
মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?
শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন সময়ে হলো। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলাদা বৈঠক না হওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে। তবে এটিকে সরাসরি মার্কিন অসন্তোষের প্রমাণ বলা ঠিক হবে না। কারণ তারেক রহমান ট্রাম্পের আয়োজিত রাষ্ট্রপ্রধানদের নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচিতেও যুক্ত ছিলেন।
কিন্তু আলোচনার আসল জায়গা অন্যত্র। নিউইয়র্কে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা, জ্বালানি সংকট এবং হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলের মতো জাতীয় স্বার্থের বিষয় উঠে এসেছে। অর্থাৎ বৈঠকটি নিছক রাজনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল- এমনটা বলা যায় না।
তবে এখান থেকে সরাসরি ‘আমেরিকা বিএনপি সরকারকে ফেলে দেবে’- এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না। তবে আসল খেলা সম্ভবত অন্য জায়গায়।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত প্রশ্ন এখন শেখ হাসিনা। ঢাকা তাঁর প্রত্যর্পণ চাইছে; ভারত বলছে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন। একই সময়ে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও আলোচনা চলছে।
এখানেই শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ধরুন, আগামী কয়েক মাসে ঢাকা- দিল্লি সম্পর্কের পুনর্বিন্যাস হয়। ধরুন, ভারতের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের স্বার্থটি শেখ হাসিনাকে ঘিরে বর্তমান অবস্থানের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অথবা এমন কোনো সমঝোতার প্রয়োজন দেখা দেয়, যেখানে শেখ হাসিনার অবস্থান একটি বড় দর-কষাকষির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
তাহলে আজকের অচলাবস্থাই আগামীকাল নতুন সমীকরণের দরজা খুলে দিতে পারে। আর একটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না- শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রাখেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা তাঁর নিজের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্য।
তবে প্রশ্ন হলো- ফিরবেন কীভাবে?
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায়?
রাজনৈতিক সমঝোতায়?
নাকি এমন কোনো পরিবর্তিত আঞ্চলিক সমীকরণে, যেখানে আজকের অসম্ভব আগামীকাল সম্ভব হয়ে উঠবে?
এই উত্তর এখনো কারও হাতে নেই।
কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস আমাদের একটি বিষয় শিখিয়েছে- রাজনৈতিক সমীকরণ কখনো স্থির থাকে না। আজ যে ব্যক্তি বিদেশে, কাল তিনি দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে আসতে পারেন। আবার আজ যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে, কাল তিনিই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারেন। তাই শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে এখনই নিশ্চিত বলা যেমন অতিরঞ্জন, তেমনি সম্ভাবনাটিকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও বাস্তবসম্মত নয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু শেখ হাসিনাকে নিয়ে নয়।
প্রশ্ন হলো-
ঢাকা, দিল্লি ও ওয়াশিংটনের স্বার্থের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।
আর সেই সমীকরণ বদলালে বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক পুরোনো হিসাবই নতুন করে লিখতে হতে পারে।
সম্ভবত বাংলাদেশের পরবর্তী বড় রাজনৈতিক অধ্যায়ের কিছু অংশ ঢাকার রাজপথে নয়- লেখা হচ্ছে কূটনীতির টেবিলে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




