
পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে- ক্ষমতার অন্দরমহলে অস্বস্তি বাড়ছে। একের পর এক বক্তব্য, ভিডিওবার্তা, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দেখে মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে- এত অস্থিরতার কারণ কী?
যে সরকার নিজের অবস্থানে আত্মবিশ্বাসী, তাকে বারবার নিজের কাজের সাফাই দিতে হয় না। কিন্তু যখন এক বক্তব্যের পর আরেক বক্তব্য আসে, যখন একটা সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে নতুন নতুন প্রশ্নের জন্ম হয়- তখন মানুষের সন্দেহ কমার বদলে বরং আরও গভীর হয়।
মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইউনুছ মিয়া নিয়েও তাই প্রশ্ন উঠছে। তাঁর কণ্ঠে যে উদ্বেগ, তা কারও কাছে মনে হচ্ছে রাজনৈতিক চাপের প্রতিফলন, কারও কাছে মনে হচ্ছে পরিস্থিতির গভীরতা উপলব্ধির লক্ষণ। কিন্তু একটা বিষয়ে সবাই একমত- দেশের মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক, অনেক বেশি প্রশ্নশীল। কে কী বলছেন, কেন বলছেন, কোন সিদ্ধান্তের পেছনে কোন উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে- সব হিসাব আজ মানুষ নিজের মতো করে মিলিয়ে নিচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে ক্ষমতায় আসার সময় যে প্রতিশ্রুতি ছিল—সংস্কার, নির্বাচন, স্থিতিশীলতা- আজ সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি- এসব বিষয়ে সরকারের ব্যাখ্যা যতই আসুক, জনমনে খচখচানি থেকেই যাচ্ছে।
রাজনীতি কখনো শুধু ক্ষমতার চেয়ার দখলে রাখার খেলা নয়। রাজনীতি শেষ পর্যন্ত গিয়ে দাঁড়ায় জনগণের বিচারের কাঠগড়ায়। আজ যে সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে প্রচার করা হচ্ছে, কাল সেটাই হয়তো জন্ম দেবে সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নের। আর ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম, সবচেয়ে নিরপেক্ষ আদালত হলো জনগণের আদালত- যেখানে কোনো উপদেষ্টা, কোনো ক্ষমতাধর ব্যক্তি লবিং করে রায় পাল্টাতে পারেন না।
অস্থিরতা দিয়ে সত্যকে চিরকাল চাপা রাখা যায় না। বক্তব্যের পর বক্তব্য দিয়ে ইতিহাসকে নিজের সুবিধামতো নতুন করে লেখা যায় না। ভয় দেখিয়ে মানুষের স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না।
আজ শুধু সময়ের অপেক্ষা।
কারণ-
তোমারে বধিবে যে,
গোকুলে বাড়িছে সে।
কে এই মাটিকে অস্থির করেছে, কে রাষ্ট্রকে কোন পথে নিয়ে গেছে, কার সিদ্ধান্তে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে- তার উত্তর শেষ পর্যন্ত জনগণই খুঁজে নেবে। কোনো সরকার, কোনো উপদেষ্টা পরিষদ চিরকাল ক্ষমতায় থাকে না- থাকে শুধু ইতিহাসের রায়, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের পথ করে নেয়।
শুধু একটু অপেক্ষা করতে হবে।
ইতিহাস তার নিজের হিসাব নিজেই করে নেয়, কারো অপেক্ষায় থাকে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



