somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আস্তিক বনাম নাস্তিক

০২ রা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একজন মায়ের গর্ভে দুটি ছোট্ট জমজ শিশু বড় হচ্ছিল। একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করছে, তুমি কি ডেলিভারির পরে আরেকটি জীবনে বিশ্বাস করো?

অন্যজন বলল, কেন, অবশ্যই করি। ডেলিভারির পরবর্তী জীবনে কিছু একটা আছে। সম্ভবত পরবর্তী জীবনের জন্য আমাদেরকে এখানে তৈরি করা হচ্ছে।

“ননসেন্স” বলল প্রথমজন। ডেলিভারির পরে আসলে কোন জীবনই নেই। কি ধরনের জীবন হতে পারে সেখানে?

দ্বিতীয় জন বলল, আমি জানি না কিন্তু এখানের চেয়ে পরবর্তী জীবনটা অনেক আলোময় হবে। সম্ভবত আমরা আমাদের নিজের পায়ে হাঁটতে পারবো এবং নিজের মুখ দিয়ে খেতে পারবো। সম্ভবত আমরা সেখানে নতুন একটা অনুভূতি পাবো যেটা এখন বুঝতে পারছি না।

প্রথম জন প্রতুত্যরে বলল, এটা অযৌক্তিক। হাঁটা একবারেই অসম্ভব। আর আমাদের মুখ দিয়ে খাবার খাবো? কি হাস্যকর কথা!! আম্বিলিকাল কর্ডের (নাড়ি) মাধ্যমেই তো আমরা প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং আর যা কিছু প্রয়োজন সবই পেয়ে থাকি। কিন্তু এই আম্বিলিকাল কর্ড টাও তো খুব ছোট। তার মানে ডেলিভারির পরে জীবনের সম্ভাবনা যৌক্তিকভাবেই বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয় জন জোরের সাথে বলল, ভালো। তবে আমি মনে করি সেখানে কিছু একটা আছে যেটা এখান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সম্ভবত আমাদের নাড়ি বা খাদ্যনালীটির আর প্রয়োজনই হবে না।

প্রথম জন প্রতুত্যরে বলল, ননসেন্স!!! যদি সেখানে কোন জীবন থেকেও থাকে, তাহলে সেখান থেকে এখানে কেউ ফেরত আসে না কেন? ডেলিভারিই হচ্ছে এই জীবনের পরিসমাপ্তি, এবং সেখানে অন্ধকার, নিরবতা আর বিস্মরণ ছাড়া আর কিছুই নেই। আসলে বিষয়টি এমন ছাড়া আর কিছুই না।

ভালো, আমি এটা জানি না, দ্বিতীয়জন বলল। কিন্তু অবশ্যই আমরা আামাদের মায়ের সাথে সাক্ষাত করবো এবং সে আমাদের আগলে রাখবে।

প্রথম জন উত্তরে বলল, মা?? তুমি কি আসলেই “মা” তে বিশ্বাস করো?? এটা হাস্যকর!! যদি “মা” থেকেও থাকে, তাহলে সে কোথায় এখন?

দ্বিতীয়জন বলল, তিনি আমাদের চারপাশেই আছেন। তিনি আমাদেরকে চারপাশে ঘিরে রেখেছেন। আমরা তারই সত্ত্বা। আমরা তার মধ্যেই বাস করি। তাকে ছাড়া পৃথিবীর কিছুই থাকতে পারে না।

প্রথম জন বলল, ভালো, আমিতো তাকে দেখছি না, তাই এটিই যৌক্তিক যে, তার কোন অস্তিত্ব নেই।

দ্বিতীয় জন উত্তরে বলল, মাঝেমাঝে আমরা যখন নিরব থাকি তখন তুমি যদি সত্যিই মনযোগের সাথে শুনতে চেষ্টা করো, তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করতে পারবে, এবং তুমি তার ভালোবাসপূর্ণ কন্ঠ শুনতে পাবে, সর্বখানে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:৩৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×