
আলহামদু লিল্লাহ ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ
পুলিশ চো** র টাইম নাই
কোন এক ছুটির দিনে পড়ন্ত বিকেলে আপনি আর আপনার ছেলে বাড়িতে বসে ইউটিউবে ভিডিও দেখছেন। হঠাৎ আপনার ছেলেটি এরকম একটি সংলাপ শুনতে পেল। তার সহজাত কৌতুহলী প্রবণতা থেকে সে জিজ্ঞাসা করলো বাবা, চো** মানে কি? তার উত্তরে আপনি কি বলবেন?
আমার এক ছোট্ট ভাই একদিন আমাকে জিজ্ঞাসা করল, ভাইয়া বেশ্যা মানে কি? তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি একথা শুনলে কার কাছ থেকে? সে জবাব দিল পাশের বাড়ির মনির আমাকে এ বলে গালি দিয়েছে। তখন পুনরায় আবার সে জিজ্ঞাসা করল বেশ্যা মানে কি? আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম । কি বলব বুঝতে পারছিলাম না। অনেকক্ষণ পর জবাব দিলাম এটা একটা গালি ভাইয়া। আমার কাছে এর বেশি কিছু বলার ভাষা ছিল না।
এরকম খান**র পোলা, তোর **কে আমি চু**। বা**,ধো**, শা**য়া, এরকম আরো অশ্রাব্য, জঘন্য ভাষাগুলো প্রতিনিয়ত যাওয়ার পথে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে অহরহ শুনতে পাই।
আগে এক সময় কুকুরের বাচ্চা (কুত্তার বাচ্চা), শুয়োরের বাচ্চা এসবের মধ্যেই গালি সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানের অবস্থা খুবই শোচনীয়। প্রথমদিকে মাঝে মাঝে যখন অটো স্ট্যান্ড বা বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়াতাম তখন এসব অশ্রাব্য শব্দ কানে ভেসে উঠতো। লজ্জা ও ঘৃণায় ওখানে বেশীক্ষন দাঁড়াতে পারতাম না। কিন্তু এখন সচরাচর রাস্তাঘাটে, অফিসে,স্কুলে সব জায়গাতেই এসব অশ্রাব্য শব্দের প্রতিধ্বনি ভেসে আসে। গোটা সমাজটাই যেন এ ভাষা ব্যবহার করতে শুরু করেছে। আজকাল এসব অশ্রাব্য শব্দগুলো ব্যবহার করেই মানুষ কথার গুরুত্ব বুঝায়। বর্তমানকালে বিভিন্ন ইউ টিউব চ্যানেলে তাদের ভিডিওগুলো যেন জমেই না এসব অশ্রাব্য ও অশ্লীল শব্দ ব্যবহার না করলে।
যার ফলশ্রুতিতে সমাজে ঘটেছে বিশাল পরিবর্তন। আজ নতুন প্রজন্ম এসব শব্দ কে যেন আপন করে নিয়েছে। তাদের বন্ধুবান্ধব দের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা গুলা এতটাই অশ্লীল অশ্রাব্য হয়ে পড়েছে যে সামাজিক বিকারগ্রস্থ তার আর কিছু বাকি থাকে না। আজকাল ক্লাস নাইন টেন পড়ুয়া ছেলেদের মেসেঞ্জার গুলো অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষায় ভর্তি। কিছু ফেসবুক গ্রুপের কিছু কিছু পোস্ট এ কমেন্টগুলো যেন নোংরামির পাল্লা দিচ্ছে।
আরো একটা ঘটনা উল্লেখ করছি, এক রিক্সার সারাই মিস্ত্রির দোকানের সামনে দিয়ে আমি চাচ্ছিলাম। সারাই মিস্ত্রি একজন রিকশাওয়ালা কে উপরে উল্লেখিত কিছু অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল। কিছুটা শান্ত হওয়ার পর যখন আমি তাকে বললাম ভাই এগুলো কি বললেন, এসব এগুলো ব্যবহার না করেও তো একজনকে রাগ দেখানো যায়। আপনার প্রত্যেকটি কথার জন্য এক দিন আল্লাহর দরবারে জবাব দিতে না এবং এ জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। সে আমাকে আশ্চর্য করে দিয়ে উত্তর দিল, ভাই এইগুলোই আমাগো ভাষা। এগুলা তো দোষের কিছুই না। তার কথার উত্তরে আমি আর কিছুই বলতে পারিনি। এরকম অশ্লীল অশ্রাব্য ভাষা গুলো আমাদের সমাজে আজ স্বাভাবিকতার জায়গা দখল করেছে।
কিছুদিন আগে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে ছোট্ট ছোট্ট কিশোর-কিশোরীদের বিপ্লবী ও প্রতিবাদী রূপ যেরকম প্রকাশিত হয়েছে, তেমনি আরো একটা বিকট ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ পেয়েছে। অশ্রাব্য ও অশ্লীল ভাষা গুলো যেন পেল তার সামাজিক স্বীকৃতি।
আমাদের দেশটা, আমাদের সমাজটা আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর করতে চাই। সেই সমাজে, সেই দেশে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা এসব অশ্লীল ও অশ্রাব্য ভাষা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। তারা পরিপূর্ণ বিকাশের সুযোগ পাবে। অশ্লীলতার ছোঁয়া থেকে মুক্তি পাবে। এটাই হোক আমাদের স্বপ্ন। আর তার জন্য প্রয়োজন নতুন একটা আন্দোলন। সে আন্দোলন নিচ থেকেই শুরু করতে হবে। অশ্লীল ভাষা অশ্রাব্য ভাষা নিজে পরিহার করতে হবে অন্যকে পরিহার করার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। তাহলেই আমাদের নতুন প্রজন্ম পাবে একটা সুন্দর পরিবেশ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



