আগ্যন্তকের নাম “উদ্দীপিত”, গত কাল-ই কানাডা থেকে এসেছে। কত শত কাজ ফেলে এসেছে অথচ বাসার কারো দরজা খোলার নাম-ই নেই।
স্বভাবে উদ্দীপিত খুব-ই লাজুক প্রকৃতির, ধৈর্যশীল, কম কথা বলা মানুষ। এই লাজুক স্বভাবের কারনে সে অনেক কিছু থেকে বঞ্চিত আবার কোন কোন খানে পিছিয়ে আছে সবার থেকে বেশি।
উদ্দীপিতের ধৈর্যয়ের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে, আর কত ক্ষণ এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে সে ?? এই দিয়ে ২য় বার এসেছে সে এই বাসায় আজ। সকালে যখন এসেছিল তখন বাসাতে কেউ ছিল না। পাশের বাসার এক ভদ্র লোক হয়তো তাকে দেখেছিল অনেক ক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছে, তাই আগ বাড়িয়ে হয়তো বলে ছিলেন-
“তাঁরা বাসাই নেই। দুপুরের পর ছাড়া পাবেন না বাসার কাওকে”।
উদ্দীপিত এবার নিশ্চিত হয়ে গেল তাহলে এখন ও কেউ বাসায় আছে নি।
ঐ দিকে তটিনী বিরক্ত হয়ে গেল বাসার বেলের শব্দ শুনতে শুনতে। এই মাএ বাসায় ফিরেছে সে। সারা দিন গাধার খাটুনি খেটে, পাবলিক বাসে চেপে। মেজাজ তাতানো লোহার কড়াইয়ের মত তেতে আছে।
ভেবে ছিল বাসায় কেউ নেই সেই সুযোগে একটু সাওয়ার নিবে আরাম করে। সেটা আর হল না মনে হয় “গরিবের কপালে সুখ নাই”।
যেই আজ দরজায় থাকুক না “আজ তাঁর কপালে শনি আছে”।
কোন মতে কাপড়টা বদলে বেরিয়ে এলো তটিনী সাওয়ার ছেড়ে।
উদ্দীপিত নিশ্চিত হয়ে গেল যে বাসায় এখনও কেউ ফেরেনি। যাকে দেখার জন্য এত দূর থেকে ছুটে আসলো তাঁর দেখা আর পেলনা মনে হয়। এই লাজুক স্বভাবের কারনে আজ তাঁর এই দশা। ১১ আগে ও যদি কোন লজ্জা না করে শুধু ওর নাম টা জানতে চাইতো তা হলে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
উদ্দীপিত এক মনে ভাবতে থাকে-
আচ্ছা ও আমাকে দেখে চিনতে পারবে তো !!??
প্রথমেই ও কে কি বলবো ??
কোন আগ-পিছ চিন্তা না করেই চলে আসাটা কি ঠিক হল ??
আমি তো এর বন্ধুর কাছ থেকে ফোন নম্বর টা ও নিতে পারতাম।
এই সব কিছু ভাবতে ভাবতেই সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল উদ্দীপিত।
চলবে .......
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ২:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




