজ নাসিরুদ্দিন পাঠোয়ারীকে ডিম ছুড়ে মারা হয়েছে। এটা ভালো একটা কাজ হয়েছে। নাসিরুদ্দীন একটা ইতর। আসলে এনসিপি'র সব গুলোই ইতর।
আর কয়েকদিন ফুটবল বিশ্বকাপ।
ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। ছোটবেলা আমি সবচেয়ে বেশি খেলেছি ফুটবল। দুইবেলা ফুটবল খেলতে না পারলে আমার পেটের ভাত হজম হতো না। ভালো দৌড়াতে পারতাম। আমার পায়ে একবার বল আসলে, আর রক্ষা নাই। বিপক্ষ দলের লোকদের পেছনে ফেলে একদম বারপোষ্টে চলে যেতাম। হ্যা এটা সত্য আমি কাউকে বল দিতে চাইতাম না, কারণ আমারত ধারনা তারা গোল করতে পারবে না। গোলকিপার হিসেবেও আমি ভালো ছিলাম। ভালো খেলোয়াড় হিসেবে বেশ নামডাক ছিলো আমার। আমি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। এ বছর আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়ে আমি আর আমার কন্যা খেলা দেখব। আমি মনে প্রানে চাইবো- এবারও আর্জেন্টিনা জিতুক।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



