somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুক রিভিউ - দারুচিনি দ্বীপে একদিন

২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি মুখচোরা প্রকৃতির মানুষ। হৈ-হুল্লর কিংবা যেখানে মানুষ সমাগম বেশি সে্খানে পারত পক্ষে যাইনা। সারাদিন অফিসেই কে্টে যায়। সন্ধ্যা্র পর হয়তো কোন বইয়ের পাতা উল্টোই কিংবা ঘুমোই। গত বই মে্লায় একজন নতুন লেখকে্র সাথে পরিচয় ঘটে। মানে নাম জানতাম না এমন একজনের বই কিনি। বইটির নাম ছিলো ''পরার্থ ভাবনা।'' একটা প্রবন্ধে্র বই। প্রবন্ধের বই সাধারণত খটমটে হয় তাই প্রবন্ধের বই কিনি না। তেমন পড়িও না। কিন্তু কী কারণে যেন ওটা কিনে ফে্লি।

বইটির বিষয়বস্তু ছিলো আমাদের বর্তমান সময়ে মানব সৃষ্ট নানান দূর্যোগ যা আমাদেরকে আমাদের অনস্তিত্বেের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এবং এই সমস্যা থেকে উৎরানোরও একটা পথ দেখিয়েছন। বইটা পড়ার পর ইচ্ছে হলো এই লেখকে্র অন্য বইগুলোও সংগ্রহ করি।

অন্যান্য বইয়ে্র খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারি তিনি আসলে কবি। বাজার ঘুরে ওনার কবিতার বইয়র নাম জানা গে্লেও ওনার কোন কবিতার বই বাজারে পায়নি। মনটাই কে্মন খারাপ হয়ে গিয়েছিলো। এবছর মে্লায় যাইনি বলা চলে। গতকাল বিকেলে গিয়েছিলাম এলিফ্যান্ট রোডে একটা শার্ট বানানোর জন্য। ভাবলাম মেলা থেকে একটু ঘুরে আসি। যেই ভাবনা সেই কাজ। যেহেতু সাথে কেউ ছিলো না তাই ঘুরে সব স্টলেই বই দেখছিলাম। কাশবন প্রকাশনে্র স্টলে এসে সেই লেখক মীর ইউসুফ আলীর কবিতার বই -- দারুচিনি দ্বীপে একদিন কাব্যগ্রন্থটি পেয়ে যাই। সাথে সাথেই কিনে ফে্লি। তারপর আরোকিছুক্ষণ মে্লায় ঘুরে বাসায় চলে আসি।

বইটার পাতা উল্টোতেই প্রথম কবিতাটার শিরোণাম হলো মুখবন্ধ। পড়ে ফে্লি। পড়ার পর মনে হলো যিনি পরার্থ ভাবনা লিখতে পারেন তার দ্বারাই এমন প্রার্থনা সম্ভব!

''সকালের প্রথম সোনালি আলো পৌঁছে যাক বিপন্নের অন্তরে
তার চোখে মুখে ভেসে উঠুক আনন্দের ছটা
অন্ততঃ এতটুকুও যেন তার প্রাপ্য হয়
হে স্রষ্টা হে অন্তর্যামী।''


--- মুখবন্ধ

কবিদের কিছু সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই হয়তো উঠে এসেছে এই পঙক্তিমালা---

বদরের মৃত্যু ভাষাহীন করেছে আমায়
মনে হয় দেশ ছেড়ে পালাই
পালিয়ে যাবো কোথায়
না আছে সুস্থ দেশ
না পরদেশ।

সর্বত্র মর্যাদাহীন হয়ে বেঁচে আছি
নষ্ট রাজনীতির বেড়াজালে।
বদর নিরীহ বাসচা্লক,
পরবর্তী গন্তব্যের জন্য
বাস থামিয়ে সিটের ওপর
গভীর ঘুমে চিন্তার অতলে বিশ্রামে ছিল।

ধর্মঘটিরা পে্ট্রোল ঢেলে বাসে আগুন দিল
বদর তাতে অঙ্গার হলো, ভস্মীভূত হলো।
একটি অধিকার রক্ষায় আরেকটি অধিকারের মৃত্যু হলো।

বদরেরমৃত্যুর জন্য হরতাল হবে না।
ছালামত আলী নিখোঁজ,
তার উদ্ধারের জন্য হরতাল চলতে থাকবে।
একদিন নয়, দুদিন নয়, লাগাতারও হতে পারে।
কে এই আলী, জন্ম, ইতিহাস, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন,
রাজনৈতিক কর্মকান্ড?
আলো দেয় না।

এখন তিনিই আমাদের নেতা, মুক্তির পথ দেখান
কি বিচিত্র সে্লুকাস, এই দেশ।


পরিমাপ--- মীর ইউসুফ আলী

যে আঘাত করে
তার উপহার নিতে নেই
যে অসম্মান করে
তার দেয়া ফুল নিতে নেই
যে সমর্থন করে না
তার করুণার চোখে তাকাতে নেই।
যে বিশ্বাস করে না
সে্খানে কিছুইতো থাকেনা অবশেষ
অথচ অনুরাগে্র দোহাই দিয়ে
আপেল বাগানে্র বসন্তে্র কথা বলা হয়।
কিছু না পাওয়াও কিছু পাওয়া
এসবই পাওয়া হয়েছে জীবনের প্রবাহে
উজ্জ্বল বৃষ্টির জলে স্নাত হয়ে
ঝরে পড়া পাপড়ির সুগন্ধে।
জীবন প্রবাহে্র উপর দিয়ে যা ঝরে পড়েছে
প্রসারিত হয়েছে
যা নবায়িত হয়েছে বসন্তে
অন্ধকারের ঢাকনা সরিয়ে
জীবনকে মাপার মাপকাঠি এগুলো নয়
গজ ফিতে কিলোমিটার দিয়ে জীবনকে মাপা যায় না
না যায় তা দিনক্ষণ মাস ওজন দিয়ে
না তা পথের দূরত্ব অতিক্রম দ্বারা
একটি সতেজ জীবন্ত ফুল হতে পারে জীবনে্র মাপকাঠি।
বৈভবের রঙ, গন্ধ ছড়িয়ে
ঝরে গিয়ে সমৃদ্ধির মহত্ব রাখে ফুল
তুমি বোধ হয় বহুদূর থেকে আমায় শুনতে পাও
নৈঃশব্দে্র কথা বলে জানিয়ে রাখলাম কথা।


এভাবে চলে আসে মৃত্যুরচিহ্ন আরোও অনেক কবিতা যা মনও মনের দেয়ালে প্রতিনিয়ত আঘাত করে যায়। বিবেককে দংশন করে একটা মানুষে রূপান্তরিত হতে পাঠককে তাড়িত করে।

কেউ বইটি সংগ্রহ করতে চাইলে চলে যেতে পারেন কাশবন প্রকাশনে্র স্টলে। স্টল নাম্বার ১৪১।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৮:২৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চরিত্রহীন

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৬


নিপীড়িত ভেবে যাকে করে যাবে মায়া,
সর্বস্ব বিলিয়ে দেবে যার উপকারে;
কলির সন্ধ্যা কাটলে পাবে না তো তারে,
সে তখন হয়ে যাবে নিশ্চিন্ত প্রচ্ছায়া।
যাবে না ধরা হাঁটলেও সে কাছে-ধারে;
ভুজঙ্গের ন্যায় দেখাবে বিষাক্ত কায়া,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

বিশ্ব রাজনীতি, শক্তির খেলা এবং ন্যায়ের প্রশ্ন

বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে যে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো অনেক সময় নিজেদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য দুর্বল বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নস্টালজিক

লিখেছেন সামিয়া, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:৩৩



আমার ঘরটা এখন আর আগের মতো লাগে না। দরজার লক নষ্ট, বন্ধ করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না, আধখোলা হয়ে থাকে। বুকশেলফে ধুলো জমে আছে, ড্রেসিং টেবিলের পর্দাটা এলোমেলোভাবে ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ, এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×