"লম্পট","চরিত্রহীন", "বেহায়া",.. আমার চক্ষুর সম্মুখ হইতে চলিয়া যা। তোর এই কালমুখ আর আমি দেখিতে চাই না.." বিস্ফোরিত কন্ঠে প্রেয়সীর গগনবিদারী হুঙ্কার।
এই রে.. কাম সারিয়াছে , অন্য সময় আমাকে রাগ করিয়া আপনি সম্বোধন করিয়া থাকে আর আজকে একেবারে তুই ??
আমি ভিরমি খাইয়া টাশকিত হইয়া চক্ষুযুগল গোল করিয়া আতঙ্কিত হইয়া নরম সুরে প্রেয়সী কে শুধাইলাম, আমার "লুতুপুতু মধু",.. আমি এহেন কি কর্ম সম্পাদিত করিলাম যে আমাকে এইরূপ একছত্রভাবে অপমান করা হইতেছে।
কি কর্ম করিয়াছিস?? নাকি বল কুকর্ম সাধন করিয়াছিস। গতকল্য তুই রিক্সাযোগে এক ললনার সহিত কোথায় আকাম কুকাম করার অভিপ্রায়ে গমন করিয়াছিলিস ..?? আবার তাহাকে কুলফি ও মুখে তুলিয়া খাইয়েছিস ..| আমার সনে সেলফি , আর তাহার সনে কুলফি ?? আর তুই আমায় "মধু" শুধাবি না, ইহা কোনো নাম হইলো? আমার নাম মৌমিতা আফরিন , আমার পিতা মাতা আকিকার সহিত এই নাম রাখিয়াছেন। এক নিশ্বাসে সবগুলা কথা বলিয়া ফেলিয়া ফোস ফোস করিয়া কটমট দৃষ্টি তে আমার পানে তাকাইয়া রহিল।
আমি ৩২ পাটি দন্ত বিকশিত করিয়া ভেটকি প্রদর্শন পূর্বক তাহার সম্মুখে গিয়া কহিলাম গতকল্য যাহাকে আমার সহিত রিক্সায় দেখিয়াছ সে আমার অতি নিকটঅত্ত্বিয়া । এই দুর্মূল্যের বাজারে তাহার কিছু আবস্যকীয় দ্রব্য সুমূল্যে ক্রয় করিবার প্রয়াস ছিল আমার সনে। আর তোমাকে মধু বলিবার কারণ হইলো আমি কিঞ্চিত ব্যাতিক্রম , যেমন ধর জান, জানু, বেবি, কিউটি, সোনামনি, প্রিন্সেস, হানি, এইসব নাম হইলো প্রস্তরযুগের , সবাই এখন এই নামে তাহাদের প্রেয়সীদের সম্বোধন করিয়া থাকে। তুমি হইতেছ "ওয়ান ইন আ মিলিয়ন" । তাই তোমাকে মধু বলিয়া সম্বোধন করি। ওই সঙ্গীত টা নিশ্চই শুনিয়াছ; .."ও মধু ও মধু , আই লাবু আই লাবু" (লাভ ইউ) ।
প্রেয়সী চিত্কার করিয়া বলপ্রয়োগ পূর্বক আমাকে তাহার কক্ষ থেকে বাহির করিয়া দিয়া দরজা বন্ধ করিয়া কহিল,
""আমি অত কিছু বুঝিনা..আজি হইতে তোমার সনে আমার সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করিলাম (Break Up)""।
কথা টা শুনিবা মাত্র আমার মনে হইলো কেহ একজন বোয়িং বি ৫২ বিমান হইতে আমার মাথার উপর "নাপাম" বোমা নিক্ষেপ করিয়াছে, যেই বোমাতে দালান ঘর ধ্বংস হয় না ,মানুষ মরিয়া যায় ।
অতপর বিষন্ন মনে আচ্ছন্ন হইয়া আর বিধ্বস্ত চেহারায় পযুর্দস্ত হইয়া নিজ গৃহে প্রবেশ করিলাম। যেইরূপ অপমানিত হইয়াছি তাহার চাইতে মরণ অধিক শ্রেয় বলিয়া মনে হইতে লাগিল , পরক্ষনেই মনে পড়িল "মানীর মান তো পাহাড় সম", তাহা হইতে কেউ এক বালতি পরিমান অপমান করিলে কিবা আসে যায় । ছেকা খাইবার পর মনে শুধু একটাই গীত বাজিতেছে , "যদি তোর্ ডাক শুনে কেউ না আসে , তবে একলা মর রে একলা মর রে..." ।
হৃদয়ে এক সমুদ্র বেদনা নিয়া মুঠোফোনে সঙ্গীত শুনিবার নিমিত্তে রেডিও ছাড়িলাম। বড়ই বিচিত্র এবং নিঠুর সঙ্গীত বাজিতেছে অতিআধুনিক বালক বালিকাদ্বয় যাহাকে "rap song " বলিয়া থাকে , কথা গুলা অনেকটা এইরূপ..
" আমি তোর মত না, তুই আমার মত না , আমি তোর মত ফাপর মাইরা কাপড় ছিরিনা"...
অতিমাত্রায় ভয়ঙ্কর সঙ্গীত। মনে পড়িয়া গেল "rap song " এর আদি ইতিহাস, এই সঙ্গীত মূলত আসিয়াছে আমেরিকার নিগ্রো যাযাবর সম্প্রদায় হইতে , যাহারা কোনো এক কালে রিলিফের কাপড় পাইয়াছিল উড়ন্ত বিমান হইতে, উহারা অত্যাধিক লম্বা হইবার দরুন প্যান্ট গুলা সব ছোটো হইয়াছিল, হাটুর কিঞ্চিত নিচে,যাহা থ্রি কোয়ার্টার নামে প্রসিদ্ধ । তাহারা রাস্তায় রাস্তায় হাতে রেডিও লইয়া সঙ্গীত গাইত আর বিচিত্র অঙ্গভঙ্গি করিত । আর ইহাই এখন আমাদিগের দেশে হালের ফ্যাশন হইয়া দাড়াইয়াছে ।
সামাজিক যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ফেসবুকে ঢু মারিলাম। কন্যার প্রোফাইলে যাইয়া তাহার ছবিখানা দেখিবার নিমিত্তে চেষ্ঠা করিলাম কিন্তু হায়,বিধি বাম.. ইহা কি দেখিতেছি..?? কন্যা আমাকে ব্লক করিয়া দিয়াছে। ইচ্ছা করিতেছে তাহাকে একখানা বার্তা পাঠাই যেইরূপ কিছু বেআক্কেল ধরনের বালক বিদ্যমান যাহারা প্রায় ই ফেসবুকে কমেন্ট করিয়া থাকে "ফ্রেন্স পিলিজ এদ্দ মিহ.. আই এম বলকদ"..(friends please add me , I am blocked)।
অনেক চিন্তা করিয়া এক খানা স্ট্যাটাস প্রসব করিলাম ফেবুতে.."চলিয়া যাইতেছি বন্ধুগণ , আর দেখা হইবে না"।....
স্ট্যাটাস প্রসব করা মাত্রই মুহুর্মুহু দিগিদ্বিক সারা পড়িয়া যাইতে লাগিল ।খুদ্রবার্তায় ভরিয়া গেল আমার মুঠোফোন , সবাই শুধাইল আমার কি হইয়াছে।
যাহাই হৌক, ভগ্ন হৃদয়ে রুগ্ন শরীরে অগ্নির ন্যায় চক্ষু বুজিয়া প্রেয়সীর কথাই শুধু চিন্তা করিতেছি, এই ললনা অতিশয় ভদ্র, কিন্তু রাগিলে তাহাকে দমানো কষ্টসাধ্য। আর দেখিতেও বেশ, কিউট না একেবারে কিউটের ডিব্বা। এইরূপ ললনার সান্নিধ্যে আমি আর থাকিতে পারিব না কথাটি হজম হইতেছিল না , আর মন ও মানিতেছিল না। ...চলবে..।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


