মাঝে মাঝেই হিমুর মতো পথ চলতে ইচ্ছে হয়।
একটা কটকটে হলুদ রঙের পানজাবি থাকলে মন্দ হতো না। ইচ্ছে হলেই বেরিয়ে পড়া যায়। নিদেনপক্ষে একটা হলুদ গেঞ্জি। তাও নেই।
একবার আমার বন্ধুর শখ হলো আমাকে একটা হলুদ গেঞ্জি দেবে।
মার্কেটের অনেকগুলো দোকান ঘুরেও যুতসই একটা হলুদ গেঞ্জি পেলাম না।
যদিও হলুদের প্রতি অনিহা আমার। সাংবাদিকতা করি এবং এর সাথে রঙটির সাজুজ্যতা থাকায়। তারপরও রাজি হলাম তাকে খুশি করতে।
তো ট্রায়াল দিতে গিয়ে প্রথমেই পড়লাম সাইজের সমস্যায়। যেটাই পরি নিজেকে ঠিক যেন নিজের মতো মনে হয় না। একটি পরে তো একেবারে হিমুর মতোই মনে হলো। শেষমেশ না কিনেই ফিরে আসা। তবে সেদিন গেঞ্জিটা নিলে আজ এই চাঁদের আলোয় নিজেকে হিমু হিসেবে মানিয়ে নেয়া যেত।
আজকের চাঁদের আলো কি অন্যরকম দেখাচ্ছে? কেমন যেন কান্নার মতো ঝরে ঝরে পড়ছে জ্যোৎস্না। আজ কত তারিখ। বুধ না বিশুদবার। কিছুই মনে পড়ছে না।
একটা কুকুর কুঁইকুঁই করে পায়ের কাছে এসে শুয়ে পড়লো। অথচ কি অদ্ভূত একটু আগেই সে বিকট শব্দে আরো দুটি কুকুরের উপর হামলে পড়লো। ভয় পেয়ে একবার দৌড়ে পালিয়ে যেতে যেতেও যাইনি।
কুকুর নিয়ে সুনিলের একটা কবিতা আছে। আমি আর বন্ধু সোনা অনেকদিন একসাথে কবিতাটি অনেক আবৃত্তি করেছি। প্রাণের আবেগ নিয়ে।
আমি মানুষের পায়ের কাছে কুকুর হয়ে বসে থাকি – তার ভেতরের কুকুরটা দেখব বলে।
জ্যোৎস্না গলে গলে পড়ছে। কখনো বেশ ভারি হয়েই যেন নেমে আসছে। জ্যোৎস্না কি কখনো ভারি হয়!
এক টুকরো ভারি জ্যোৎস্নায় সৌম্য চেহারা ভেসে উঠলো। কেমন সুনিল সুনিল দেখতে।
চোখদুটো কি ভেজা তার! সৌম্য শরীর বেয়ে ঠাণ্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
শহরের ফিলিং স্টেশনটি মনে হয় অনেক্ষণ ফাঁকা। কোন গাড়ি এসে দাড়ায়নি। তিব্র আলোয় দেখি সারা শরীর ভিজে গেছে। এরই মাঝে কখন এক পসলা বৃষ্টি নেমে গেছে জানিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



