somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য রচনা: "নিপাতনে সিদ্ধ ভালবাসা ও একটি আষাড়ে গপ্পো..." শেষ পর্ব

২১ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দিবস পার হইয়া যায় সপ্তাহ পার হইয়া যায়, তাহার সনে আর কথা হয় না। বালিকার হৃদয় ও নরম হয় না। এদিকে চক্ষুযুগল কোটরের ভিতরে যাইবার উপক্রম হইয়াছে । নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়া শুধু তাহার সনেই দেখা করিবার আর কথা বলিবার স্বাদ জাগে, যদিও তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হইয়া যায় বারে বারে। :(

ইতোমধ্যে আমার এক বাল্য বন্ধুর আগমন ঘটিল আমার গৃহে। তাহার অবস্থাও আমার মত ছন্নছাড়া আর দেবদাসের ন্যায় হইয়া গিয়াছে। কিবস্প্রকারে তাহার এইরূপ অবস্থা আমার জিজ্ঞাসু পিপাসু ভগ্ন হৃদয় তাহা জানিতে চায় বিধায় তাহাকে প্রশ্ন করিলাম রহস্য খানা কি?
বন্ধু রহস্যের দ্বার উন্মোচিত করিতে লাগিল আর কহিল তাহার বান্ধবী তাহাকে ছাড়িয়া দিয়াছে এবং বান্ধবী নাকি নতুন করিয়া আরেকজনের সঙ্গে প্রনয়ে জড়াইয়া গিয়াছে এবং বন্ধুকে তাহাদের ছবিও ইনবক্স করিয়া পাঠাইয়াছে। এই কষ্টে আর পীড়ায় বন্ধুর বক্ষ নাকি ফাটিয়া চৌচির হইয়া গিয়াছে। বন্ধুর কথা শুনিয়া হাসিব না কাদিব বুঝিতে পারিতেছিলাম না। মানুষ আকাশ হইতে পড়ে, কিন্তু আমি মহাকাশ হইতে পড়িলাম বন্ধুর কথা শুনিয়া। নিকট এক ভ্রাতা আখতারুজ্জামান আজাদের কথা মনে পড়িয়া গেল .. "অসুস্থ প্রেমের অসুস্থ প্রকাশ সুস্থদেরকেও অসুস্থ করিয়া তোলে, প্রেমহীনদেরকে করিয়া তোলে আগ্রাসী।"

যাহাই হোক, বন্ধুকে পাশে বসাইয়া সুন্দর করিয়া কহিলাম বন্ধু, তোমাকে কিছু শক্ত কথা বলিব , যদি মানিতে পারো তাহাতেই তোমার মঙ্গল | তোমার সার্বক্ষনিক যত্নের কারণে যে কন্যা ভাবে তোমার খাইয়া দাইয়া কোনো কর্ম নাই তাহার জন্য কোনরূপ সময় রাখিও না, তোমার ভালবাসা যে ললনার কাছে আদিখ্যেতা মনে হয় ,তৈলমর্দন মনে হয় তাহাকে শুস্ক ই থাকিতে দাও। বন্ধু তমি সস্তা হইয়া যাও নাই, অহংকারীর জন্য এক বালতি সমবেদনা রাখিয়া দাও। যে কন্যা তোমাকে ছাড়িয়া চলিয়া গিয়াছে সে যেসে মানুষের ই ভালবাসা পাইবার যোগ্য, তোমার না। আজ তোমার হৃদয় ভাঙ্গিয়াছে, কিন্তু সবসময় একটা কথা মনে রাখিবে হৃদয় যদি না ই ভাঙ্গে তাহলে জোড়া লাগিবে কিবস্প্রকারে|

বন্ধু পুলকিত হইয়া আমাকে জড়াইয়া ধরিয়া কহিল, দোস্ত তুমি আসলেই আমার গুরু । আজি হইতে আমি শক্ত হইয়া গেলাম বটবৃক্ষের ন্যায় । দেখি আমাকে নত করিতে পারে কোন শ্যালিকায়। :)

বন্ধুকে বুঝাইতে বুঝাইতে আমার মনে হইলো বন্ধুর ঔষধ এ কাজ করুক আর না করুক কথা গুলা আমার মনে ধরিয়া গিয়াছে। তবে কেন আমি এইটা করিতেছিনা। যেইরূপ ভাবা সেইরূপ কাজ :

দিবস যায় রজনী যায় , আমিও আর প্রেয়সীর খোজ নেই না, বেনসন এন্ড হেজেস এর পরিবর্তে এখন কমলার কোয়া খাই, সারাদিন বই পুস্তকে ডুবিয়া থাকি। ইতোমধ্যে নতুন এক ললনার সঙ্গে গল্পগুজবে দিন পার করিয়া দিতেছি|আবার তাহার সঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যাইয়া ছবি তুলিয়া ফেবু তে চেক ইন ও দিতেছি যেন ললনা কোনক্রমে আমাদের এহেন কর্মকান্ড দেখিয়া ফুলিয়া ফাপিয়া যায়। ;)

মাস কাটিয়া গেল এইভাবে। বৃহস্পতিবার , মধ্যান্নভোজ সারিবার পর প্রস্তুতি নিতেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাইবার জন্য। এই সময় দরজার ওপারে মা জননীর গলা শুনিতে পাইলাম, কহিলেন মৃন্ময় বাবা , তোমার অতিথি আসিয়াছে ,তাহার সত্কার কর। আমি দরজা খুলিবা মাত্রই মাথা টা ঘুরিয়া গেল। চেহারা টা কেমন জানি ঝাপসা ঝাপসা, ঠিক বুঝা যাইতেছে না। পোশাক পরিচ্ছদে শালীনতার ছাপ রইয়াছে। আখিতে কাজল, মাথায় গোলাপী রঙের ক্লিপ,পাশ দিয়া চুল গুলো খোলা, ঠিক গালের উপর পড়িয়াছে ,হাতে জামার সাথে ম্যাচিং করিয়া ব্রেসলেট, আমার প্রিয় রং এর জামা, সাথে মখমলের স্যান্ডেল, তাহার উপর সোনালী কালারের ডিজাইন করা। আখির কাজল গুলা ধুইয়া গিয়াছে কান্নার জলে। কিছু বুঝিয়া উঠার আগেই হটাত ঠাস করিয়া একটা আওয়াজ হইলো , গালটা মনে হয় পুড়িয়া যাইতেছে ।
“কুত্তা, হারামি, শয়তান, কাপুরুষ, এই তোমার ভালবাসা? যাকে ভালোবাসো তার সামান্যতম দুষ্টামি হজম করিতে না পারিলে যাও, গিয়া ঝালমুড়ি বেচো আর খাও, আমার সনে প্রেম করিবার দরকার নাই”। বলিয়াই মৌমিতা ঘুরিয়া গেল, মনে হইতেছে চোখের কোনে যে পানি তা জমিয়াছে তা লুকানোর চেষ্টা করিতেছে। খুব শক্ত করিয়া হাত টা ধরিলাম , আমার দিকে মুখের পানে ফিরাইয়া তাহাকে কহিলাম , "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মত বিড়ম্বনা যে দিত্বীয়টি আর নাই" ( সরি রবি দাদু তোমাকে কপি মারিবার জন্য)। ও আমার হাত টা ধরিয়া কহিল চল!! আমি কহিলাম কোথায়? ও কহিল তানহা নামের ওই ললনার সঙ্গে আমার কথা হইয়াছে যাহার সঙ্গে তুমি লুতুপুতু টাইপের ছবি দিয়াছ , সে আমাকে কহিয়াছে এই সব ই তোমার চক্রান্ত আমাকে ফিরিয়া পাইবার জন্যে । আমার সঙ্গে আজ তুমি সারাদিন থাকিবে, সন্ধায় আমরা রেস্টুরেন্ট এ যাইব আর ফেবু তে চেক ইন করিব। যদি ভবিষ্যতে আর কোনো ললনার পানে চোখ তুলিয়া তাকাইয়াছ তো তোমার চক্ষু আমি উঠাইয়া ফেলিব, কহিয়া আমার কাধে মুখ লুকাইয়া ফেলিল । :)

হাসিয়া ফেলিলাম , নাহ.. আজ আর যাওয়া হইতেছেনা না ক্লাসে, কারণ এই চরম পাগলি ললনার সঙ্গে সারাজীবন যে কাটাইতে হবে।

পুনশ্চ: ঘি যদি সোজা আঙ্গুলে না উঠে তাহলে পাইপ (straw) ব্যবহার করা দোষের কিছু নহে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৬ রাত ১২:০০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×